ঘাটাল: বাংলা জুড়ে সবুজ ঝড়। বিরোধীদের পিছনে ফেলে এগিয়ে চলেছে তৃণমূলের জয়রথ। তবে তার মাঝেও রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় হিংসা। এর মধ্যে কোথাও কোথাও সম্প্রীতির নজিরের দেখা মিলেছে। ঘটনাটা পশ্চিম মেদিনীপুরের (Paschim Medinipur) ঘাটালের (Ghatal) ঘটনা। পঞ্চায়েত ভোটে জয়ী হয়েছে তৃণমূল এবং হেরেছে সিপিএম। পঞ্চায়েত ভোটে একই আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন দুই ভাই। বড় ভাই দাঁড়িয়ে ছিলেন তৃণমূলের টিকিটে। ওই আসনে সিপিএমের টিকিটে দাঁড়িয়েছিলেন ছোট ভাই।
ঘাটালে সাক্ষী থাকল পারিবারিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার। সিপিএম প্রার্থী ভাইকে হারিয়ে তৃণমূলের টিকিটে জিতলেন দাদা। ভাইকে হারানোর পরই বুথে দাঁড়িয়ে ভাইকে জড়িয়ে কাঁদলেন দাদা। মঙ্গলবার ঘাটাল মহকুমার দাসপুর-১ ব্লকের ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত রসুলপুর বুথে ঘটেছে এই ঘটনা। রসুলপুরের ওই বুথে জিতেছেন তৃণমূলের প্রার্থী খোকন খান। তাঁরই ভাই, সিপিএম প্রার্থী শাহরুখ খান ভোটে দাদার কাছে হেরে গিয়েছেন। জেতার পরেই দাদা খোকন ভোট গণনাকেন্দ্রের ভিতরে কেঁদে ফেলেন ভাইকে জড়িয়ে ধরে। খোকন পরে অবশ্য বলেন, জয়ের আনন্দেই কেঁদে ফেলেছিলাম। জয়ের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে খোকন বলেন,’এই জয় মা-মাটি-মানুষের জয়। বাংলার উন্নয়নের জয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয় ।
আরও পড়ুন: Panchayat Election 2023 | Keshpur | কেশপুরে গণনাকেন্দ্র থেকে গ্রেফতার কংগ্রেস প্রার্থী
এদিন গণনা শুরু হতেই জেলায় জেলায় বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর উঠে এসেছে। ভোটের দিনের মতো না হলেও গণনার দিনও বোমাবাজির ঘটনা ঘটেছে। কোথাও আবার ব্যালট খেয়ে নেওয়া তো আবার কোথাও ব্যালটে কালি ছিটিয়ে দেওয়াও অভিযোগ উঠেছে। ভোট কারচুপি নিয়ে ডিজিপি মনোজ মালব্য এবং মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদীকে কাঠগড়ায় দাঁড় করায় শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা ছ’টা পর্যন্ত রাজ্যের ৯২৮টি জেলা পরিষদের মধ্যে ১৮টিতে জিতেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এগিয়ে আছে ৩০টি আসনে। একটি আসনে সিপিআইএম এগিয়ে আছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ছ’টি, উত্তর ২৪ পরগনায় তিনটি, বীরভূমে সাতটি আসন, বাঁকুড়ায় একটি আসন, পূর্ব বর্ধমানে একটি আসনে জিতে গিয়েছে তৃণমূল।