ওয়েব ডেস্ক: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল প্রশাসন। একযোগে প্রায় ১,১০০ জনের নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। যাঁদের মধ্যে রয়েছেন একাধিক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনিক আধিকারিক। দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা জেড (Z Category Security), ওয়াই প্লাস (Y+ Category Security) বা অন্যান্য ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পেতেন, তাঁদের অনেককেই এবার সম্পূর্ণভাবে নিরাপত্তাহীন করে দেওয়া হয়েছে।
সূত্রের খবর, তৃণমূল কংগ্রেস নেতা শওকত মোল্লা এতদিন জেড ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পেতেন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তাঁর সমস্ত নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়েছে। একইভাবে তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীরের ওয়াই প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তাও বাতিল করা হয়েছে। ডায়মন্ড হারবার ব্লকের যুব সভাপতি গৌতম অধিকারীর নিরাপত্তাও প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন: হকার উচ্ছেদ, রাতেই চলবে বুলডোজার! সরগরম স্টেশনের ছবিটা আজ কেমন? দেখুন বড় খবর
প্রশাসনিক মহলের দাবি, যাঁদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ফেলে নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে প্রায় ১৭৫ জনের নিরাপত্তা সরাসরি বাতিল করা হয়েছে। এই তালিকায় বিভিন্ন সরকারি দফতরের একাধিক সচিবও রয়েছেন। তবে রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজি, কলকাতা পুলিশের কমিশনার এবং মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টার মতো গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীদের নিরাপত্তা বহাল থাকছে। অন্যদিকে, জেলার স্তরেও বড়সড় কাটছাঁট করা হয়েছে। বিভিন্ন জেলার এসপি এবং পুলিশ কমিশনারেটের তরফে যাঁদের ‘নন-ক্যাটাগরাইজড’ নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল, সেই তালিকা থেকেও ৯০০-র বেশি ব্যক্তির নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়েছে বলে খবর।
প্রশাসনের একাংশের মতে, নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও বাস্তবসম্মত ও প্রয়োজনভিত্তিক করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে পুলিশি শক্তি ব্যবহার করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। যদিও প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
দেখুন আরও খবর:
