বাঁকুড়া: বাঁকুড়া জেলা পরিষদের ৪৪ নম্বর আসনে জয়ী হলেন তৃণমূল প্রার্থী সুজাতা মণ্ডল। বাঁকুড়ার জয়পুরে ব্লকে গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পঞ্চায়েত সমিতির আসনে তৃণমূলের বিপক্ষে কোনও প্রার্থী না থাকায় মঙ্গলবার গণনার শুরুতেই জেলা পরিষদ আসনের ভোট গণনা শুরু হয়। তাতে দেখা যায়, সুজাতা মণ্ডল জয়ী হয়েছেন।
এদিন সকালে সুজাতা এবং জেলা পরিষদের আরও তিন প্রার্থী বিজয়ী প্রার্থীকে নিয়ে তৃণমূল বিজয় মিছিল বার করে। জয়ী প্রার্থী এবং দলীয় কর্মী সমর্থকরা সবুজ আবির খেলায় মেতে ওঠেন। বাংলার রাজনীতিতে সুজাতাকে প্রথম চেনা যায় বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খানের স্ত্রী হিসেবে। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যান সৌমিত্র। স্বামীর সঙ্গেই তৃণমূল ছাড়েন সুজাতাও। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটেও আদালতের নির্দেশে নিজের সংসদীয় এলাকায় প্রচার চালাতে পারেননি সৌমিত্র। স্বামিড় অনুপস্থিতিতে প্রচাররে ভার কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন সুজাতা। নিজের কেন্দ্রে প্রচার না চালাতে পারলেও লোকসভা ভোটে জিতে যান সৌমিত্র। পরবর্তীকালে স্বামী-স্ত্রীয়ের মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দেয়। জল গড়ায় আদালত পর্যন্ত। বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা হয়। তারপর খান পদবী ছেড়ে মণ্ডল পদবী নেন সুজাতা। প্রাক্তন স্বামী বিজেপিতে থাকলেও সুজাতা তৃণমূলে ফিরে আসেন। এবার জেলা পরিষদে তিনি তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হলেন।
২০২১-এর বিধানসভা ভোটের আগে স্বামীর সঙ্গে ঝামেলা হয় সুজাতার। বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের টিকিটে হুগলির আরামবাগ বিধানসভা কেন্দ্রে লড়াই করে হেরে যান। সেখানে প্রচারে গিয়ে সুজাতার বিজেপি কর্মীদের কাছে তাড়া খাওয়ার ভিডিয়ো সেসময় ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল। সেই সুজাতাই এবার জিতলেন।
আরও পড়ুন:ED Director Sanjay Kumar Mishra | ইডি ডিরেক্টরের মেয়াদ বৃদ্ধি বেআইনি, জানাল সুপ্রিম কোর্ট
জয়ের ব্যাপারে সুজাতা প্রথম থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তিনি বলেন, জিতব জানতাম। কত মার্জিন হবে তার অপেক্ষায় ছিলাম। এই জয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কর্মীদের জয়। আমি যে এলাকা থেকে দাঁড়িয়েছি সেটা পিছিয়ে পড়া অঞ্চল। দলীয় কর্মীদের নিয়ে অনেকদিন ধরে লেগেছিলেম। ঘরে ঘরে প্রচার চালিয়েছি। এমনকী লোকসভা ও বিধানসভা ভোটে আমরা পিছিয়ে ছিলাম এবার সেখানেও আমি লিড দিতে পেরেছি। এলাকার উন্নয়নই আমার অন্যতম লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যেতে চাই।