ওয়েবডেস্ক- রাজ্য রাজনীতিতে বিরাট পালা বদল। ১৫ বছরের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারে অবসান ঘটিয়ে বাংলায় পদ্মফুল ফুটেছে। আগামী ৯ মে, শনিবার নতুন সরকারে মুখ্যমন্ত্রীর শপথ। সেজে উঠছে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড। অতীতের দিকে এই ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড-এর একটি রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। একটা এই গ্রাউন্ড থেকে তদানিন্তন বাম সরকার থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে একাধিক প্রতিবাদে সরব হতে দেখা গেছে।
ফলে সেই ব্রিগেড গ্রাউন্ডকে বেছে নিয়েছে বিজেপি। আর এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আগে খুন হলেন শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক (Shuvendu Adhikari’s personal assistant) চন্দ্রনাথ রথ (Chandranath Rath) । গুলিতে ঝাঁকরা করে দেওয়া হয়েছে তাঁর শরীর। বুধবার রাতে চারচাকা গাড়ি করে ফ্ল্যাটে ফেরার পথে দুষ্কৃতীরা তার গাড়ির সামনে একটি একটি গাড়ি দাঁড় করিয়ে দেয়। বাইকের করে আসা দুই দুষ্কৃতী খুব কাছ থেকে পর পর গুলি চালায়। রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তাতেই লুটিয়ে পড়েন চন্দ্রনাথ। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে মধ্যমগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে জানান। হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়েছে তাঁর গাড়ির চালক বুদ্ধদেব বেড়া। তাঁর বুকের বাঁদিকের পাঁজরে গুলি লেগেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, সেখানেই চিকিৎসাধীন।
আরও পড়ুন- চন্দ্রনাথ রথ খুনে কড়া নিন্দা জানাল তৃণমূল, এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে প্রতিক্রিয়া
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ৪০ বছর বয়সি চন্দ্রনাথ রথ পূর্ব মেদিনীপুরের (East Midnapore) বাসিন্দা। বাড়ি চণ্ডীপুর এলাকায়। রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র ছিলেন। প্রথমে বায়ুসেনাতে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই চাকরি তিনি বেশিদিন করেননি। ছোট থেকেই আধ্যাত্মিক পথে এগানোর ইচ্ছা ছিল। কিন্তু সেই ইচ্ছা সফল হয়নি। বায়ুসেনার চাকরি থেকে স্বেচ্ছাঅবসর নিয়ে একটি কর্পোরেট সংস্থায় যোগ দেন। চন্দ্রনাথের পরিবারের সঙ্গেও দীর্ঘদিনের রাজনীতির যোগ রয়েছে। পরিবারের সবাই একটা সময় তৃণমূল করতেন।
এখন চন্দ্রনাথের মা হাসি রথ বিজেপিতে রয়েছেন। শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাজ করছিলেন চন্দ্রনাথ। ২০১৯ সালে যখন চন্দ্রনাথ জলসম্পদ দফতরের মন্ত্রী হন সেই সময় চন্দ্রনাথ তাঁর আপ্তসহায় ছিলেন। সেই সময় থেকে একেবারে ছায়াসঙ্গী হিসাবে কাজ করে যাচ্ছিলেন চন্দ্রনাথ। বিরোধী দলনেতা হিসাবে যখন শুভেন্দু দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন, সেই সময় তাঁর দফতরের সমস্ত কাজ চন্দ্রনাথ দায়িত্ব নিয়ে সামলেছিলেন।
এমনকী শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হলে বড় দায়িত্ব পেতে পারতেন চন্দ্রনাথ। বিজেপির তরফ থেকে এই খুনকে রাজনৈতিক চক্রান্ত বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্যের (BJP leader Shamik Bhattacharya) অভিযোগ, শুভেন্দু অধিকারীকে ভয় দেখাতেই তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে নিশানা করা হল। বিজেপির দাবি, এই ঘটনার পিছনে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব মদতে পেশাদার খুনি রয়েছে। তৃণমূলের তরফে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তৃণমূলের তরফে এক্স হ্যান্ডেলে চন্দ্রনাথ রথের নৃশংস খুনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। ওই একই বার্তায় নির্বাচন পরবর্তী রাজ্যে তিন তৃণমূল কর্মী খুনের ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তৃণমূল।
ওই বার্তায় অভিযোগ, আদর্শ আচরণবিধি জারি থাকা সত্ত্বেও গত তিনদিন বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাতে খুন হয়েছেন তৃণমূলকর্মীরা। এই বিষয়ে আমরা কঠোরতম পদক্ষেপের দাবি করছি। আদালতের নজরদারিতে সিবিআই তদন্তের দাবি করছি, যাতে যারা এই ঘটনায় জড়িত তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা যায়। গণতন্ত্রে হিংসা ও রাজনৈতিক হত্যা কোনও স্থান নেই’।
এই ঘটনার পর থেকে মধ্যগ্রামজুড়ে কড়া নিরাপত্তা। এলাকায় ব্যাপক পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বারাসত জেলা পুলিশ সুপার পুষ্পা বলেন, আমরা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখছি। তদন্তের স্বার্থে এখনই কিছু বলা সম্ভব না। আমাদের কাজ করতে দিন। ট্রাফিক স্বাভাবিক রাখতে সহযোগিতা করুন’।
