কলকাতা রবিবার, ২৯ মে ২০২২, ০১:০১ ( AM )
শাসক নির্লজ্জ, ভেঙে ফেলা হল লজ্জার স্মারক
শুভাসিশ মৈত্র
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২১, ০৭:১৬:৪৩ পিএম
  • / ২৮২ বার খবরটি পড়া হয়েছে
  • • | Edited By:

গত ২২ ডিসেম্বর রাতের অন্ধকারে হংকং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে ‘পিলার অফ শেম’, লজ্জার স্মারক ভেঙে ক্রেন দিয়ে সরিয়ে ফেলা হল। ১৯৮৯ সালে তিয়েনআনমেন স্কোয়ারে গণতন্ত্রের দাবিতে আন্দোলনে নেমে চিনা ট্যাঙ্কের সামনে যাদের প্রাণ গিয়েছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই সব পড়ুয়াদের স্মৃতিতে তৈরি করা হয়েছিল ২৬ ফুটের ওই স্মারক। প্রায় তিন দশক ধরে ওই স্মারকস্তম্ভ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছিল। হংকং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, অনুমতি ছাড়া বসানো হয়েছিল ওই স্মারক। তাই সেটা ভেঙে গুদামে রেখে দেওয়া হল। বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে দেখা গেল অনেক পড়ুয়ার চোখে জল। কারণ ওই স্মারক একই সঙ্গে হংকং-এর গণতন্ত্রের প্রতীক ছিল। ১৯৯৭ সালে ডেনমার্কের ভাস্কর ইয়েন্স গালশিয়ট এই ভাস্কর্যটি গড়েছিলেন। ভাস্কর্যের গায়ে শিল্পী লিখে রেখেছিলেন, ‘যা পুরোনো তা কখনও নতুনকে হত্যা করতে পারে না’।

চিনে যখন গণতন্ত্রের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা টানা ৫০ দিন ধরে তিয়েনআনমেন স্কোয়ার অবরোধ করে বসেছিলেন সেটা ১৯৮৯ সাল। সময়টা ১৫ এপ্রিল থেকে ৪ জুন। নির্মম ভাবে রাতের অন্ধকারে ট্যাঙ্ক নামিয়ে সেই অবরোধ ভাঙা হয়েছিল। যদিও খুব দ্রুতই তিয়েনআনমেন থেকে বিশ্বের নজর ঘুরে গিয়েছিল ইয়োরোপের দিকে। কারণ সে বছরই পতন হয়েছিল বার্লিন প্রাচীরের। পূর্ব ইয়োরোপে ভেঙে পড়ল সমাজতন্ত্রের নামে চাপিয়ে দেওয়া কমিউনিস্ট পার্টির ডিক্টেটরশিপ। সেই সময়ে চিনের জিডিপি ছিল ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর এখন সেই জিডিপি বেড়ে হয়েছে ১৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের থেকেও বেশি। চিন এখন মহাশক্তিধর দেশ। হংকঙয়ের নাগরিক অধিকার এখন চিনের রোষের মুখে।

