কলকাতা: ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার বিধানসভা ভোট। প্রথম দফায় বিক্ষিপ্ত গোলমাল ছাড়া মোটের উপর শান্তিপূর্ণ ভোটই হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে (WB Election 2026 Phase 2) আরও আঁটসাঁট নিরাপত্তা করতে প্রস্তুতি বৈঠকে বসেছিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ভোটের নজরদারিতে QRT কে বাইক দেওয়া হবে। কমিশনের প্রস্তুতি বৈঠকে এমনটাই নির্দেশ দেওয়া হল। প্রয়োজনে অপরিসর গলি এলাকায় অশান্তির ঘটনা মোকাবিলায় দ্রুত এলাকায় পৌঁছাবে QRT বাইক।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্র অনুযায়ী নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। শুধু মেন রোড নয়, পাড়ার সরু অলি-গলিতেও থাকবে নজরদারি। এর জন্য মোটরসাইকেল চড়ে গলিতে টহল দেবেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা।
আগামী বুধবার, দ্বিতীয় দফার ভোটে গোটা শহর জুড়েই টহল দেবে পুলিশ-আধাসেনার বাইক।কলকাতা জুড়ে মোট ১৬০টি বাইক টহল দেবে। এই কাজ পুলিশ এবং আধাসেনা মিলে করবে। পাশাপাশি, বুথে বুথে নজরদার ক্যামেরা থাকবে। বুথের পরিস্থিতি বুঝে আরও ক্যামেরা লাগানো হতে পারে। অবাধ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে শুধু কলকাতা নয়, সর্বত্রই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও কড়াকড়ি আনতে চাইছে কমিশন। কমিশন সূত্রেই খবর, স্পর্শকাতর বুথে নজরদারি চালাতে দ্বিতীয় দফায় ড্রোনের সংখ্যাও বাড়ানো হবে।
কমিশনের লক্ষ্য, অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা। ভোটের দিন যাতে কোনও অশান্তি না হয়, তার জন্য প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী ইতিমধ্যেই কড়া নজরদারি শুরু করেছে।
আরও পড়ুন: জাতীয় পতাকায় ঘাম মুছেছেন পাপিয়া অধিকারী! পদ্ম প্রার্থীর বিরুদ্ধে কমিশনে নালিশ তৃণমূলের
রবিবার একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। সেখানে এই প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচনী আধিকারিক, শীর্ষ পুলিশ কর্তারা এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর আধিকারিকরা।বৈঠকে কলকাতা পুলিশের কমিশনার, বিভিন্ন জেলার জেলা নির্বাচন আধিকারিক, রিটার্নিং অফিসার, সাধারণ ও পুলিশ পর্যবেক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত এবং বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক এন কে মিশ্রও ছিলেন এই বৈঠকে।
বুথে তালিকাভুক্ত বৈধ ভোটারদের সনাক্তকরণে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ কমিশনের। স্পষ্টভাবে সচিত্র পরিচয়পত্র যাচাই না হলে বুথে ঢোকা যাবে না সেক্টর অফিসারদের তা নিশ্চিত করার নির্দেশ। আগামী ২৮ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটের একদিন আগে লাস্ট মিনিট প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে প্রিসাইডিং অফিসার এবং ভোট কর্মীদের। নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন গুলিকে যথাযথভাবে পালনের কথা বলা হবে। অতি স্পর্শকাতর বুথগুলিতে তিনটি ক্যামেরা থাকবে। তার মধ্যে একটি ক্যামেরা বুথের বাইরের লাইভ ফুটেজ দেবে। ভোটারদের আস্থা অর্জনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ ইতিমধ্যেই হয়েছে। এ বিষয়ে কোথায় কোথায় হয়েছে তা জানাতে হবে। টালিগঞ্জ, বালিগঞ্জ এবং রাসবিহারী বিধানসভা এলাকার বহুতলগুলিতে বিশেষ পর্যবেক্ষক এবং বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক পরিদর্শনে গিয়ে সেখানকার ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
