কলকাতা: এনআরএসে (N.R.S. Medical College & Hospital) মৃত্যু হল মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) রঘুনাথগঞ্জের তৃণমূল কর্মীর। ভোটের দিন মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জের আহত তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু হল কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে। শুক্রবার ভোর রাতে মৃত্য়ু হয়েছে সইবুর শেখের। এখনও পর্যন্ত মুর্শিদাবাদে ভোটের বলি সাত। রাজ্যে মনোনয়ন পর্ব থেকে গণনা পর্ব শেষও রাজ্যে অশান্তি অব্যাহত। জেলায় জেলায় নানা হিংসার অভিযোগ। সন্ত্রাস, রক্তারক্তি, খুনোখুনি কোনও কিছুই বাদ যায়নি। এই নিয়ে ৩৭ দিনে ৪৯ জনের মৃত্যু হল।
শনিবার ভোটকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছিল বাংলা। ভোটের দিনেও প্রাণ গিয়েছে ১৮জনের। জখম হয়েছেন বহু। তাঁদের মধ্যেই ছিলেন সইবুর। মুর্শিদাবাদ জেলার রঘুনাথগঞ্জ থানার বড়শিমূল গ্রাম পঞ্চায়েতের চরবাজিতপুরে বাসিন্দা মইদুল ও সইবুর শেখ। গত শনিবার দাদা মইদুল শেখের সঙ্গেই ভোট দিতে যাচ্ছিলেন সইবুর। সেই সময়ে সিপিএম-কংগ্রেস এবং বিজেপির দুষ্কৃতীরা তাঁদেরকে ঘিরে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কোপানো হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনাতে তৃণমূলের সাতজন কর্মী আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় মইদুল ও সইবুর শেখকে কলকাতার হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছিল। গত সোমবার মৃত্যু হয় মইদুলের। শুক্রবার ভোর রাতে মৃত্যু হল সইবুরের।
আরও পড়ুন: Panchayat Election | তৃণমূল নেতা-কর্মীদের বাড়ি ভাঙচুর-মারধর, অভিযোগের তির বিজেপির দিকে
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, শনিবার পঞ্চায়েত ভোটের (Panchayat Election 2023) দিন ওই দুই ভাইকে মারধর কের দুষ্কৃতীরা। তাঁদের উপর এলোপাথাড়ি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এরপর তাঁদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় জঙ্গিপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে কলকাতাতে রেফার করা হয়। শুক্রবার সকালে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ভোট হিংসায় দুই ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জে। ভেঙে পড়েছে পরিবার। পরিবার সূত্রে খবর, ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার বিকেলে বাজিতপুরে সইদুরের শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। সেই সঙ্গে সরকারের কাছে সাহায্যের আরজিও জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ভোট মিটলেও অশান্তি থামেনি মুর্শিদাবাদে। বৃহস্পতিবার সন্ধেয় মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জের নিমতিতা অঞ্চলের দুর্গাপুরে সিপিআইএম প্রার্থী মাস্তুরা খাতুনের শ্বশুরের উপর হামলা চলে বলে অভিযোগ। ভোট হিংসা সংক্রান্ত যাবতীয় রিপোর্ট চেয়ে নবান্ন থেকে চিঠি পাঠানো হল জেলা শাসকদের কাছে। সূত্রের খবর, মূলত সেই নির্দেশে বলা হয়েছে জেলায় জেলায় ভোট পরিস্থিতিতে কী ধরনের হিংসের হিংসার ঘটনা হয়েছে তার রিপোর্ট পাঠাতে হবে।