বর্তমান চিনে তিয়েনআনমেন স্কোয়ারে নিহত ছাত্র-ছাত্রীদের স্মরণে কোনও সভা বা মিছিল করা যায় না। বিরোধী কণ্ঠের কোনও পরিসর সে দেশে নেই। কিন্তু, হংকং-এর ছাত্র-ছাত্রীরা প্রত্যেক বছর ৪ জুন তিয়েনআনমেন হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মিছিল করেন। ১৯৯৭ সালে হংকং ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্তি পেয়ে চিনের আধীন হয়। চিনের অন্তর্ভুক্ত হয়ে হংকং তার নিজের স্বশাসন রক্ষা করতে পারছে কি না তা বোঝা যেত ওই অনুষ্ঠান পালনের মধ্যে দিয়ে। গত দু’বছর কোভিডের জন্য হংকং-এ ৪ জুন কোনও অনুষ্ঠান হয়নি। এর মধ্যে হংকং-এ জাতীয় নিরাপত্তা আইন বলবৎ করা হয়েছে। শুরু হয়েছে গণতান্ত্রিক হিসেবে পরিচিতদের গ্রেফতার। তাহলে কি সামনের ৪ জুন তিয়েনআনমেন স্কোয়ারের শহিদদের স্মরণ অনুষ্ঠানের অনুমতি আর দেওয়া হবে না হংকং-এ? গণতন্ত্রের সুসময় এখন নয়। সারা পৃথিবীতেই গণতন্ত্র পিছু হটছে। পিলার অফ শেমের উপর এই আক্রমণ তারই অংশ। ভারতে যাঁরা রামমোহন-বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙেন, যাঁরা গান্ধীর ছবিতে কালি লেপে দেন, ত্রিপুরায় যাঁরা লেনিন মূর্তি ভেঙেছিলেন, এ বছর ২৫ ডিসেম্বর যারা যীশুর মূর্তিতে হামলা করেছেন আর হংকং-এ যাঁরা পিলার অফ শেম ভাঙলেন, তাঁরা প্রত্যেকেই এক সারিতে দাঁড়িয়ে। এ সবই হল নানা রঙের পোশাক পরে ফ্যাসিবাদের চর্চা।

  • রাজভবন বনাম নবান্ন

জগদীপবাবু কী বলছেন, কেন বলছেন, কী করছেন, কেন করছেন, যাঁরা বিজেপি সমর্থক, তাঁদের বাদ দিলে, বাকি সবার কাছে বিষয়টা জলের মতো পরিষ্কার। তাঁর একটা রাজনৈতিক অতীত আছে। প্রায় সব রাজ্যপালেরই থাকে। রাজনৈতিক ভবিষ্যৎও যে নেই তা জোর দিয়ে বলা যাবে না। এর শেষ কোথায়? কেউ জানে না। পাঞ্জাবি ভাষায় যিনি আমাদের সংবিধান অনুবাদ করেছিলেন, সুপ্রিম কোর্টের সেই প্রাক্তন বিচারপতি রণজিৎ সিং সারকারিয়াকে মাথায় রেখে, বিরোধীদের প্রবল চাপের মুখে, একটি কমিশন গঠন করেছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। সেটা ১৯৮৩ সালের কথা। রিপোর্ট জমা পড়ল ১৯৮৭ সালে। কমিশন রাজ্যে রাজ্যপাল নিয়োগ সম্পর্কে যে সব প্রস্তাব দিয়েছিল তার মধ্যে অন্যতম হল, রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আছেন কোনও ভাবে, তেমন ব্যক্তিকে রাজ্যপাল নিয়োগ করা অনুচিত। রাজ্যপালের নাম অবশ্যই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে স্থির করা উচিত। যদি কেন্দ্রে এবং রাজ্যে ভিন্ন দলের সরকার থাকে, সে ক্ষেত্রে কখনওই কেন্দ্রের শাসক দলের সঙ্গে কোনও ভাবে যুক্ত কোনও ব্যক্তিকে রাজ্যপাল করে পাঠানো উচিত নয় সেই সব রাজ্যে যেখানে ভিন্ন দলের সরকার আছে। মাননীয় জগদীপ ধনখড়কে রাজ্যপাল করার ক্ষেত্রে এই এই পরামর্শগুলি একটাও মানা হয়নি।  মানা হয়নি কারণ সারকারিয়া কমিশনের পরামর্শ মেনে চলতে হবে এমন সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয়স্তরে এখনও নেওয়া হয়নি। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উচিত যে ক’টি রাজ্যে বিরোধী দলের সরকার আছে তাদের যে ক’জন মুখ্যমন্ত্রীকে পাওয়া যায় তাঁদের নিয়ে একটা কনক্লেভ ডাকা, এবং রাজ্যপালের বিষয়ে সারকারিয়া কমিশনের রিপোর্ট মানতে হবে এই দাবি তোলা। একদিনে হয়তো কিছু হবে না। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে জাতীয় স্তরে একটা বিতর্ক তৈরি না করতে পারলে রাজভবনের রাজনীতি থেকে রেহাই পাওয়ার অন্য কোনও পথ নেই।

