কলকাতা: দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূলের (Trinomul) পঞ্চায়েত ভোটের (Panchayat Election) প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। রবিবার বনগাঁ ও হাবরায় জনসংযোগ যাত্রার কর্মসূচি শেষ করার পর রাতে বারাসাত কাছারি ময়দানের তাঁবুতে রাত্রি যাপন করেন তিনি। সেখানেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। ওই বৈঠকেই জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত সমিতি ও গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করে তাতে সিলমোহর দেন অভিষেক।
রাজ্যের সবচেয়ে বড় জেলা দক্ষিণ ২৪ পরগনা প্রশাসনিক ভাবে বিভাজন হলেও জেলা পরিষদ একটাই রয়েছে। জেলায় মোট ৮৫টি জেলা পরিষদ আসন, ২৯টি পঞ্চায়েত সমিতি এবং ৩১০টি গ্রাম পঞ্চায়েত। অভিষেক প্রার্থী তালিকায় চূড়ান্ত অনুমোদন না দেওয়ায় গত দু’দিনে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি অধিকাংশ তৃণমূল প্রার্থী। তবে, প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত না হলেও কোনও কোনও জায়গায় মনোনয়নপত্র পেশ করেন কয়েকজন। এতে রাজ্য নেতৃত্ব ক্ষুব্ধ। শীর্ষ নেতৃত্ব পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, যাঁরা মনোনয়ন পেশ করেছেন, চূড়ান্ত তালিকায় নাম না থাকলে তাঁদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিতে হবে। নতুবা দল তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।
আরও পড়ুন Panchayat Election 2023 | সাগরদিঘি মডেল মেনেই পঞ্চায়েত ভোট হোক রাজ্যে, দাবি অধীরের
এদিকে মনোনয়নপর্ব চলাকালীনই জেলার বাসন্তীতে সোমবার সকালে শাসকদলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। দুই যুব তৃণমূলকর্মী ওই সংঘর্ষে জখম হন। তাঁদের ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দলীয় সূত্রের খবর, যুব তৃণমূলের সঙ্গে তৃণমূলের এই সংঘর্ষ ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। গোসাবা, বাসন্তীতে অনেকদিন ধরেই তৃণমূল এবং যুব তৃণমূলের মধ্যে গোলমাল চলছে। দুই তৃণমূলের সংঘর্ষের জেরে একাধিক খুনোখুনির ঘটনাও ঘটেছে ওই সব এলাকায়। বস্তুত ২০১১ সালে পালাবদলের পর থেকেই গোসাবা বাসন্তীতে দুই তৃণমূলের সংঘর্ষ ঘটে চলেছে।শাসকদলের জেলা এবং রাজ্য নেতৃত্বে বারবার গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বরদাস্ত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিলেও কোন্দল থামেনি। খোদ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একাধিকবার দলীয় বৈঠকে জেলা নেতৃত্বকে সতর্ক করছে। তবু গোসাবা বাসন্তীতে যুব রবং মূল তৃণমূলের মধ্যে গোলমাল এড়ানো যায়নি। পঞ্চায়েত ভোটকে কেন্দ্র করে গোলমাল আরও বাড়তে দলের অন্দরে আশঙ্কা করা হচ্ছে।