অতিমারী পরিস্থিতির মধ্যে দিয়েই এ বছরটা শুরু হয়েছিল৷ অতিমারীর মধ্যে দিয়েই বিদায় নিচ্ছে ২০২১ সাল৷ মাঝের অধিকাংশ সময় ‘করোনা করোনা’ করেই কেটে গিয়েছে৷ তবে ২০২১ সালের উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলির একটি হল টিকার আবিষ্কার ৷ অদৃশ্য শত্রুর সঙ্গে লড়াই করতে যে সুরক্ষা বর্মের খোঁজ এতদিন চলছিল তা এ বছরের গোড়াতেই হাতে পায় ভারত ৷ বছরের শুরুতে করোনার দুই প্রতিষেধক ‘কোভিশিল্ড’ (Covishield) এবং ‘কোভ্যাক্সিন’-কে (Covaxin) জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োগে ছাড়পত্র দেয় ভারত সরকার৷ এই ছাড়পত্রকে ‘দেশের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়’ বলে টুইট করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ জানিয়েছিলেন, দেশকে কোভিডমুক্ত করতে এই পদক্ষেপ খুব জরুরি ছিল৷
ছাড়পত্র পাওয়ার পরই শুরু হয় টিকাকরণ৷ ১৬ জানুয়ারি থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় টিকাকরণ অভিযানের সূচনা হয় ভারতে৷ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রথম সারির কোভিড যোদ্ধা অর্থাৎ চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিস, সাফাইকর্মী এবং জরুরি পরিষেবার সঙ্গে জড়িতদের আগে টিকা দেওয়া হয়৷ ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষকে টিকার আওতায় আনা হয়৷ এপ্রিল-মে মাসে দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কায় সংক্রমণের সংখ্যায় রেকর্ড বৃদ্ধি, করোনায় মৃত্যুমিছিল, গঙ্গায় মৃতদেহ ভাসিয়ে দেওয়া এবং অক্সিজেনের অপ্রতুলতার মধ্যেও মারণ ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যায় কোভিশিল্ড এবং কোভ্যাক্সিনই৷
তাই নানা প্রতিকূলতা টপকে অভিযান শুরুর মাত্র ৯ মাসের মধ্যে ঐতিহাসিক একশো কোটি টিকাকরণের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলে ভারত৷ ২১ অক্টোবর করোনা ভাইরাসে টিকাকরণের সংখ্যা ১০০ কোটি অতিক্রম করে৷ এরপর সময় যত এগিয়েছে একাধিক ছোট রাজ্য এবং কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে ১০০ শতাংশ ডবল-ডোজ কোভিড টিকাকরণ সম্পন্ন হয়েছে৷ সম্প্রতি কেন্দ্রের পরিসংখ্যান বলছে, দেশের জনসংখ্যার ৬১ শতাংশের টিকার দুটি ডোজ নেওয়া হয়ে গিয়েছে৷
আরও পড়ুন: Year Ender 2021: ভারতীয় কমলায় চলছে আমেরিকা