  • নির্দয় সাংবাদিকতা-১

বাইরের লোকজন কতটা জানেন বলা মুশকিল, কিন্তু কলকাতার রাজনৈতিক সংবাদদাতারা সবাই জানেন মুকুল রায় গুরুতর অসুস্থ। খবর আছে, তিনি এইমস-এ গিয়েছিলেন ডাক্তার দেখাতে। তাঁর মস্তিষ্কে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে । আরও কিছু সমস্যার কথা জানা গিয়েছে যা এখানে লেখা অনুচিত কাজ হবে। তাঁর দল পিএসির চেয়ারম্যান পদ প্রসঙ্গে তাঁকে নিয়ে একটা রাজনীতি করছে। একজন অসুস্থকে নিয়ে এরকম রাজনীতি নির্মম, কিন্তু রাজনীতি তো শেষ বিচারে নির্মম-ই, ফলে সে প্রসঙ্গে এখন যেতে চাই না। কিন্তু সাংবাদিকতা নির্মম না-ও হতে পারে। অসুস্থ মুকুল রায়ের অসংলগ্ন কথার বাইট নিয়ে যে ধরনের সাংবাদিকতা হচ্ছে তা অমানবিক। রোগীকে নিয়ে পরিহাস নিষ্ঠুরতা। সভ্য সমাজে রোগীর একটা সম্মান প্রাপ্য। সেটা মনে রাখা জরুরি।

  • নির্দয় সাংবাদিকতা-২

হো হো হো হো, হা হা হা হা….. ওরা রাজমিস্ত্রির প্রেমে পড়ে পালিয়েছে। ওরা কারা? দুই গৃহবধূ। গৃহবধূ কাদের বলা হয়? বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যাদের চাকরি করার যোগ্যতা নেই, লেখা-পড়ার সুযোগ যাদের দেওয়া হয়নি, যাদের বাড়িতে স্বামীর অর্থে খেতে হয়, তাদের গৃহবধূ বলা হয়। তারা অবলা। অযোগ্য। এই প্রসঙ্গে রামমোহনের কথাটা একবার মনে করিয়ে দিই। সতীদাহের সমর্থকদের মত ছিল অবলা গৃহবধূরা স্বামীহীন অবস্থায় নিজের যোগ্যতায় বেঁচে থাকতে অক্ষম। তাঁদের বুদ্ধি বেশি নেই। রামমোহন বললেন, ‘…আপনারা বিদ্যাশিক্ষা, জ্ঞানোপদেশ স্ত্রীলোককে প্রায় দেন নাই, তবে তাহারা বুদ্ধিহীন হয় কিরূপে নিশ্চয় করেন?’

এসব অনেক পুরোনো কথা। আজকের সময়ে হয়তো অনেকটাই অচল। কিন্তু পরিবারের রীতি-নীতি ভেঙে নারী-পুরুষের ভালোবাসা, এমন প্রেম কাহিনি তো আমাদের পুরাণ থেকে শুরু করে সাহিত্যে, সিনেমায় এমনকি আমাদের চারপাশে আমরা নিয়মিতই দেখতে পাই। দু’জন স্বাধীন মানুষের সম্পর্ক কী হবে সেটা একমাত্র তাঁরাই ঠিক করতে পারেন। আইন-কানুনে কোথায় কী আটকাচ্ছে তা নিশ্চয়ই আদালত দেখবে। কিন্তু এই দুই মহিলাকে নিয়ে বাংলা খবরের কাগজে এবং টেলিভিসনে যে ধরনের রিপোর্টিং হয়েছে তা ওই দুই মহিলার পক্ষে অসম্মানজনক। এক সময়, এবং এখনও কোথাও কোথাও এই ধরনের কাজের জন্য মহিলাদের পাথর ছুড়ে মারা হয়। তাতে যে সামাজিক উল্লাস থাকে। এই দুই মহিলাকে নিয়ে লেখা রিপোর্ট সেই উল্লাস থেকে মুক্ত নয়। এটা নির্দয় সাংবাদিকতা।

