ওয়েব ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের সংকট কাটতে না কাটতেই বিশ্বজুড়ে দানা বাঁধছে নতুন এক আশঙ্কা। এবার আতঙ্কের কেন্দ্রে করোনা ভাইরাসের (Corona Virus) নতুন ভ্যারিয়েন্ট। এবার একাধিক দেশে ছড়িয়ে পড়ল কোভিডের (COVID-19) উপপ্রজাতি বিএ.৩.২ (BA.3.2), যা ‘সিকাডা’ নামেও পরিচিত। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ইতিমধ্যে আমেরিকা সহ ২০টিরও বেশি দেশে কোভিডের এই নয়া ভ্যারিয়েন্টের সন্ধান মিলেছে। যদিও ভারতে এখনও পর্যন্ত এই নতুন ভ্যারিয়েন্টে সংক্রমণের কোনও খবর নেই। তবুও সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে স্বাস্থ্য দফতর পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে।
কী এই ‘সিকাডা’ ভ্যারিয়েন্ট?
করোনা ভাইরাসের এই ভ্যারিয়েন্ট আসলে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টেরই একটি সাব-লাইনেজ। ‘সিকাডা’ নামটি এসেছে এক ধরনের পোকামাকড়ের নাম থেকে, যা দীর্ঘ সময় মাটির নিচে থাকার পর হঠাৎ বেরিয়ে আসে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভ্যারিয়েন্টে প্রায় ৭০ থেকে ৭৫টি মিউটেশন রয়েছে, যার বেশিরভাগই স্পাইক প্রোটিনে। এই স্পাইক প্রোটিনই ভাইরাসকে মানবদেহের কোষে প্রবেশ করতে সাহায্য করে, ফলে সংক্রমণের ক্ষমতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন: শুরু হচ্ছে সুপার এল নিনো! চরম গ্রীষ্মে পুড়বে ভারত? দেখুন আবহাওয়ার ভয়ঙ্কর পূর্বাভাস
কোভিডের এই নতুন ভ্যারিয়েন্ট কতটা বিপজ্জনক?
কোভিডের এই ভ্যারিয়েন্ট যে আগেরগুলোর তুলনায় বেশি মারাত্মক, এমন কোনও প্রমাণ এখনও মেলেনি। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে আমেরিকায় প্রথম কয়েকজনের শরীরে এই ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয় এবং তাঁরা সকলেই সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এক্ষেত্রে ভ্যাকসিন কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
কোভিডের নতুন ভ্যারিয়েন্টের উপসর্গ কী কী?
- জ্বর বা কাঁপুনি
- কাশি
- গলা ব্যথা
- ক্লান্তি ও শরীরে ব্যথা
- মাথা যন্ত্রণা
- নাক দিয়ে জল পড়া বা নাক বন্ধ
- শ্বাসকষ্ট
- চোখ জ্বালা বা জল পড়া
- বমি বমি ভাব বা হজমের সমস্যা
- ত্বকে ফুসকুড়ি
ভারতের জন্য কোভিডের নয়া ভ্যারিয়েন্ট কতটা বিপজ্জনক?
কোভিডের এই নতুন ভ্যারিয়েন্টকে নিয়ে এই মুহূর্তে ভারতে আতঙ্কের কোনও কারণ নেই বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি— যেমন মাস্ক ব্যবহার, হাত পরিষ্কার রাখা এবং অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।
দেখুন আরও খবর:

