ওয়েবডেস্ক- বুধবার রাতে নিজের ফ্ল্যাটে সামনেই দুষ্কৃতীর গুলিতে খুন হন শুভেন্দু অধিকারীর (Shuvendu Adhikari) আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ (Chandranath Rath) । খুব কাছ থেকেই গুলি। মাটিতে ফেলে পর পর গুলি করে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতী। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় চন্দ্রনাথের। ছেলেকে হারিয়ে শোকে পাথর মা হাসিরানী রথ (Hasirani Rarth) । দোষীর ফাঁসি না যাবজ্জীবন শাস্তির দাবি জানালেন তিনি।
জয়ের পর গতকাল নন্দীগ্রামে প্রথম কর্মসূচি ছিল শুভেন্দু অধিকারীর। সেই কর্মসূচিতে তার সঙ্গেই ছিলেন চন্দ্রনাথ। শুভেন্দু অধিকারী কলকাতায় ফিরে যাওয়ার পর চন্দ্রনাথ ও কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। রাস্তায় চণ্ডীপুরে বিজেপি কার্যকর্তারা তাঁকে সংবর্ধনা ও জ্ঞাপন করে। বাড়িতে গতকাল আসেননি চন্দ্রনাথ, তবে তার মায়ের সঙ্গে কালকেই শেষবার দেখা করেন।
চন্দ্রনাথের মা নয়া সরকারের কাছে দোষীর শাস্তির দাবি করে বলেন, আমার ছেলে ভবানীপুর, চণ্ডীপুর, নন্দীগ্রাম অনেকগুলো বিধানসভার দায়িত্বে ছিল। শাসকদল হুমকি দিত ৪ তারিখের পর দিল্লির বাবাও বাঁচাতে পারবে না। আমার ছেলে আড়ালে কাজ করত, কোনও রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিল না। মিষ্টিভাসি ছিল। ব্যক্তিগত শত্রুতা নয় রাজনৈতিক হিংসার বলি হয়েছে। ফাঁসি নয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড চাই।
আরও পড়ুন- মধ্যমগ্রামে শুভেন্দুর সহকারীকে লক্ষ্য করে গুলি! ঘটনাস্থলেই মৃত্যু, তুলকালাম কাণ্ড
বিগত আট বছরের সম্পর্ক শুভেন্দুর সঙ্গে। প্রাক্তন বায়ুসেনা কর্মী ছিলেন চন্দ্রনাথ রথ। পূর্ব মেদিনীপুরের কুলুপ এলাকার বাসিন্দা এই চন্দ্র। শুভেন্দু যখন তৃণমূলে ছিলেন তখন থেকেই তাঁর সঙ্গে ব্যাক্তিগত পরিচয় থেকে বিশেষ আস্থাভাজন হয়ে উঠেছিলেন হন চন্দ্রকান্ত। বিশেষ করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডগুলো তদারকি করাই ছিল চন্দ্রের কাজ। ছাব্বিশের নির্বাচন প্রক্রিয়ার চলাকালীন এই চন্দ্র নন্দীগ্রামে এসেছিলেন। পাশাপাশি কলকাতার শুভেন্দু অধিকারীর সব রকম কাজ করতেন তিনি।
বুধবার রাতে দুষ্কৃতীরা খুব কাছ থেকে চন্দ্রকান্ত রথের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। আর তাতেই একটি গুলি মাথায় ও ওপর গুলি বুকে লাগে বলেই জানা যাচ্ছে। এছাড়াও গাড়ির চালক ও গুলিবিদ্ধ হন। যদিও এত কাছ থেকে গুলি করার ফলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে চন্দ্রকান্ত রথের। চণ্ডীপুরে বাড়িতে পরিবারে মা রয়েছেন বর্তমান। তার মা হাসিরানী রথের দাবি, তার ছেলেকে যারা খুন করেছে তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড চাই, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই ছেলেকে খুন করা হয়েছে।
