নয়াদিল্লি: তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) পাশে দাঁড়াল ইন্ডিয়া জোট (INDIA)। বুধবার এই জোটের সমন্বয় কমিটির প্রথম বৈঠকে অভিষেককে ইডি (ED) তলবের নিন্দা করে বলা হয়েছে, এটা মোদি সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া কিছুই নয়। এদিন যে সমন্বয় কমিটির প্রথম বৈঠক এবং অভিযেক এই কমিটির অন্যতম সদস্য, তা কারও অজানা নয়। তবু অভিষেক যাতে বৈঠকে উপস্থিত না থাকতে পারেন এবং ইন্ডিয়া জোটকে যাতে হেনস্থা করা যায়, তার জন্যই এদিনই অভিযেককে ডাকা হয়েছে। এমনটাই অভিযোগ ইন্ডিয়া জোটের।
এদিন বিকেলে দিল্লিতে এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ারের বাড়িতে সমন্বয় কমিটির প্রথম বৈঠক বসে। কলকাতায় ইডির দফতরে হাজিরা দেওয়ার জন্য তৃণমূল নেতা অভিষেক বৈঠকে থাকতে পারেননি। শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউত জানান, অভিযেকের চেয়ারটি এদিন ফাঁকা রাখা হয়েছিল। তৃণমূল ছাড়া ১২টি দলের প্রতিনিধিত্ব ছিল এদিনের বৈঠকে। সিপিএমের কেউ ছিলেন না। কারণ সমন্বয় কমিটিতে তারা এখনও কোনও নাম পাঠায়নি।
আরও পড়ুন: কাটোয়ায় এক ব্যক্তিকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে কুপিয়ে খুন
সূত্রের খবর, বৈঠকে দ্রুত আসন সমঝোতার বিষয়টি সেরে ফেলার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।তবে ঝাড়খণ্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বন্যা গুপ্তা জানান, এখনও আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনার প্রশ্ন নেই। যখন মল্লিকার্জুন খাড়্গে, রাহুল গান্ধী, লালু প্রসাদ যাদব এবং নীতীশ কুমারের মতো নেতারা এক হবেন, তখনই গণতন্ত্রের উজ্জ্বল চেহারা দেখা যাবে।
এদিনের বৈঠকে আরও ঠিক হয়েছে, ইন্ডিয়া জোট রাজ্যে রাজ্যে জনসভা শুরু করবে। অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রথম জনসভা হবে মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালে। বিরোধী দলগুলি যতটা সম্ভব এক হয়েই বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করবে। সেক্ষেত্রে বিজেপির বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রার্থী দিতে হবে।
দিল্লিতে এদিন যখন জোটের সমন্বয় কমিটির বৈঠক চলছে, তখন কলকাতায় সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং বহরমপুরে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন। তাঁরা দুজনেই তৃণমূল-বিজেপি সেটিংয়ের অভিযোগ এনেছেন। বিশেষ করে জি ২০ সামিট উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ডাকা নৈশভোজে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগ দেওয়া এবং অমিত শাহ, যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গে এক টেবিলে বসা নিয়ে তাঁরা কটাক্ষ করেন। সেলিম এবং অধীরের দাবি, ওই নৈশভোজেই সব সেটিং হয়ে গিয়েছে। সেলিম জানান, অবিলম্বে অভিষেকের গ্রেফতারি এবং ইডি, সিবিআইয়ের তদন্ত দ্রুত শেষ করার দাবিতে ৫ অক্টোবর সিপিএম সল্টলেকে সিজিও কমপ্লেক্স ঘেরাও করবে।