কলকাতা: হিন্দুধর্মের এক গুরুত্বপূর্ণ বাৎসরিক উৎসব অম্বুবাচী (Ambubachi )। এই উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শাস্ত্রের নানা কাহিনি। সতীপিঠের অন্যতম অসমের (Assam) গুহায়াটির, নীলাচল পাহাড়ের ওপর অবস্থিত, কামাখ্যা মন্দির (Kamakhya Temple)। এই মন্দিরটি ব্রহ্মপুত্র নদের উপকণ্ঠে অবস্থিত। প্রতি বছর অম্বুবাচীর সময় এই মন্দিরে অম্বুবাচী মেলা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু জানেন কী, কামাখ্যা মন্দিরে আয়োজিত এই মেলার সঙ্গে রয়েছে বেশ কিছু অলৌকিক ও আকর্ষণীয় বিষয়, যা সকলকে অবাক করে তুলতে পারে। যেমন, বছরের তিন দিন ব্রহ্মপুত্র নদের জল লাল হয়ে যায়। যদিও এটা শুনতে আপনার অদ্ভুত লাগতেই পারে। তবে এর সঙ্গে বিশেষ ধর্মীয় বিশ্বাস সংযুক্ত।
কামাখ্যা দেবীর মন্দিরকে ভারতে অবস্থিত ৫১টি শক্তিপীঠের মধ্যে একটি বলে মনে করা হয়। কিন্তু গুয়াহাটির কামাখ্যা মন্দিরে দেবীর কোনও মূর্তি নেই। বিশ্বাস অনুসারে, এখানে দেবী সতীর যোনি অংশ পড়েছিল। তাই কামাখ্যা মন্দিরে দেবীর যোনি পুজো করা হয়। যোনির অংশ হওয়ার কারণে, দেবী রজস্বলা (ঋতুস্রাব)ও এখানে হয়। এটিই একমাত্র মন্দির যেখানে দেবী কামাখ্যা বছরে একবার মাসিক হয়। দেবী যখন ঋতুচক্রে থাকেন, তখন মন্দিরও তিনদিন বন্ধ থাকে এবং দেবীর দর্শনও নিষিদ্ধ।
আরও পড়ুন:Mohanlal Movie | দেশের প্রথম ছবি, যা রিলিজের আগেই ব্যবসা করেছিল ১০০ কোটির!
ব্রহ্মপুত্র নদের জল লাল হয়ে যায়- অম্বুবাচী উৎসব ও সেই সঙ্গে ব্রহ্মপুত্র নদের জলের লাল রঙ হয়ে যাওয়া নিয়ে বিশ্বাস ও কাহিনি প্রচলিত রয়েছে। প্রতি বছর জুন মাসে ব্রহ্মপুত্র নদের জল তিন দিন রক্তের মতো লাল হয়ে যায়। মনে করা হয়, এই সময়ে কামাখ্যা দেবী মাসিক চক্রে বাস করেন। রাজস্বলার সময়, দেবী কামাখ্যার প্রবাহিত রক্তে সমগ্র ব্রহ্মপুত্র নদর জল লাল হয়ে যায়। এরপর সেই জলের রং নিজে থেকেই স্বাভাবিক হয়ে যায়।
ভক্তদের প্রসাদ হিসেবে দেওয়া হয় লাল কাপড়- কামাখ্যা দেবীর মন্দিরে শুধু পুজোর নিয়মই এখানে ভক্তদের প্রসাদও দেওয়া হয় ভিন্নভাবে। অম্বুবাচী উৎসব উপলক্ষে আসা বিপুল সংখ্যক ভক্ত ও সাধুকে মায়ের মন্দিরে প্রসাদ আকারে লাল রঙের একটি ভেজা কাপড় দেওয়া হয়। দেবীর ঋতুস্রাব হলে দেবীর স্থানে একটি সাদা রঙের কাপড় বিছিয়ে দেওয়া হয়, যা তিন দিন পর সেখান থেকে তোলা হয়। এই ভেজা কাপড়, যাকে অম্বুবাচী কাপড় বলা হয়, সেটা দেবীর ভক্তদের প্রসাদ হিসেবে দেওয়া হয়।