কলকাতা সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৫৯ ( PM )
চতুর্থ স্তম্ভ: রাষ্ট্রপতি ভবনে কে?
সম্পাদক
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই, ২০২১, ১০:৫৯:৫৬ পিএম
  • / ১৭৮ বার খবরটি পড়া হয়েছে
  • • | Edited By:

দিল্লিতে আপাতত যে রাজনৈতিক চহলপহল, তা কিন্তু ২০২৪ এর নির্বাচন নিয়ে নয়, ওটা ফাইনাল গেম। তার আগে সেমিফাইনাল ম্যাচটা অনেকেরই এখনও চোখে পড়েনি, কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচকে নিয়েই সবাই ব্যস্ত। আগামী ২০২১ এ ৫ রাজ্যে নির্বাচন, উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখন্ড, পঞ্জাব, মণিপুর আর গোয়া। আম জনতার চায় পে চর্চা এখন ওই পাঁচটা রাজ্যের নির্বাচনকে ঘিরে।

এই নির্বাচনে যদি বিজেপি হারে, তাহলে ২০২৪ জমজমাট লড়াই। বিজেপি বিদায় একরকম নিশ্চিত হয়ে যাবে। কিন্তু তার মধ্যে একটা সেমিফাইনাল ম্যাচ আছে, গতকাল বলেছিলাম না, বিজেপির কপালে শনি নাচছে, তো কাল বলেই ওঠা হয়নি সেই শনিটা ঠিক কোনখানে? অনেকেই খেয়াল করেননি, করছেন না পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের ঠিক পরেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, সেটা কিন্তু এবার দারুণ ইন্টারেস্টিং হতেই পারে। অনেকেই বলবেন কেন? লোকসভায় এনডিএ’র এখনও ৩৩৪ জন সাংসদ আছে, রাজ্যসভায় ১১৬ জন। লোকসভা রাজ্যসভা মিলিয়ে ৫৮% ভোট আছে এনডিএ’র, তাহলে সমস্যাটা কোথায়? আছে, এবং সেটা বুঝতে হলে আমাদের দেশে রাষ্ট্রপতি কেমন করে নির্বাচিত হন, সেটা একটু মন দিয়ে বুঝতে হবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে, লোকসভা এবং রাজ্যসভার সাংসদরা ভোট দেন, কিন্তু তাঁদের একটা ভোটের মান হল ৭০৮, মানে একজন এমপি ভোট দেবেন, সেই প্রার্থীর খাতায় জমা হবে ৭০৮ খানা ভোট। এই হিসেবে সাংসদের ৫৮% ভোট এখন এনডিএ’র কাছে। শিবসেনা, অকালি দল, চন্দ্রবাবু নাইডুর তেলেগু দেশম এখন এনডিএতে নেই, তা সত্ত্বেও এনডিএ’র ৪৫০ জন সাংসদের মোট ভোট ৩ লক্ষ ১৮ হাজার ৬০০, মানে বিজেপি যে প্রার্থীকে মনোনীত করবে তাঁর পক্ষে এই ভোট পড়বে, এর বাইরেও কিছু ভোট আসতেই পারে, বিজেডি’র ভোট, তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতির ভোট, ওয়াইএসআর কংগ্রেসের ভোট, মায়াবতীর ভোট। এসব আসতেই পারে, বিজেপির হাতে ইডি, ইনকাম ট্যাক্স, সিবিআই আছে, রাজ্যের বরাদ্দ বাড়ানোর ক্ষমতা আছে, এসবের কারণে ভোট প্রভাবিত হতেই পারে। কিন্তু, হ্যাঁ, এখানে কিন্তু আছে, কারণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট কেবলমাত্র এমপিরা দেয় না, এমএলএ’রাও দেয়। আর সেই হিসেব আরও গোলমেলে, ১৯৭১ এর জনসংখ্যার হিসেবের ভিত্তিতে, প্রত্যেক রাজ্যের এমএলএদের ভোটের মান কিন্তু আলাদা। যেমন এই বাংলার প্রত্যেক এমএলএ’র ভোটের মান ১৫১, ঝাড়খন্ডের বিধায়কদের ভোটের মান ১৭৬, আবার সিকিমের একজন এমএলএ ভোট দিলে সেই প্রার্থীর খাতায় জমা হবে ৭টি ভোট, অন্যদিকে উত্তরপ্রদেশের একজন বিধায়কের ভোটের মান ২০৮, এইখানেই সমস্যা। হিসেব বলছে, যে পাঁচ রাজ্যে ভোট হচ্ছে, তাদের  এমএলএদের ভোট যোগ করলে, মোট ভোট হবে ১ লক্ষ ৩ হাজার ৭৫৬, এবং তার মধ্যে কেবল উত্তরপ্রদেশের মোট ভোট ৮৩ হাজার ৮২৪। ২০১৭ তে উত্তর প্রদেশ নির্বাচনে বিজেপির আসন ছিল ৩০৬, শরিক অপনা দলের আসন ১১, দুইয়ে মিলে ৩১৭, ৭৮% আসন ছিল বিজেপির। সমস্যাটা এইখানে, বিজেপি যদি আগের বারের বা তারচেয়েও বেশী আসন পায়, তাহলে তো ল্যাটা চুকেই গেলো, বাকি যা খুচখাচ লাগবে, মায়াবতীর বিএসপি ইত্যাদি থেকে এসে যাবে। কিন্তু যদি হেরে যায়, যে সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, তাহলে? বা ধরুন বিজেপি জিতল, কিন্তু ১০০ টা আসন কমে গেলো, তাহলে, ধরুন গোয়া, ছোট্ট রাজ্য, হাত থেকে বেরিয়ে গেলো। তাহলে? উত্তরাখন্ডে যদি খারাপ রেজাল্ট হয়? কারণ এই মুহূর্তে যা অবস্থা তার হিসেব বলছে, এমপি, এমএলএ মিলে মোট ভোট, ১০,৮৭, ৬৮৩। তার মধ্যে এনডিএ’র ভোট  ৫,৪৩,০৬২। মানে ৪৯.৯৫% ভোট। বিজেপির মনোনীত এমপিদের ভোট ধরবেন না, ওনারা মানে ওই গগৈ বা স্বপন দাশগুপ্তরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না।

তাই বলছি, যদি উত্তরপ্রদেশে হেরে যায়, গোয়াতে হেরে যায়, পঞ্জাবে কিছুই না করতে পারে, তাহলে সেদিনই বিসর্জনের বাজনা বাজতে শুরু করবে, কিন্তু অতটা না হলেও, উত্তরপ্রদেশে ১০০ টা আসন কমে যাওয়া মানে ২০৮০০ ভোট কমে যাওয়া, তার জন্য বিজেডি, তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতি বা ওয়াইএসআর কংগ্রেসের কাছে হাত পাততে হবে, ওনারাও তো ভোট এমনি এমনি দেবেন না, সে হিসেবও জটিল। কিন্তু মোদি শাহের ম্যানেজ করার অপরিসীম ক্ষমতাকে মাথায় রাখলে, সেটাও হয়ে যাবে বলেই মনে হয়, কিন্তু এইখানেই কহানী মে টুইস্ট, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী প্রার্থী হিসেবে নাম শোনা যাচ্ছে বললে ভুল হবে, একরকম স্থির হয়েই গেছে, তিনি হলেন শারদ পাওয়ার। না বলতে পারেন হিন্দি, না আছে সেরকম ক্যারিশ্মা। কিন্তু যা আছে তা হল যোগাযোগ, মারাত্মক যোগাযোগ। তিনি প্রার্থী হলে টিআরএস’র ভোট, জগন রেড্ডি বা নবীন পট্টনায়েকের ভোট কোন দিকে যাবে কেউ জানে না, ঘুরে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশী, তাঁকে অকালি সমর্থন করবে, ডিএমকে সমর্থন করবে, শিবসেনা সমর্থন করবে, বাকি বিরোধীরা তো বটেই, কংগ্রেসও সমর্থন করবে, এই ছক পরিস্কার হয়ে গেছে, কন্সটিটিউশন ক্লাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাষণ শুনতে এসেছিলেন শরদ পাওয়ার, সঙ্গে কন্যা সুপ্রিয়া সুলে, এসেছিলেন চিদম্বরম, দিগগি রাজা, দিগ্বিজয় সিং, এসপি’র জয়া বচ্চন, রামগোপাল যাদব, আপের সঞ্জয় সিং, আরজেডি’র মনোজ ঝা, টিআরএস’র কেশব রাও, ডিএমকে এমপি ত্রিচুরী শিভা, আরও অনেকে। মানে একদিকে রাজ্যে আইন শৃঙ্খলা নিয়ে, কোভিড নিয়ে ব্যতিব্যস্ত আদিত্যনাথ যোগী, তাঁর ওপর রক্তচাপ বাড়াতে টিকায়েত ভাইরা হাজির, কৃষকরা হাজির নো ভোট টু বিজেপি নিয়ে, ওদিকে জাঠ নেতা জয়ন্ত চৌধুরি এসপি’র সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন, মায়াবতী ব্রাহ্মণ ভোট পাবার চেষ্টা করছেন, যাদব, ওবিসি, দলিত ভোট জমা হচ্ছে এসপি’র পাশে, পরিস্কার হয়ে যাচ্ছে ৩১৩ তো দূর, সিংহাসন বাঁচানোও কঠিন, তৃণমূল নেত্রী মমতা দিল্লিতে তাঁর সব কটা অস্ত্র সম্ভবত এখনও বার করেননি, উত্তরপ্রদেশ পঞ্জাব নির্বাচন নিয়ে নতুন ঘোষণা যে কোনও দিন আসবে, অন্তত এক সম্মিলিত প্রচার যে হবেই, তা তো পরিস্কার।

কাজেই এতদিন যোগীর সঙ্গে আকচাআকচি ভুলে নরেন্দ্র মোদি, যোগীর প্রশংসা করছেন, মানুষের ক্ষোভ সামলানোর চেষ্টা করছেন, কতটা সামলাতে পারবেন, সেটাই দেখার। তবে রাজনৈতিক হিসেব নিকেশ ক্রমশ তাঁর বিরুদ্ধে চলে যাচ্ছে, ক্রমশই ভুল, আরও বড় ভুল করে চলেছেন মোদিজি, সেই ভুলের কোয়ার্টার ফাইনাল উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন, তারপরেই সেমিফাইনাল রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, এবং সবশেষে ২০২৪। এর প্রত্যেকটায় এবার খেলা হবে, প্রত্যেকটায়। আর একটাতে হেরে গেলেও বিরোধীদের কিন্তু পরেরটায় জেতার সম্ভাবনা থেকে যাবে, বিজেপির, নরেন্দ্র মোদির, অমিত শাহের কিন্তু সে সুযোগ থাকবে না। যদি উত্তরপ্রদেশ হেরে যায়, সেই দিন থেকে মোদি থাকবে কতক্ষণ, মোদির হবেই বিসর্জন, বাজনা বাজা শুরু হয়ে যাবে।

