ওয়েব ডেস্ক: কান্দি পুরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের জেমো বিশ্বাসপাড়াতে শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের (Shantanu Sinha Biswas) বাড়ি ঘিরে এখন জল্পনা তুঙ্গে। কালীঘাটের প্রাক্তন ওসি তথা কলকাতা পুলিশের ডিসি পদে থাকা শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের ছোট পৈতৃক ভিটে যেভাবে সবার চোখের সামনে ফুলে-ফেঁপে উঠেছে, তা দেখলে প্রাসাদ বলে ভুল হবে। ২.৫ কোটি টাকা খরচ করে তার নতুন বাড়ি নির্মাণ করেছেন একথা জানার পর চক্ষু চড়ক গাছ মানুষের। তার বোন গৌরী সিনহা বিশ্বাস কান্দি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান। ২.৫ কোটি কুলি এক ঠিকদার ব্যাঙ্কের মাধ্যমে দিয়েছেন বলেই তদন্ত দাবি করেছে ইডি।
একসময় সাধারণ একটি বাড়ি ছিল শান্তনুদের। সেখানেই বড় হওয়া। কিন্তু বছর দুয়েক আগে বাড়ির ঠাটবাট পাল্টে যায়। মহলের পর মহল তৈরি হয়। শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বাড়ির কান্দি থানার জেমু এলাকায়। গত ২ বছর ধরে চোখের সামনে বাড়িটি তৈরি হতে দেখেছেন এলাকার বাসিন্দারা। মাঝে মধ্যে ওই বাড়িতে গিয়ে থাকতেন শান্তনু। তবে ওই বাড়িতে বসবাস করেন তাঁর বোন তথা কান্দি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান গৌরী সিনহা বিশ্বাস। তাই এলাকার মানুষ ভাইস চেয়ারম্যানের বাড়িও বলে থাকেন। ধবধবে সাদা বাড়ির সামনে সিংহ মূর্তি, পেল্লায় দরজা। এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, কোটি কোটি টাকা খরচ করে এই বিলাসবহুল বাড়ি বানিয়েছেন শান্তনু। জানা যায়, একজন ওসি-র বেতন আনুমানিক ৭০ হাজার টাকা হয়। এ ক্ষেত্রে শান্তনু ডিসি ছিলেন, তাঁর বেতন আনুমানিক ১ লক্ষ টাকার কিছু বেশি। তবে এই টাকায় এমন সাত মহলা বাড়িট তৈরি করা কি সম্ভব? সেই প্রশ্ন উঠেছে।
আরও পড়ুন: মহিলাদের জন্য ফ্রিতে বাস পরিষেবা, কিভাবে কার্যকরী হবে? দেখুন
জারি হয়েছিল লুক আউট নোটিশ। গ্রেফতার কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস (Shantanu Sinha Biswas)। কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসি শান্তনুর বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা দিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বলছে, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে জমি দখল থেকে তোলাবাজির মতো অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, অনেক পুলিশের বদলির বিষয়ও নাকি ‘কন্ট্রোল’ করতেন এই শান্তনু।এ-ও বলা হয়, জয়, শান্তনু এবং সোনা পাপ্পুর ‘নেক্সাস’ স্পষ্ট। এখানেই সন্দেহ আরও প্রকট হল তাঁর প্রাসাদ দেখে। কত টাকা মাইনেয় এত বড় বাড়ি বানালেন শান্তনু সেই নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের বুকে বয়স্ক নাগরিকদের বাড়ি, পুরনো বাড়ির মালিকদের পুলিশ মারফত চিহ্নিত করত সিন্ডিকেট। কম দামে সম্পত্তি বিক্রিতে রাজি না হলে শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের নির্দেশে নিকটবর্তী থানায় দায়ের হত মিথ্যা মামলা। তারপর চলত হুমকি।
