কলকাতা: রাজ্যে (West Bengal) এসে পৌঁছল কেন্দ্র সরকারের পাঁচ মহিলা সাংসদদের তথ্যানুসন্ধানী দল (fact Finding)। পাঁচ সদস্যের ওই কমিটিতে রয়েছেন সরোজ পাণ্ডে, রমা দেবী, অপরাজিতা সারেঙ্গি, কবিতা পাতিদার এবং সন্ধ্যা রাই। সোমবার বিজেপির জাতীয় সম্পাদক অরুণ সিং প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিলেন। মঙ্গলবার সকালে কলকাতা বিমানবন্দরে নামার পরেই রাজ্যের মহিলাদের উপর আক্রমণ নিয়ে কড়া ভাষায় কটাক্ষ করে তথ্যানুসন্ধানি দলের সদস্যরা। রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন তাঁরা। বলেন, পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে। আর সেই ঘটনায় অনেক মহিলারাও আক্রান্ত হয়েছেন। সেই সব দিক খতিয়ে দেখতেই তাঁরা রাজ্যে আসেন।
বিজেপির অভিযোগ, পঞ্চায়েত ভোটের আগে পরে বাংলায় শাসকদলের সন্ত্রাসের হাত থেকে রেহাই পাননি মহিলারাও। ভোটপর্ব মিটে যাওয়ার পর এখনও অনেক জেলায় দলীয় সমর্থকদের উপর তৃণমূল অত্যাচার চালাচ্ছে। বিজয়ী এবং পরাজিত মহিলা প্রার্থীদের নানা ভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ওই মহিলা সাংসদরা হিংসাদীর্ণ এলাকাগুলি ঘুরে দেখবেন, কথা বলবেন ভুক্তভোগী মহিলাকর্মী এবং জয়ী ও পরাজিত প্রার্থীদের সঙ্গেও। ফিরে গিয়ে তাঁরা দলের জাতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডার কাছে রাজ্যের হিংসা পরিস্থিতি নিয়ে রিপোর্ট পেশ করবেন।
আরও পড়ুন: Rahul Gandhi-SC | মোদি পদবি বিতর্ক মামলায় রাহুলের আবেদন গ্রহণ করল সুপ্রিম কোর্ট, ২১শে শুনানি
দিন কয়েক আগেই প্রাক্তন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী রবি শঙ্কর প্রসাদের নেতৃত্বে পাঁচ সাংসদের প্রতিনিধিদল এসেছিল রাজ্যে। তাঁরা উত্তর এবং দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু এলাকা পরিদর্শন করেন। দলীয় কর্মী-নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের কাছে অনেকেই শাসকদলের অত্যাচারের বিবরণ তুলে ধরেন। সাংসদদের ওই দল রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের সঙ্গে দেখা করে বলেন, আপনি কিছু একটা করুন। তাঁরাও রাজ্যপালের কাছে রাজ্যে ৩৫৫ ধারা প্র্য়োগের দাবি জানান। বিধানসভা ভোটের পর বিজেপি হিংসা পরিস্থিতি দেখতে একাধিক দল পাঠিয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনও ভোট পরবর্তী হিংসা দেখতে রাজ্যে এসেছিল।
শাসকদল অবশ্য এই সব দলকে কটাক্ষও করতে ছাড়েনি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের বিভিন্ন সভায় বলেন, এখানে পান থেকে চুন খসলেই কেন্দ্রীয় টিম পাঠানো হয়। কিন্তু বিজেপি শাসিত রাজ্যে যে এত হিংসা হয়, এত মহিলাদের উপর অত্যাচার হয়, সেখানে তো কেন্দ্রীয় দল পাঠানো হয় না। এই যে মণিপুর প্রায় তিন মাস ধরে জ্বলছে। সেখানে কটা কেন্দ্রীয় টিম পাঠানো হয়েছে?