কলকাতা: রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Arunoday Banerjee) মৃত্যুর তিনদিন পর বিবৃতি দিল প্রযোজনা সংস্থা। দীর্ঘ নীরবতার পর অবশেষে মুখ খুলল প্রযোজনা সংস্থা ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স (Magic Moments Motion Pictures)। এক বিস্তৃত বিবৃতিতে সংস্থা জানিয়েছে, এই অকাল প্রয়াণে তারা গভীরভাবে শোকাহত এবং গোটা টিম এখনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হবে বলে জানিয়েছে প্রযোজনা সংস্থা।
একাধিক বিভ্রান্তিকর বিবৃতি, প্রোডাকশন ইউনিটের সদস্যদের বয়ানে অসঙ্গতিতে অভিনেতার মৃত্যুর কারণ ঘিরে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। ইন্ডাস্ট্রির তরফেও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়ে সরব হয়েছে আর্টিস্ট ফোরাম।রাহুলের মর্মান্তিক পরিণতিতে দিন তিনেক বাদে মুখ খুলল ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের প্রযোজনা সংস্থা। বিবৃতিতে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Arunodoy Banerjee)-কে “সহকর্মী ও বন্ধু” হিসেবে উল্লেখ করে সংস্থা জানায়, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ইতিমধ্যেই কাস্ট ও ক্রুদের সঙ্গে কথা বলা শুরু হয়েছে। অধিকাংশই ট্রমার মধ্যে থাকায়, তাদের বক্তব্য নিরপেক্ষ ও সুসংগঠিতভাবে সংগ্রহ করতে আরও কিছু সময় চাওয়া হয়েছে। সমস্ত তথ্য যাচাই করে একটি পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভুল রিপোর্ট তৈরির আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্তে নিরপেক্ষতা বজায় থাকবে জানিয়েছে প্রয়োজন সংস্থা।
রাহুলের পরিবার, বন্ধু বা আর্টিস্ট ফোরাম (Artists’ Forum)-এর পক্ষ থেকে মনোনীত একজন প্রতিনিধি পুরো প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। এর ফলে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে নিরপেক্ষতা বজায় থাকবে বলে মনে করছে সংস্থা।রবিবার তালসারিতে শুটিং চলাকালীন ম্যাজিক মোমেন্টস’ সংস্থার পরিচালক শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায় (Saibal Banerjee) মুম্বইতে ছিলেন। তবে প্রোডাকশন ম্যানেজারের তরফে খবর পাওয়ার পরই তড়িঘড়ি বিমানে কলকাতায় ফিরে আসেন। এবং রাহুলের বাড়়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “যদিও সেসময়ে কেউই কথা বলার মতো পরিস্থিতিতে ছিলেন না। তবে মর্মান্তিক ঘটনার প্রেক্ষিতে তাঁদের যদি কোনও প্রশ্ন থাকে, তাহলে আমরা সাধ্যমতো সব উত্তর দিতে তৈরি। এদিকে, শুটিংয়ের অনুমতি বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে যে জল্পনা চলছে, তা নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে সংস্থা। সমস্ত নথি ও অনুমতিপত্র তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এমনকি প্রয়োজনে শুটিং ফুটেজ, পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের রেকর্ডও শেয়ার করা হবে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, উদ্ধার করার সময় রাহুল জীবিত ছিলেন এবং কিছু বলতে চেষ্টা করছিলেন। তাঁকে দ্রুত জল থেকে তুলে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য নিকটবর্তী ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়।কিন্তু সেখানে কোনও চিকিৎসক না থাকায় পরে তাঁকে দিঘা হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়, যেখানে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। সংস্থার মতে, প্রথম পর্যায়েই যদি যথাযথ চিকিৎসা মিলত, তবে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।

