কলকাতা: প্রচারের শুরুতেই বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিজেপির (BJP) বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। মঙ্গলবার বীরভূমের (Birbhum) রামপুরহাটে (Rampurhut) জনসভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে তাঁর হেলিকপ্টার ওড়ার অনুমতি দেয়নি ডিজিসিএ। দীর্ঘ টালবাহানার পরে বিকল্প ব্যবস্থায় নির্ধারিত সময়ের প্রায় দু’ঘণ্টা পরে সভাস্থলে পৌঁছন অভিষেক। আর মঞ্চে উঠেই কপ্টার বিতর্কে সরাসরি বিজেপিকে কাঠগড়ায় তোলেন তিনি।
তিলাই ময়দানের জনসভা থেকে অভিষেকের অভিযোগ, নির্বাচন এখনও ঘোষণা হয়নি, কিন্তু তার আগেই “বাংলা বিরোধী শক্তিদের চক্রান্ত” শুরু হয়ে গিয়েছে। তাঁর কথায়, “আমার হেলিকপ্টার সকাল ১১টায় ওড়ার কথা ছিল। কিন্তু অনুমতি দেওয়া হয়নি। ভাবলাম গাড়িতে যাব—পাঁচ ঘণ্টার রাস্তা। কিন্তু আমার ১০ গুণ জেদ। পাশের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে কথা বলে তাঁর কপ্টার আনালাম। তাতে চড়েই এসেছি। দু’ঘণ্টা দেরি হয়েছে, কিন্তু জেদ থেকে সরিনি। যত ধমকানি, চমকানি, ষড়যন্ত্রই হোক—মাথা নত করব না।”
আরও পড়ুন: গঙ্গাসাগরে যে কোনও দুর্ঘটনায় ৫ লক্ষ টাকার বিমা, মেলার আগে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে ‘আবার জিতবে বাংলা’ কর্মসূচিতে মাসজুড়ে জেলায় জেলায় ঘুরছেন অভিষেক। মঙ্গলবার বীরভূমে ছিল তাঁর একাধিক কর্মসূচি। সূচি অনুযায়ী বেহালা ফ্লাইং ক্লাব থেকে দুপুর ১২টায় রামপুরহাটে যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে অনুমতি না মেলায় বদলে যায় পরিকল্পনা। পরে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর কপ্টার এনে বীরভূমে পৌঁছন তিনি।
সভা থেকে বিজেপিকে কড়া বার্তা দিয়ে অভিষেক বলেন, “যত বেশি বাধা দেবে বিজেপি, ততই তাদের ভোট কমবে। এর জবাব দিতে হবে চতুর্থবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার গড়ে।” বীরভূমে দলের লক্ষ্যও বেঁধে দেন তিনি—“এবার ১১-০ করতে হবে। বিজেপিকে শূন্য করতে হবে।” কর্মীদের নির্দেশ, জেলার ৩৬০০টি বুথে লিড বাড়াতে হবে। কপ্টার বিতর্কের মাঝেই এ দিনের সভা কার্যত পরিণত হয় নির্বাচনী রণহুঙ্কারে।