  • হুগলিতে বরফ পড়া অথবা ভাট বকার গল্প

এটা রাজনীতির বিষয় নয়। একটা তুলনায় কম পড়া বইয়ের আলোচনা দিয়ে আজকের লেখা শেষ করা যাক। কলকাতা নিয়ে  চোখে দেখা এবং শোনা কথা, সংকলন করেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দের ছোট ভাই মহেন্দ্রনাথ দত্ত। বইয়ের নাম, ‘কলিকাতার পুরাতন কাহিনি ও প্রথা’। সে বই শুরু হচ্ছে এই ভাবে- ‘ কলিকাতা শহর এখনকার হিসাবে দুই আনা বা ছয় পয়সার শহর ছিল। অর্থাৎ তিনি যে সময় লিখছেন তার থেকে তাঁর বইয়ের পুরোনো কলকাতা ছিল আট ভাগ (১৬ আনায় এক টাকা ধরলে) ছোট। কেমন ছিল সেই কলকাতা? মহেন্দ্র দত্ত তাঁর বইয়ের প্রথম পরিচ্ছেদে লিখছেন- ‘ দিনে শকুনির উৎপাত, রাত্রে শেয়ালের উৎপাত।  হাতিবাগান অরণ্য বীজবন ছিল। লোকজনের বাস ছিল না। প্রকাণ্ড মাঠ, মাঝে মাঝে ঝোপ, ডোবা, ও কাঁটানটের ঝাড়….রাস্তায় একলা গেলে জিনিসপত্র কাড়িয়া লইত। গ্রে স্ট্রিট বাহির হইবার পর সে মাঠটি টুকরা টুকরা করিয়া বিক্রয় হয় এবং লোকে খণ্ড খণ্ড করিয়া জমি খরিদ করিয়া বসতি করিতে লাগিল’।

মহেন্দ্রনাথ দত্ত (১৮৬৮- ১৯৫৬), ১৮৯৬ সালে ইংল্যান্ডে আইন পড়তে যান। কিন্তু আইন তিনি সেখানে পড়েননি।  সেখানে তিনি ইতিহাস, দর্শন, বিজ্ঞান, সাহিত্য, শিল্প, স্থাপত্য, ধর্ম ইত্যাদি বিষয়ে লেখা-পড়া করে, বহু দেশ বিদেশ (অনেক সময়ে পায়ে হেঁটে) ঘুরে ১৯০২ সালে কলকাতায় ফিরে আসেন। তিনি ৯০টি বই লিখেছিলেন বিভিন্ন বিষয়ে। তাঁকে নিয়ে খুব একটা কাজ বা চর্চা এখনও হয়নি।

পুরাতন কলকাতার শীতকাল নিয়ে মহেন্দ্র দত্ত লিখেছেন, ‘সর্বত্র পুকুর, কানাচ ও বাগান থাকায় হাওয়া জোরে আসিত এবং ঠন্ডা বড় বেশি হইত। গোলপাতা বা খোলার ঘর- এই ছিল সাধারণের গৃহ। কোঠাবাড়ি তখন অল্প লোকের ছিল।…সেই জন্য শীত বেশি বলিয়া বোধ হইত। পাড়ার বৃদ্ধ মধু মুখুজ্জ্যের নিকট শুনিতাম যে হুগলিতে গুঁড়ি গুঁড়ি বরফ পড়িত’।

তখনও বাড়িতে চটি পরার চল হয়নি। ‘…বড় হইলে ঠনঠনের চটি পায়ে দিয়াছি।…ছোট চটি ছয় আনা বড় চটি দশ আনা মাত্র ছিল। নিমন্ত্রণ খাইবার সময়ে জামা ছিল চিনের কোট। অর্থাৎ বুকটি লম্বা চেরা, তাহাতে গোল গোল হাড়ের বোতাম কাপড় দিয়ে মোরা। কলিকাতার হাড়কাটা গলিতে এই বোতাম তৈরি হইত, এই জন্য স্থানটির নামও তাহাই হইয়াছিল’।

কলকাতায় এখন কুকুর, বিড়াল দেখা যায়। মহেন্দ্র দত্তের কথায়, ‘…মানিকতলায় তখন সব বাগান ছিল। বড় বড় গাছ থাকায় অনেক বাঁদর থাকিত এবং হনুমানও কিছু কিছু থাকিত। …..আমাদের ঠাকুর দালানে অনেক বাদুর ঝুলিত এবং কিচমিচ করিয়া সব সময়ে আওয়াজ করিত’।

পুরোনো কলকাতার লোক নাকি সব বড় বড় ছিল! মহেন্দ্র দত্তের কথায়, ‘ তখনকার লোকের শরীরের আয়তন এখনকার লোক হইতে অনেক বড় ছিল। এখন মাঝে মাঝে সেই আয়তনের লোক দেখিতে পাওয়া যায়- খুব লম্বা-চওড়া, হাত লম্বা লম্বা, বলিষ্ঠ ও বুক চাটালো। আমাদের পিতা মহোদয়ের আয়তন হিসাবে নরেন্দ্রনাথ খর্বাকৃতি ছিল, এই জন্য ন’ঠাকুরদাদা গোপাল দত্ত আদর করিয়া নরেন্দ্রনাথকে ‘বেঁটে হালা’ বলিয়া ডাকিতেন’।

বরফ এবং আপেলের কলকাতা আগমন।  ‘কলিকাতার লালদিঘির ধারে বরফের গুদাম ছিল। কানাডা হইতে মাল লইবার জন্য খালি জাহাজ আসিত। সেই জাহাজে ভারসাম্য রাখিবার জন্য চাপ চাপ বরফ আসিত। …ছোটকাকা কাছারি হইতে আসিবার সময়ে কখনও কখনও ঘোড়ার কম্বলে মুড়িয়া বরফ আনিতেন, সেই বরফ করাতের গুড়া দিয়া রাখিতে হইত। সে এক আশ্চর্য ব্যাপার। যাহারা গোঁড়া হিন্দু তাহারা খাইত না। আমাদের বাটিতে বিধবারা খাইত না। আমরা লুকাইয়া লুকাইয়া একটু আতটু খাইতাম। তাই জাতটি অত শীঘ্র যায় নাই। লোকের মুখে শোনা গেল আপেল বলিয়া একটি জিনিস আছে। তাহা সাহেবরা খায়, তাই ওদের অত বুদ্ধি, কিন্তু বহু দিন তাহার দর্শন পাই নাই। অবশেষে শোনা গেল যে বরফের ভিতরে করিয়া এক রকম ফল আসে, টাকায় তিনটি বা চারটি।  একবার এক টাকায় চারটি আপেল আনিয়া আমরা সব ভাই-বোনে একটু একটু করিয়া মুখে দিলাম। পাতলা পাতলা এক চাকা করিয়া ভাগে পড়িল। কিন্তু ইহার বিশেষত্ব কী, কিছুই বুঝিতে পারিলাম না’।

বই থেকে আরও যা যা মহা মূল্যবান কথা বার্তা জানে গেল তা এরকম। তখন বাড়ির চাকরদের গোঁফ রাখতে দেওয়া হত না। বাড়ির চাকর গোঁফ নাচিয়ে কথা বলবে তা অপমানজনক মনে করা হত। তখন  পাতকুয়ায় ভূত থাকত। কিন্তু সেটা আসলে গল্প। পাতকুয়ার কাছে ছোটরা যাতে না যায়, তাই এই কথা বলা হত। বাড়িতে আসত শকুনের ঠোঁটের মুখোশ পরা বাঁশবাজিওয়ালারা। পয়সা চাইত। পয়সা না দিলে শকুনের ঠোঁট দিয়ে ঠুকরে দিত। তিনি দেশ ভ্রমণে গিয়ে বুলগেরিয়া, সারবিয়া এবং রুমানিয়ায় এই ধরনের বাঁশবাজি দেখেছেন।

আজকাল রাজনৈতিক নেতাদের সম্পর্কে অনেকেই বলেন, ‘ভাট বকছে’। মহেন্দ্রনাথ লিখেছেন, তখন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এক ধরনের লোক আসত। তাদের বলা হত ‘ভাট’। ভাট এসে বিভিন্ন বংশের প্রশংসা করত। আর যদি ঠিক ঠাক দক্ষিণা না পেত তখন বানিয়ে বানিয়ে আজে বাজে কথা বলে নিন্দা করত। তাই ভাটদের লোকে এড়িয়ে চলত।

হয়তো,  হয়তো ‘ভাট বকা’ কথাটা ওখান থেকেই এসেছে।

আর্কাইভ

এই মুহূর্তে

প্রস্তুতি ম্যাচে জর্ডনের কাছে হেরে গেল সুনীল ছেত্রীর ভারত
রবিবার, ২৯ মে, ২০২২
চতুর্থ স্তম্ভ: মহার্ঘ ভাতা, কতটা মহার্ঘ?
শনিবার, ২৮ মে, ২০২২
Yogi Adityanath: সরকারি কারখানায় মহিলাদের কাজের সময়সীমা বেঁধে দিল যোগী সরকার
শনিবার, ২৮ মে, ২০২২
Bengaluru: যান আটকে জটে, গিয়ার ‘বেচে’ কটাক্ষ গাড়ি চালকের
শনিবার, ২৮ মে, ২০২২
African lioness: সাপের কামড়ে মৃত্যু গঙ্গার, নন্দনকানন হারল আফ্রিকান সিংহী
শনিবার, ২৮ মে, ২০২২
চশমার কাঁচ পরিষ্কার করার সময় এই ভুলগুলো করবেন না
শনিবার, ২৮ মে, ২০২২
BJP Rally: বিজেপির মিছিলে ধুন্ধুমার, রণক্ষেত্র যাদবপুরে মাথা ফাটল পুলিসের
শনিবার, ২৮ মে, ২০২২
Vastu & dining room: বাস্তু মতে ডাইনিং রুম এভাবে সাজালে সংসারে সুখ-সমৃদ্ধির অভাব হবে না
শনিবার, ২৮ মে, ২০২২
Coochbehar Road Accident: চায়ের দোকানে ঢুকে ডাম্পারের চাকা পিষে দিল চারজনকে, তুফানগঞ্জে উত্তেজনা
শনিবার, ২৮ মে, ২০২২
শহর মাতালেন কার্তিক আরিয়ান
শনিবার, ২৮ মে, ২০২২
Tiljala Bomb: তিলজলায় ফলের ঝুড়িতে বোমা! চাঞ্চল্য এলাকায়
শনিবার, ২৮ মে, ২০২২
KMC: কাজের সুবিধার জন্যই পুরসভায় বদলি, জানালেন মেয়র
শনিবার, ২৮ মে, ২০২২
Bangladeshi: অনুপ্রবেশকারীদের জাল পরিচয়পত্র তৈরির চক্র, সিআইডির জালে ৭ প্রতারক
শনিবার, ২৮ মে, ২০২২
J&K Encounter: নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াই, অনন্তনাগে খতম ২ সন্ত্রাসবাদী
শনিবার, ২৮ মে, ২০২২
Jhargram: পাকা রাস্তার দাবিতে টানা ৩০ ঘন্টা রাস্তা অবরোধ ঝাড়গ্রামের সাঁকরাইলে
শনিবার, ২৮ মে, ২০২২
© R.P. Techvision India Pvt Ltd, All rights reserved.
Developed By KolkataTV Team