কলকাতা: সরকারি চাকরিতে সাসপেনশন আরামের ব্যাপার বলেন, মন্তব্য আদালতের। ২০১৪ সালের একটি মামলায় পুলিশের গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে। সেই মামলাতেই বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের (Calcutta High Court Justice Tirthankar Ghosh) মন্তব্য, পুলিশকর্মীদের সাসপেন্ড করে কী হবে? সরকারি চাকরিতে কাউকে সাসপেন্ড করা মানে আরও আরামের ব্যাপার। সাসপেন্ড করা হলেও বেতনের একটা অংশ তাঁরা পেয়ে যাবেন। আর অভিযুক্তদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বেআইনি কাজ করবেন। ক্ষুব্ধ আদালত পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপারকে সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশ মতো এদিন আদালতে হাজির ছিলেন পুলিশ সুপার। ২৪ নভেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি।
২০১৪ সালের একটি মামলায় চার্জশিট জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে দেরি করার অভিযোগ ওঠে তমলুক থানার বিরুদ্ধে। আদালত নির্দেশ দেয়, আইন মেনে যাতে নিম্ন আদালতে দ্রুত চার্জশিট পেশ করা হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে রাজ্যের ডিজিকে। বিচারপতি বলেন, ওই মামলায় ইতিমধ্যে আট জন তদন্তকারী আধিকারিককে বদলি করা হয়েছে। কিন্ত সাসপেন্ড করা হয়েছে মাত্র একজনকে। আবার তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতির প্রশ্ন ওই অনিয়মে আট জন অফিসার যুক্ত থাকলেও কেন শুধু একজনকে সাসপেন্ডকে করা হল।
আরও পড়ুন: ফের বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল দত্তপুকুর
অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ ও অভিযুক্তদের অশুভ আঁতাঁতের ফলেই ওই ঘটনার তদন্তে বিলম্ব হচ্ছে। বিচারপতি বলেন, পুলিশ এবং অভিযুক্তদের এই যোগসাজশ ভাঙতে হবে। পুলিশকর্মীদের আরও কড়া প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের ভারতীয় দণ্ডবিধি এবং ফৌজদারি আইন নিয়ে আরও পড়াশোনা করতে হবে। জেলার পুলিশ সুপারকে এ বিষয়ে উদ্যোগী হতে হবে।
আবেদনকারীর দাবি, ২০১৪ সালে তমলুক থানা এলাকায় মোবাইল টাওয়ার বসানো নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ আসে নিউটাউনের একটি সংস্থার বিরুদ্ধে। ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হলেও চার্জশিট সময়মতো পেশ করা হয়নি বলে অভিযোগ। নিম্ন আদালতে ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে পুলিশ চার্জশিট পেশ করে। কিন্তু সেই চার্জশিট ২০২২ সালের মার্চ মাসের কথা লেখা ছিল। এর বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন কয়েকজন অভিযুক্ত।