পশ্চিম মেদিনীপুর: প্রথম দফার ভোটের (Assembly Election 2026) আবহে খবরের শিরোনামে তিন প্রবীণা। শখ, অভ্যাস, পছন্দ—সব দিক থেকেই তাঁরা একে অপরের থেকে আলাদা। কিন্তু বয়স, ইচ্ছাশক্তি আর দায়িত্ববোধের দিক থেকে তিন বৃদ্ধার মধ্যে রয়েছে বিস্ময়কর মিল। পশ্চিম মেদিনীপুর (Paschim Medinipur) জেলার এই তিন বৃদ্ধার বয়স ১১২ বছর, তিন জনই মহিলা, এবং তিন জনই সম্প্রতি বাড়িতে বসেই নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। জেলার নারায়ণগড়, দাঁতন এবং পিংলা—এই তিন বিধানসভা এলাকার বাসিন্দা যথাক্রমে উষারানি মাল, ভুয়ান্তি মান্না এবং সর্বাণী মিশ্র। জেলার শতায়ু ভোটারদের তালিকায় তাঁরাই সবচেয়ে প্রবীণ।
নারায়ণগড়ের উষারানি মাল এখনও নিয়মিত হাঁটাচলা করেন। প্রতিদিন সকাল বা বিকেলে পাড়ায় এক কিলোমিটার হাঁটা তাঁর অভ্যাস। বয়সের ভার এলেও শরীর এখনও বেশ সচল। মাছ ও ডিম তাঁর খাদ্যতালিকায় থাকলেও বহু বছর আগে মাংস খাওয়া ছেড়েছেন। ৩৫ জনের বড় সংসারে ছেলে, বৌমা, নাতি-নাতনি নিয়ে দিন কাটে তাঁর। নিজেই নিজের কাজ করেন তিনি। আগে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতেন, এখন বয়সের কারণে বাড়িতেই সেই দায়িত্ব পালন করছেন।
অন্যদিকে দাঁতনের ভুয়ান্তি মান্নার জীবনযাপনও অনন্য। তিনি কানে কিছুটা কম শোনেন, কিন্তু দৃষ্টিশক্তি এখনও তীক্ষ্ণ। লাঠির সাহায্যে চলাফেরা করেন। প্রতিদিনের খাবারে মাছ চাই-ই চাই তাঁর। বার্ধক্যজনিত বড় কোনও অসুখ নেই, আর সেই কারণেই এখনও স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন। পরিবার এবং প্রতিবেশীদের সান্নিধ্যেই কাটে তাঁর দিন।
এদিকে পিংলার পিণ্ডরুই গ্রামের সর্বাণী মিশ্রের পছন্দ আবার একেবারেই আলাদা। পান্তাভাত, তেঁতুলের টক আর লিকার চা—এই তিনেই তাঁর তৃপ্তি। সঙ্গে দিনে দশটিরও বেশি দোক্তা পান তাঁর নিত্যসঙ্গী। বয়সের ভারে চলাফেরা করতে না পারলেও নিজের মতো করেই দিন কাটান তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিম মেদিনীপুরে ১০০ বছরের ঊর্ধ্বে মোট ৩২৯ জন ভোটার রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে এই তিন প্রবীণার বয়সই সবচেয়ে বেশি। বয়সের ভার, শারীরিক সীমাবদ্ধতা- কিছুই তাঁদের নাগরিক দায়িত্ব পালনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।
দেখুন আরও খবর:
