বালি: হাওড়ার ভোটগণনা কেন্দ্র বয়কট সিপিএমের। বালি জগাছা ব্লকের দুর্গাপুর পল্লীমঙ্গল স্কুলের ভোট গণনা কেন্দ্র থেকে নিজেদের এজেন্টদের সরিয়ে নিল বামেরা। দলের কর্মী-সমর্থকদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই গণনা কেন্দ্র থেকে বের করে আনা হল তাঁদের। প্রসঙ্গত, সিপিএমের ব্যালট পেপার ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বালি জগাছা ব্লকে। অভিযোগের তির শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে।
বাম নেত্রী দীপ্সিতা ধর এই ঘটনার জন্য শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে দুষলেন। তিনি বলেন, “প্রশাসনের সামনে যদি নেট ভেঙে ব্যালট বক্স চুরির প্রবণতা তৃণমূলের থাকে, কার ভরসায় আমরা ওখানে থাকব। আমাদের কর্মীরা ওখানে মার খেয়েছেন যাঁরা ব্যালট বক্স বাঁচাতে গিয়েছিলেন। মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই রকম শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে এলাকায়। তাই আমাদের কর্মা-সমর্থকদের বাঁচানোর দায়িত্ব আমাদের।”
আরও পড়ুন: Panchayat Election | এনআইএ-র হাতে ধৃত তৃণমূল প্রার্থীর জয় বীরভূমে
এলাকার এক সিপিএম মহিলাকর্মী বলেন, “ওরা বুঝতে পেরেছিল সিপিএম এবার পঞ্চায়েতে লড়বে। ওরা প্রথম রাউন্ডেই সিপিএমের ব্যালট ফেলে দিয়েছে।” বাম প্রার্থীর অভিযোগ করেন, “তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এসে বামেদের পাওয়া ভোট নষ্ট করে দিয়েছে। ভোট গণনা কেন্দ্রের বাইরে সিপিএমের ব্যালট পেপার ফেলে দেওয়া হয়েছে।” যদিও এইসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃ্ত্ব।
প্রসঙ্গত, ভোট গণনার গতিপ্রকৃতি যেদিকে গড়াচ্ছে তাতে তৃণমূল কংগ্রেস ফের গ্রামবাংলা দখল করতে চলেছে। বেলা ১২টা পর্যন্ত গ্রাম পঞ্চায়েতে ১৬২৯টি আসনে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি ৬২৭ আসনে এগিয়ে। এখনও পর্যন্ত গ্রাম পঞ্চায়েতে ৯৪২টি আসনে জয়ী তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি জয়ী হয়েছে ১০৩টি আসনে। সিপিএম জয়ী হয়েছে ৪৭টি আসনে। কংগ্রেস জয়ী হয়েছে ২৬টি আসনে। অন্যান্য ৬৪, নির্দল ৫৯।
পঞ্চায়েত ভোটে রাজ্যের ৩৩৯টি কেন্দ্রে সঠিক সময় গণনার কাজ শুরু হয়েছে বলে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন গণনা কেন্দ্র থেকে যে অভিযোগ এসেছে সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে ও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা।