কলকাতা হাই কোর্টে নারদ মামলার শুনানি ফের পিছিয়ে গেল। আগামী বুধবার এই মামলার শুনানি হবে বলে আদালত সুত্রে জানান হয়েছে। সোমবার কলকাতা হাই কোর্টে নারদ মামলার শুনানির সময় বিচারপতিদের কড়া প্রশ্নের মুখে পড়েন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। হাই কোর্টের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে সিবিআইয়ের তরফে শুনানি মুলতুবির আর্জি খারিজের পরেই শুরু হয় নারদ মামলার চার অভিযুক্তের জামিনের আর্জির শুনানি। বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায় প্রশ্ন করেন, ‘২০১৩ সাল থেকে শুরু হয়েছে এই মামলা। ৭ বছর ধরে নারদ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করার প্রয়োজন মনে করলেন না কেন? এতদিন পরে তাঁদের গ্রেফতার করলেন। তারপর তাঁরা যখন জামিন পেলেন। তখন আপনারা জামিনের বিরোধিতায় ব্যস্ত হয়ে উঠলেন কেন?’
এরপর শুনানিতে গত সোমবার নারদ অভিযুক্তদের গ্রেফতারির পর থেকে ফের নতুন করে ঘটনাক্রম তুলে ধরা হয়। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, ‘গত সোমবার সিবিআই অফিসের বাইরে বিশাল মানুষের জমায়েত হয়। যে কারণে অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করা যায়নি। দু’জন রাজ্যের মন্ত্রী আদালতে হাজির ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী নিজে সিবিআই অফিসে এসে ধর্ণায় বসেন। বাধ্য হয়েই সিবিআই ভার্চুয়াল মাধ্যমে অভিযুক্তদের হাজির করার আবেদন জানায়। সশরীরে কেস ডাইরি নিয়ে যেতে পারেননি। সিবিআই অফিসের বাইরের ভয়ানক পরিস্থিতি ছিল। এর পর আমরা ৪০৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী এই মামলা অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার আবেদন জানান হয় হাই কোর্টে। মেলের মাধ্যমে অনলাইনে এবং মৌখিক ভাবে আবেদন করা হয়েছিল।’ এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে পাল্টা প্রশ্ন তোলেন চার নেতা-মন্ত্রীর আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি। তিনি বলেন, ‘১৭ তারিখ নিম্ন আদালতে জামিন পাওয়ার পর হাই কোর্টের নির্দেশে তাঁরা জামিন পেলেন না। তাঁদের জামিন মুক্ত রাখা হবে কিনা, সেটাই এখন বড় ইস্যু।’ একইসঙ্গে তাঁর অভিযোগ, ‘নিম্ন আদালতের দেওয়া জামিনের ওপর স্থগিতাদেশের মামলায় অভিযুক্ত পক্ষের কথা শোনা হয়নি।’ এই প্রশ্ন শুনে বিচারপতি সৌমেন সেন অভিষেক মনু সিঙ্ঘভিকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনি বলতে চাইছেন, সেদিন ডিভিশন বেঞ্চ নিম্ন আদালতের নির্দেশ না দেখেই অর্ডার দিয়েছে?’ উত্তরে হেভিওয়েটদের আইনজীবী বলেন, ‘না, নিন্ম আদালতের নির্দেশ দেখা হয়নি।’ এরপর সিবিআইয়ের উদ্দেশে বিচারপতি সৌমেন সেন বলেন, সিআরপিসি এর ৪০৭ নম্বর ধারায় বিস্তৃত ক্ষমতা রয়েছে। তার কাজ শুধু নিম্ন আদালতের জামিন খারিজ করা কিনা সেটা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ রয়েছে। আপনারা শুধু সেদিন ঘটনাক্রম ব্যাখ্যা করে আদালতে এসেছিলেন।’ অন্যদিকে, রবিবার মাঝরাতে নারদ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় সিবিআই। হাই কোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বৃহত্তর বেঞ্চে শুনানি স্থগিত রাখার আবেদন জানান হয়। কিন্তু পদ্ধতি গত ভুল থাকায় সুপ্রিম কোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেয়।