সিঙ্গুর: বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) আগে বাংলার রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ সিঙ্গুরের (Singur) মাটিতে সরকারি কর্মসূচিতে হাজির হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। রবিবার সিঙ্গুরে ৮৩০ কোটি টাকার একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন তিনি। টাটা বিদায়ের প্রায় ১৮ বছর পর সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রীর সভা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে তীব্র আগ্রহ। এই কর্মসূচি থেকে মোদি কী বার্তা দেন, সেদিকেই নজর ছিল রাজনৈতিক মহলের।
দুপুর ২টো ২০ মিনিট নাগাদ কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে সিঙ্গুরের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। দুপুর ২টো ৫০ মিনিটে সিঙ্গুরে নামে প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার। তার আগেই সভাস্থলে উত্তেজনা ছড়ায়। দুপুর ২টো ৩৫ মিনিটে হেলিপ্যাডের পাশে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। কীভাবে আগুন লাগল, তা স্পষ্ট নয়। বিজেপির তরফে চক্রান্তের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বেলডাঙায় মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়িতে ইউসুফ পাঠান
এরপর সভামঞ্চে বক্তব্য রাখেন বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে তৃণমূল রাজ্যে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। ভোটার তালিকা সংশোধন প্রসঙ্গেও তিনি তৃণমূলকে আক্রমণ করেন।
দুপুর ৩টে ১ মিনিটে সিঙ্গুরের সরকারি সভামঞ্চে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার পরই বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন তিনি। সভামঞ্চ থেকে বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ বলেন, “আজ ঐতিহাসিক দিন। জয়রামবাটিতে নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে ট্রেন আসছে। বিকশিত ভারতের অংশ হিসাবে বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ গড়ার পথে আমরা এগোচ্ছি।”
সিঙ্গুরের জমি আন্দোলন একসময় রাজ্য রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। সেই জায়গায় দাঁড়িয়েই উন্নয়ন ও শিল্পের বার্তা দিতে চাইল বিজেপি। নির্বাচনের মুখে এই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক লড়াই যে আরও তীব্র হবে, তা বলাই বাহুল্য।