অন্ধকারের সঙ্গে লড়াই করেই মাধ্যমিকে স্কুলসেরা সীতারাম

Must Read

সিউড়ি : কুঁড়েঘরের ভেতর সাপ-ব্যাঙের সঙ্গে বসবাস। নেই বিদ্যুৎ। মা দৃষ্টিহীন, বোন মানসিক ভারসাম্যহীন। বাবার সামান্য ভ্যান চালানোর রোজগারেই কোনওরকমে চলে সংসার। সেই চরম প্রতিকূলতার মধ্যেই মাধ্যমিকে স্কুলের সেরা হয়ে নজির গড়ল সিউড়ির কুলেরার ছাত্র (Student) সীতারাম কোঁড়া।

জন্ম থেকেই দু’চোখে দেখতে পায় না সীতারাম। তবুও পড়াশোনার প্রতি অদম্য জেদ আর লড়াইয়ের মানসিকতা তাকে পৌঁছে দিয়েছে সাফল্যের শিখরে। এবারের মাধ্যমিকে সে পেয়েছে মোট ৬০৭ নম্বর। ভৌত বিজ্ঞানে পেয়েছে পূর্ণ ১০০, ইংরেজিতে ৯৭ এবং গণিতে ৯৬। এছাড়া ভূগোলে ৮৬, বাংলায় ৮১, জীবনবিজ্ঞানে ৭৪ ও ইতিহাসে ৭৩ নম্বর পেয়েছে সে। স্বাভাবিকভাবেই সিউড়ির শ্রী অরবিন্দ ইনস্টিটিউশন ফর সাইটলেসের (Sri Aurobindo Institution for Sightless) এর মধ্যে প্রথম হয়েছে সীতারাম।

সিউড়ি (Suri) থানার কুলেরা ক্যানেলের পাড়ে ইরিগেশন দফতরের জমিতে ছোট্ট একটি চালাঘরে বাস সীতারামদের। বাড়িতে বিদ্যুতের সংযোগও নেই। বাবা গোপাল কোঁড়া আগে ভাড়ার রিকশা চালাতেন। কিন্তু টোটোর দাপটে সেই আয়ে সংসার চলছিল না। একসময় স্কুলের প্রধান শিক্ষক সন্দীপ দাস তাঁদের অসহায় অবস্থা দেখে উদ্যোগী হন। স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সহায়তায় একটি ভ্যান কিনে দেন গোপালবাবুকে। বর্তমানে সেই ভ্যান চালিয়েই কোনওরকমে সংসার টিকে রয়েছে।

আরও খবর : আজ কোন কোন জায়গায় বৃষ্টির পূর্বাভাস, জেনে নিন

এই সাফল্যে খুশির হাওয়া পরিবার ও স্কুলজুড়ে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সন্দীপ দাস জানান, রাজ্যের প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথম দশে সীতারামের নাম থাকবে বলেই তাঁদের বিশ্বাস। শুধু সীতারাম নয়, এই স্কুল থেকেই দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে সুপল হেমরম। পিতৃহীন সুপলের বোনও দৃষ্টিহীন। দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালান তাঁর মা। মাধ্যমিকে সুপল পেয়েছে ৫৪২ নম্বর।

এদিকে বড় হয়ে স্টেশন মাস্টার হতে চায় সীতারাম। স্কুলের শিক্ষকরা চান তাঁকে কলকাতায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দিতে। তবে পরিবারের আর্থিক অবস্থা এবং বাবা-মায়ের অসুবিধার কথা ভেবে বাইরে গিয়ে পড়তে অনীহা রয়েছে তার। সীতারামের মা রেখা কোঁড়া ও বাবা গোপাল কোঁড়া বলেন, “ছেলে যদি আরও পড়তে চায়, আমরা বাধা দেব না। শুধু সরকারের কাছে আবেদন, ও যেন একটা চাকরি পায়। আর মাথা গোঁজার মতো একটা সরকারি বাড়ি পেলে খুব উপকার হয়।” প্রধান শিক্ষক সন্দীপ দাসের কথায়, “এই স্কুলের প্রতিটি ছাত্রের পাশে আমরা আছি। প্রয়োজনে ব্যক্তিগত উদ্যোগেও ওদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করব। সীতারাম ও সুপলের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল।”

দেখুন অন্য খবর :

Latest News

মৃত্যুর আগে ছেলেকে একবার দেখতে চেয়েছিলেন মা, হল না দেখা! মৃত্যুর পর ৫ ঘণ্টার প্যারোলে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস

কলকাতা: ছেলেকে শেষবার চোখের দেখা দেখার ইচ্ছা ছিল মায়ের। কিন্তু সেই ইচ্ছা পূরণ হল না। দীর্ঘদিন ধরে জেলে বন্দি বাংলাদেশের...

More Articles Like This