নয়াদিল্লি: গর্ভপাতের বিরোধিতা করে ‘সুপ্রিম’ তোপের মুখে কেন্দ্রীয় সরকার। ধর্ষণের শিকার ১৫ বছরের এক কিশোরীকে গত সপ্তাহে গর্ভপাতের অনুমতি দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। শীর্ষ আদালতের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। যুক্তি দিয়েছে, গর্ভাবস্থার ৩১ সপ্তাহ কেটে যাওয়ার পরে গর্ভপাত করানো ঠিক হবে না।এই যুক্তিকে খারিজ করে দিয়ে বৃহস্পতিবার ওই মামলায় কেন্দ্রকে ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট। ধর্ষণের ফলে তৈরি হওয়া ‘অবাঞ্ছিত মাতৃত্ব’ কারও উপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া যায় না। গর্ভপাতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত (Rape survivor pregnancy termination) নেবে খোদ নির্যাতিতা এবং তার অভিভাবকরাই।
১৫ বছরের ওই নাবালিকার গর্ভাবস্থায় ৩১ সপ্তাহ কেটে গিয়েছিল। তারপর গর্ভপাত করাতে চেয়ে আবেদন করে ওই নাবালিকা। আদালত অনুমতি দিলেও তার বিরোধিতা করে কেন্দ্র।১৫ বছর বয়সি নির্যাতিতার ক্ষেত্রেও কেন্দ্র যেভাবে প্যাঁচালো যুক্তি সাজিয়েছে, তাতেই ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, “যদি ধর্ষণের কারণে কেউ অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন তাহলে কোনও সময়সীমা থাকাই উচিত নয়।” প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, একজন নাগরিকের ব্যক্তিগত পছন্দ এবং সিদ্ধান্তের উপরে সরকারের হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। এ ক্ষেত্রে সরকারের পছন্দ-অপছন্দের চেয়ে ওই কিশোরী এবং তার পরিবারের ইচ্ছাকেই সম্মান জানানো উচিত। প্রধান বিচারপতি বলেন, “ধর্ষণের ফলে ওই নাবালিকা মানসিকভাবে যতখানি বিপর্যস্ত হয়েছে, সেটা কোনওভাবেই মেটানো সম্ভব নয়। কিন্তু তাকে অন্তত সম্মানটুকু দিন ম্যাডাম।১৫ বছর বয়সী কিশোরীর গর্ভপাতের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, যদি মায়ের স্থায়ী কোনও শারীরিক অক্ষমতা না হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে প্রক্রিয়াতে কোনও বাধা থাকবে না।
আরও পড়ুন: মোথাবাড়ি মামলায় অভিযুক্তদের জামিন খারিজ আদালতের
অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য ভাটিকে তুলোধোনা করে প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, “গর্ভপাতের অনুমতি চ্যালেঞ্জ করে আপনাদের তো কোনও লাভ নেই। কেবল নির্যাতিতা বা তার পরিবার এই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে।AIIMS-এর পাল্টা যুক্তি, এটি মা বনাম ভ্রুণ নয়, বরং একটি শিশুর সঙ্গে অপর একটি শিশুর। সুপ্রিম কোর্ট এই মর্মে AIIMS-কে নির্দেশ দিয়েছে, যদি চিকিৎসকদের পরামর্শের বিরুদ্ধে গিয়ে কিশোরী গর্ভপাত করাতে চায় তাহলে তার সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে বাবা-মাকে বিস্তারিত ভাবে বোঝাতে হবে। শীর্ষ আদালত আরও জানিয়েছে, সবকিছু মেয়েটি ও তার পরিবারকে বুঝিয়ে বলতে হবে। এরপর তারা যদি নিজেদের মত পরিবর্তন করতে চান, তখন সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টি পুনরায় বিবেচনা করবে।
