কলকাতা: ১৫ বছর রাজ্যের ক্ষমতার শাসনভার ছিল তাঁর হাতে। বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়বিরোধী আসনে।বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর, এবার দল গোছাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। কামারহাটি বিধানসভা আসনে ঘাসফুল ফুটিয়ে দলের প্রতি নিজের আনুগত্য এবং জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিয়েছিলেন আগেই। এবার ভালো পারফরম্যান্সেরই পুরষ্কার পেলেন মদন মিত্র (Madan Mitra)। অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের (AITC) পক্ষ থেকে দমদম লোকসভা সাংগঠনিক (President DumDum Organisational Madan Mitra) জেলার নতুন সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করা হল তাঁর নাম।রাজনৈতিক মহলের মতে, আগামিদিনে লোকসভা নির্বাচনের আগে ফের একবার ধিরে ধিরে দলকে গুছিয়ে নিচ্ছেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূলের অন্দরে মদন মিত্রের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে গত পাঁচ বছরে বিস্তর জল্পনা ও চর্চা হয়েছে। একসময়ের দাপুটে পরিবহণ ও ক্রীড়ামন্ত্রী মদন মিত্রকে পরবর্তীতে আর কোনও মন্ত্রিত্ব দেওয়া হয়নি। এমনকি দলের সাংগঠনিক ক্ষেত্রেও তাঁর গুরুত্ব অনেকটাই হ্রাস পেয়েছিল। তা সত্ত্বেও দলের প্রতি আনুগত্যে কোনও ঘাটতি দেখাননি তিনি । বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পরও সমাজমাধ্যমে বারবার পুরনো দিনের ছবি পোস্ট করে দলনেত্রীর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ লড়াইয়ের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। বুঝিয়ে দিয়েছেন, শত প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই আছেন।
আরও পুড়ুন: স্বাস্থ্যক্ষেত্রে উন্নয়ন, বিজেপি সরকারকে ‘অভিনন্দন’ তৃণমূলের শান্তনুর
রবিবার, ২৪শে মে ২০২৬-এ তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নতুন নিয়োগের কথা জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলের চেয়ারপার্সন তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণা ও নির্দেশেই মদন মিত্রকে এই গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। কামারহাটির বিধায়ককে দমদম লোকসভা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি পদের দায়িত্ব দেওয়া হল।অন্যদিকে, রদবদল হয়েছে যুব সংগঠনেও। অন্য একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তৃণমূল যুব কংগ্রেসের দক্ষিণ কলকাতার সভাপতি করা হয়েছে শ্রীদীপ দাসকে।এই পদে আগে ছিলেন সার্থক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোতে এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ।
