কলকাতা: মঞ্চে ‘কুঞ্জ সাজাও গো…’ গাইতেই মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে পড়ছে ভিড়। আর সেই সুরেই ভোটের আবহ গরম করছেন তৃণমূল (TMC) প্রার্থী অদিতি মুন্সী (Aditi Munsi)। সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে জনপ্রিয়তা তো আছেই, তার সঙ্গে বিধায়ক হিসেবে গত পাঁচ বছরের কাজ, সব মিলিয়ে রাজারহাট-গোপালপুরে এবারও জয়ের মার্জিন বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নেমেছেন তিনি।
গতবার এই কেন্দ্র থেকে ২৬ হাজারেরও বেশি ভোটে জয় পেয়েছিলেন অদিতি। এবার প্রচারে গিয়ে উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরছেন তিনি। স্থানীয়দের দাবি, ভিআইপি ফ্লাইওভার চালু হওয়ায় বাগুইআটি-কেষ্টপুরে যানজট অনেকটাই কমেছে। নতুন ট্রাফিক ব্যবস্থায় কৈখালি ও জোড়া মন্দির এলাকায় চলাচলও সহজ হয়েছে। যদিও বৃষ্টির পর হলদিরাম সংলগ্ন এলাকায় জল জমার সমস্যা এখনও পুরোপুরি মেটেনি। এ নিয়ে কিছু ক্ষোভও রয়েছে।
আরও পড়ুন: ৯৩% ভোটে চমক, মহিলা ভোটাররাই কি গড়বেন ফল? প্রথম দফার পরিসংখ্যানে বড় ইঙ্গিত
রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্রের ভোট-সমীকরণ বরাবরই জটিল। একদিকে দ্রুত বাড়তে থাকা উচ্চ-মধ্যবিত্ত ও নতুন ভোটার, অন্যদিকে গ্রামাঞ্চল ও উদ্বাস্তু প্রভাব, সব মিলিয়ে বহুস্তরীয় লড়াই। এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে, যদিও সিপিএম ও কংগ্রেস কিছু এলাকায় নিজেদের ভিত্তি ধরে রেখেছে।
বিজেপি প্রার্থী তরুণজ্যোতি তেওয়ারির দাবি, শহুরে ও অবাঙালি ভোটের একটা বড় অংশ তাদের দিকে ঝুঁকছে। অন্যদিকে তৃণমূলের ভরসা শক্তিশালী সংগঠন, স্থানীয় ক্লাব নেটওয়ার্ক এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া মানুষজন। অদিতির স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তী, যিনি বিধাননগর পুরসভার এমআইসি জানান, পুর পরিষেবা নিয়ে মানুষের তেমন অভিযোগ নেই, বরং উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় সমর্থন বাড়ছে।
প্রচারে নতুন কৌশল হিসেবে অদিতি নিজের কাজের রিপোর্ট কার্ড বই আকারে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন। রাস্তা, নিকাশি, আলো, জল, স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্যায়ন, বিভিন্ন খাতে মোট ৭৪৩.৮১ কোটি টাকা ব্যয়ের দাবি তুলে ধরছেন তিনি। পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য ১৫টি অঙ্গীকারও করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে মহিলাদের নিরাপত্তা, পিঙ্ক টয়লেট, আধুনিক অডিটরিয়াম, হাসপাতালের উন্নয়ন ও প্লাস্টিকমুক্ত সমাজ গড়ার পরিকল্পন। সুর আর উন্নয়নের মিশেলে অদিতির প্রচার রাজারহাটে আলাদা মাত্রা পাচ্ছে। তবে শেষ হাসি কে হাসবে? তার উত্তর দেবে ব্যালট বাক্সই।
