ওয়েব ডেস্ক: ঋণের বোঝায় জর্জরিত পাকিস্তান এবার আয়ের নতুন রাস্তা খুঁজতে গিয়ে বিতর্কের মুখে। ইসলামি বিধান অনুযায়ী দেশে মদ নিষিদ্ধ থাকলেও, সেই ‘হারাম’ পণ্যের রপ্তানিতেই জোর দিচ্ছে শাহবাজ শরিফের সরকার। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তানের একমাত্র মদ প্রস্তুতকারী সংস্থা ‘মুরে ব্রুয়ারি’ ইতিমধ্যেই ব্রিটেন, জাপান, পর্তুগাল ও থাইল্যান্ডের মতো দেশে বিয়ার-সহ বিভিন্ন মদ রপ্তানি শুরু করেছে।
সংস্থার ম্যানেজার রমিজ শাহ জানিয়েছেন, প্রথমে আন্তর্জাতিক বাজারে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে, ভবিষ্যতে উৎপাদন আরও বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। কিন্তু কেন এই সিদ্ধান্ত? অর্থনীতিবিদদের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে ভয়াবহ ঋণ সংকট। ২০২৬ অর্থবর্ষে পাকিস্তানের মোট আয় যেখানে প্রায় ৫৮ বিলিয়ন ডলার, সেখানে ব্যয় পৌঁছেছে ১৩৮ বিলিয়ন ডলারে। এর মধ্যে বিপুল অঙ্কই ঋণ শোধে খরচ হচ্ছে, শুধু ঋণ বাবদই প্রায় ৯২ বিলিয়ন ডলার গুনতে হচ্ছে সরকারকে।
আরও পড়ুন: চীনের হুনানে বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, কমপক্ষে ২১ জনের মৃত্যু
ঐতিহাসিকভাবে, ১৯৭৭ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলি ভুট্টো দেশে মদ বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। পরে জিয়াউল হকের আমলে সেই আইন আরও কঠোর হয়। যদিও পারভেজ মুশারফের সময়ে কিছুটা শিথিলতা আনা হয়েছিল, বিশেষ করে অমুসলিমদের জন্য নির্দিষ্ট লাইসেন্সপ্রাপ্ত দোকানে মদ কেনার অনুমতি দেওয়া হয়।
২০২৫ সালে প্রথমবার বিদেশে মদ রপ্তানির অনুমতি দেয় পাকিস্তান সরকার, মূলত ওআইসি-ভুক্ত নয় এমন দেশগুলিতে। এবার অর্থনৈতিক চাপে সেই রপ্তানি আরও বাড়ানোর পথে হাঁটছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র পাকিস্তান, যা ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।
