কলকাতা: পঞ্চায়েত ভোটে অশান্তি ঘিরে রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল। ওই দলের নেতা-মন্ত্রীরা খোলাখুলিই রাজ্যপালকে বিজেপির এজেন্ট বলে কটাক্ষ করছেন। তিনি যেভাবে সন্ত্রাসবিদ্ধ এলাকাগুলিতে ছুটে যাচ্ছেন, তা নিয়েও শাসকদল সমালোচনা করতে ছাড়ছে না। তৃণমূল নেতা-মন্ত্রীরা প্রশ্ন তুলছেন, রাজ্যপাল বিরোধীদের দরবারে হাজির হচ্ছেন কেন। তাঁকে তো নিহত কোনও তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে যেতে দেখা যাচ্ছে না।
এবার রাজভবনে রাজ্যপালের কন্ট্রোল রুম খোলা নিয়েও শাসকদল প্রশ্ন তুলেছে। দুদিন আগেই সি ভি আনন্দ বোস রাজভবনে পঞ্চায়েত ভোটকেন্দ্রিক একটি কন্ট্রোল রুম খুলেছেন। তিনি অবশ্য এটিকে কন্ট্রোল রুম বলতে নারাজ। রাজ্যপাল বলছেন, এটি শান্তিকক্ষ। মানুষ এখানে অভাব অভিযোগ জানাতে পারবে।
সোমবার রাজভবনে রাজ্যপাল সাংবাদিক বৈঠক ডাকেন। সেখানেই তিনি বলেন, এই পিসরুমে সাধারণ মানুষের অভিযোগ নেওয়া হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: Panchayat Election | মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে দল ছাড়লেন তৃণমূলের এসটি সেলের প্রাক্তন সভাপতি
রাজ্যপাল বলেন, রাজভবন এমন একটা জায়গা হবে, যেখানে মানুষ সমস্যায় পড়লে সমাধানের জন্য আসতে পারবে। বোস দাবি করেন, তিনি কমিশন বা রাজ্য সরকারের কাজে কোনও হস্তক্ষেপ করছেন না। রাজ্যপাল বলেন, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব ভোট করানো। কিন্তু কমিশনারকে নিয়োগ করেন রাজ্যপাল। আমি বারবার বলছি, আমি কারও কাজে হস্তক্ষেপ করছি না। রাজ্যপালের মূল দায়িত্ব হচ্ছে মানুষকে রক্ষা করা। আমি সেই কাজটাই করছি। শাসক এবং শাসিতের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছি।
বোসের আরও দাবি, আমরা সকলে একসঙ্গে কাজ করছি। একজন আর একজনের এলাকায় ঢুকে পড়ছি না। তিনি বলেন, ভোটের সময় অনেকের অনেক সমস্যা হতে পারে। একজন কাউকে থাকতে হবে, যিনি সেই সব মানুষের কথা ধৈর্য ধরে শুনবেন।
রাজ্যপাল পরিষ্কার করে দেন, মৃত্যু নিয়ে যে অভিযোগ এসেছে, তার তদন্ত করবে তদন্তকারী সংস্থা। এই সময়টা খুব সংকটজনক। এখন সমালোচনার সময় নয়। এই সময়ে এক সঙ্গে কাজ করা দরকার। আমি মনে করি, ভোটের পরেও কোনও হিংসা হওয়া উচিত নয়। শাসকদল যে তাঁর কর্মপদ্ধতির সমালোচনা করছে, সেই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে রাজ্যপাল বলেন, প্রত্যেকেরই নিজস্ব মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে।
পঞ্চয়েতের মনোনয়ন পর্বে ভাঙড়, ক্যানিং, ডোমকল, রানিনগর প্রভৃতি এলাকায় ব্যাপক হিংসা, হানাহানি হয়েছে। রাজ্যপাল ভাঙড়, ক্যানিংয়ে ছুটে গিয়েছেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন। শনিবার ক্যানিংয়ে তিনি বলেন, পঞ্চায়েত ভোটে হিংসা কোনও মতেই বরদাস্ত করা হবে না।