ধরুন উত্তরপ্রদেশে জিতলো, কিন্তু ১০০ টা আসন কমে গেলো, গোয়া হাত থেকে বেরিয়ে গেলো, এবং তারপর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে শারদ পাওয়ার জিতে গেলেন, আবার বাজনা বাজবে। এতদিন রাজনীতি একভাবে হয়েছে, আরএসএস – বিজেপি, নরেন্দ্র মোদি অমিত শাহ তাঁদের ইচ্ছেমত এজেন্ডা সেট করেছেন, বিরোধীরা রি অ্যাক্ট করেছে, ওনারা ডি মনিটাইজেশন করেছেন, বিরোধীরা প্রতিবাদ করেছে, ওনারা জিএসটি এনেছেন, বিরোধীরা প্রতিবাদ করেছেন, ওনারা ৩৭০ ধারা তুলেছেন, বিরোধীরা প্রতিবাদ করেছেন, সে সব প্রতিবাদ ও আবার সম্মিলিত ছিল না, কিন্তু রাজনীতি এখন নতুন খাতে বইতে শুরু করেছে, কোভিড আর অর্থনীতিতে ব্যতিব্যস্ত সরকার এখন রি অ্যাক্ট করছে, মোদি – শাহ  জানেন উত্তরপ্রদেশ কেবল জিতলেই হবে না, আগের থেকে বেশি আসন দরকার, আর সেখানেই এজেন্ডা সেট করেছেন বিরোধীরা, তাঁরা বিজেপিকে জিততে দেবেন না, বিজেপি হারতে পারে, খেলা হবে, খেল হোই শ্লোগান ও বিরোধীদের, নির্বাচনের এজেন্ডাও বিরোধীদের, সেই প্রেক্ষিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, নতুন সমীকরণের, এই নতুন বৃত্তের কেন্দ্রেই আছেন বাংলার মেয়ে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজনীতি হল নতুন সম্ভাবনার খেলা, কোন বাঁকে কী লুকিয়ে আছে কেউ জানে না, কিন্তু এটাতো জানিই যে খেলাটার মাঝমাঠ থেকে বিপক্ষের গোল পোস্ট পর্যন্ত সবটাই, বিজেপির দখলে ছিল, সেই দখলদারি আজ আর নেই, সেটাই এই মুহূর্তের বাস্তবতা, তাই প্রশ্নটা উঠবেই, রাষ্ট্রপতি ভবনে এবার কে?

আর্কাইভ

এই মুহূর্তে

উজবেকিস্তানের আবহাওয়ায় স্বস্তিতেই হাবাস
সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১
জলমগ্ন রেললাইন, বাতিল হল একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন
সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১
Guilt-free Laddu: সুস্বাদু ও পুষ্টিকর এই লাড্ডু না খেলেই নয়!
সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১
দুর্গাপুজোতে পদ্মার ইলিশে সাজবে বাঙালির পাত
সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১
শনি ও রবিবার থেকে বাড়ানো হচ্ছে মেট্রো সংখ্যা, বদল হচ্ছে সময়সূচিতেও
সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১
অক্টোবরেই কংগ্রেসে কানহাইয়া কুমার, জিগ্নেশ মেভানি
সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১
অঙ্কুশের প্রথম কেস
সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১
Face Workouts: ফিরিয়ে আনুন ত্বকের হারানো লাবণ্য…
সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১
আফগানিস্তানে এবার নিষিদ্ধ আইপিএলও, ব্যথিত রশিদ খান
সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১
বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি ঘাটালে, জল বাড়ছে দাসপুরে, সংকট পানীয় জলের
সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১
চম্পাগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত বিজেপির হাতছাড়া, বোর্ড গঠন করল তৃণমূল
সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১
‘কালীঘাটে লকেট’ খবর  ভুল, দাবি হুগলির বিজেপি সাংসদের
সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১
উত্তর-পূর্বের একজন রাজনীতিককে সুযোগ দিয়ে ইতিহাস তৈরি করেছেন মমতা: সুস্মিতা
সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১
ঘরোয়া ক্রিকেটারদের জন্য সুখবর, বাড়ছে ম্যাচ ফি
সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১
ফের সাগরে টর্নেডো, লন্ডভন্ড কপিলমুনি আশ্রম সংলগ্ন এলাকা
সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১
© R.P. Techvision India Pvt Ltd, All rights reserved.
Developed By KolkataTV Team