কলকাতা: দুর্গাপুজোর (Durga Puja) নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেল। সম্প্রতি এ নিয়ে কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation), কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police ) এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দর কর্তৃপক্ষ (Kolkata Port ) বৈঠকে করে। সেই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে প্রতিমা নিরঞ্জনের বিষয় নিয়ে। প্রতিমা বিসর্জনে যাতে কোনও রকমের বিশৃঙ্খলা না হয় তা নিয়ে কলকাতা বন্দর এবং পুরসভা কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে চলেছে। এ বছর ২৪ অক্টোবর বিজয়া দশমী। তার পর আরও দু’দিন প্রতিমা বিসর্জন করা যাবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।
বৈঠক ঠিক হয়েছে, উত্তর থেকে দক্ষিণ কলকাতায় যতগুলি ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন হয় সেই সব ঘাটগুলিকে তৈরি করার দায়িত্বে থাকবে কলকাতা পুরসভা। জলপথে নজরদারি চালাবে কলকাতা পুলিশ ও বন্দর কর্তৃপক্ষ। কলকাতা পুরসভা সূত্রের খবর, এই ঘাটগুলিতেই সবচেয়ে বেশি প্রতিমা বিসর্জন হয়েছে। সেই দিকে নজর রেখে খিদিরপুরের দইঘাট, বাবুঘাট, আহেরিটোলাঘাট, বাজেকদমতলা ঘাটের মতো বড় ঘাটগুলিতে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে।
আরও পড়ুন: পাড়ায় সমাধান প্রকল্পে শিক্ষক বদলিতে বিস্মিত আদালত
বন্দর কর্তৃপক্ষের তরফে কলকাতা পুরসভাকে জানানো হয়েছে, এ বার প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় গঙ্গায় নিরাপত্তা আরও আঁটসাঁট করা হবে তাদের তরফে। কলকাতা পুলিশের পাশাপাশি, তারা এ বার ৫০টি লাইফবোট নামাবে কলকাতার গঙ্গায়। দুর্গোৎসবে বিসর্জন পর্বের নিরাপত্তায় জোর দিচ্ছে প্রশাসন। প্রতিমা গঙ্গার জলে পড়ার পরেই যাতে ক্রেন মারফত তা দ্রুত তুলে ফেলা সম্ভব হয়, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। কারণ প্রতিমা নির্মাণে ব্যবহার হওয়া বিভিন্ন পদার্থ থেকে গঙ্গার জলে দূষণ হতে পারে। সেই দূষণ রোধের কড়া ব্যবস্থা নেবে পুরসভার। একই সঙ্গে বিসর্জনের কাজে কর্মরত কোনও ব্যক্তির যাতে প্রাণহানির আশঙ্কা না থাকে, সে বিষয়ে বিশেষ ভাবে সজাগ থাকতে হবে বলে জানানো হয়েছে।
কলকাতা পুরসভায় প্রাক্-পুজোর বৈঠকে পুরসভার বিভিন্ন বিভাগের আধিকারিকদের পাশাপাশি, ছিলেন কলকাতা পুলিশ, সিইএসসি-সহ একাধিক সরকারি দফতরের আধিকারিকেরা। সেই বৈঠকে যোগ দিয়েছিল বন্দর কর্তৃপক্ষের আধিকারিকেরাও। উৎসবের মাঝে পরিবেশের কোনও ক্ষতি না হয় সে ব্যাপারে বিশেষ নজর দিতে বলেছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। দুর্গোৎসবের (Durga Puja) প্রস্তুতি নিয়ে কলকাতা পুরসভায় (Kolkata Municipality) বৈঠক করলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) বলেন, পুজোর আর হাতে সময় কম, তার জন্য সব বোরোকে গালিপিট পরিষ্কার করা জন্য বলে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিজ্ঞাপনের সময় অনেকে বেআইনি ব্যানার বা বিজ্ঞাপন লাগায়। তাই সেটা রোধ করার জন্য পুজো উদ্যোক্তাদের বিজ্ঞাপনে যাতে নাম থাকে সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মেয়র। পাশাপাশি শহরের বড় পুজোর কোথায় কত ভিড় হচ্ছে সবটা আগাম জানিয়ে দেবে কলকাতা পুলিশ। এজন্য আলাদা ডিসপ্লে বোর্ড থাকবে। সেই ডিসপ্লে বোর্ডের মাধ্যমে আপনি জেনে নিতে পারবেন কোথায় কত ভিড় হচ্ছে।