বেঁচে থাকতেই শ্রাদ্ধশান্তি! ১৯০০ জনকে খাওয়ালেন প্রৌঢ়

0
36

ওয়েব ডেস্ক: “মরলে কে করবে?” এই এক প্রশ্ন থেকেই সিদ্ধান্ত। আর সেই সিদ্ধান্তেই গোটা গ্রাম সাক্ষী হল এক অভাবনীয় ঘটনার। উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) অরাইয়া জেলার লক্ষ্মণপুর গ্রামের বাসিন্দা রাকেশ যাদব বেঁচে থাকতেই নিজের ‘শ্রাদ্ধভোজ’-এর আয়োজন করলেন। আমন্ত্রণ পেয়ে হাজির হন প্রায় ১,৯০০ গ্রামবাসী।

নিমন্ত্রণপত্রের শুরুতেই ছিল ফিরাক গোরখপুরির বিখ্যাত পঙক্তি “হামে তো আপনোনে লুটা…”। যেন নিজের জীবনকথাই লিখে রেখেছিলেন সেখানে। অবিবাহিত রাকেশের পরিবার বলতে কার্যত কেউ নেই। দুই ভাইয়ের একজন অসুস্থতায় মারা গিয়েছেন, অন্যজন খুন হন জমি-সংক্রান্ত বিবাদে। একমাত্র বোনও অবিবাহিত। ফলে মৃত্যুর পর শেষকৃত্য কে করবেন, সেই চিন্তাই তাড়া করছিল তাঁকে।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে ভারত- ইজরায়েল রুটে ৩১ মে পর্যন্ত উড়ান বন্ধ করল এয়ার ইন্ডিয়া

সাংবাদিকদের সামনে তাঁর সোজাসাপ্টা জবাব, “আমার তো কেউ নেই। তাই বেঁচে থাকতেই করে ফেললাম।” নিজের পূর্বপুরুষদের বাড়িও আত্মীয়কে দিয়ে দিয়েছেন তিনি, বর্তমানে থাকেন ভাড়া ঘরে। প্রতিবেশীদের কথায়, রাকেশ ভীষণ ধর্মভীরু মানুষ, নিয়মিত পুজো-আচ্চা করেন।

নির্দিষ্ট দিনে সকালে পুজোর পর শুরু হয় ভাণ্ডারা। মেনুতে ছিল পুরি-সবজি। গ্রামজুড়ে ভিড়, কৌতূহল আর আলোচনা, সব মিলিয়ে যেন এক অন্যরকম আয়োজন। কেউ এটিকে নিঃসঙ্গতার প্রতিবাদ বলছেন, কেউ আবার দেখছেন সমাজের প্রতি শেষ ভরসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে।

ঘিরে ছিল হাজার মানুষের ভিড়, তবু কেন্দ্রবিন্দুতে একা এক মানুষ। জীবিত অবস্থায় নিজের ‘শেষ ভোজ’ সেরে রাকেশ যাদব যেন এক অস্বস্তিকর প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন, একজন মানুষ কতটা একা হলে নিজের শ্রাদ্ধ নিজেকেই আয়োজন করতে হয়?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here