কলকাতা: কেন্দ্রীয় বাহিনী না থাকলে পঞ্চায়েত ভোট বয়কটের হুঁশিয়ারি সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের। শুক্রবার রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করে যৌথ মঞ্চের প্রতিনিধিরা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী ছাড়া ভোট হলে তাঁরা ভোট গ্রহণ করতে যাবেন না। তাঁদের বক্তব্য়, ভোটকর্মী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবি তোলা হয়েছে। প্রয়োজনে আইনি পথেই যাওয়ার হুমকি দিয়েছে যৌথ মঞ্চ।
সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের রাজ্য আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ বলেন, পূর্ব এবং বর্তমান অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আমরা বলেছি, কেন্দ্রীয় বাহিনী ছাড়া ভোটকর্মীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা সম্ভব না। তাই পঞ্চায়েত নির্বাচনে পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতেই হবে।
এছাড়াও রাজ্য নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি জমা দিয়ে তাঁরা জানান, সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের ক্ষেত্রে প্রথমে সেক্টর, সবশেষে কন্ট্রোল রুম এভাবে বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। বিগত নির্বাচনে দেখা গিয়েছে, সশস্ত্র বাহিনীকে বসিয়ে রাখা হয়েছে। অথচ বুথে নিরাপত্তার অভাবে ভুগেছেন ভোটকর্মীরা।
স্মারকলিপিতে যৌথ মঞ্চের আরও দাবি, ভোটকেন্দ্রে রাত্রিবাসের উপযুক্ত পরিবেশ এবং ভোটকর্মীরা স্বাস্থ্যকর খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে। এই তীব্র তাপপ্রবাহের জন্য পানীয় জলের যোগানও পর্যাপ্ত পরিমাণ রাখতে হবে। রাখতে হবে পর্যাপ্ত শৌচালয়ের ব্যবস্থাও।
২০১৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটার দিন এবং তার আগে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক হিংসা ছড়িয়েছিল। ভোটার দিন বহু বুথে ভোটকর্মীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠে ছিল শাসকদলের বিরুদ্ধে। রায়গঞ্জের প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্বের ছিলেন এক শিক্ষক। ভোটার পর বুথের অদূরে রেল লাইনের ধারে সেই শিক্ষকের মৃত দেহ পাওয়া গিয়েছিল। তারপর থেকেই সরকারি কর্মচারীরা বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়ন দাবি করে আসছেন। বিশেষত রাজ্য নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে পুরসভা এবং পঞ্চায়েত ভোট কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনও ভোটকর্মীদের অন্যতম দাবি রয়েছে। এর আগেও যৌথ মঞ্চের তরফের একই দাবি তোলা হয়েছিল। এমনকী কেন্দ্রীয় হরে ডিএর দাবিতে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ যে লাগাতার আন্দোলন করিয়াছে সেখানেও ভোটকর্মীদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তার কথা বলা হয়েছে বাড়ে বাড়ে। এদিন রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী চাষাড়া তারা ভোটার ডিউটিতে যাবে না।