কলকাতা বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ০৭:৩৮ ( AM )
চতুর্থ স্তম্ভ: ভ্যাক্সিন নিয়ে ছেলেখেলা
সম্পাদক
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৫ জুলাই, ২০২১, ১১:৪২:১৪ পিএম
  • / ৮৭ বার খবরটি পড়া হয়েছে
  • • | Edited By:

এডওয়ার্ড প্রাইস, আমেরিকার মিডিয়া তাঁকে ডাকে নেড প্রাইস বলে। ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তে প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন, তিনি সিআইএ থেকে অবসর নিচ্ছেন, কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে কাজ করা সম্ভব নয়। ট্রাম্প বিদেয় হয়েছে, ঘটা করেই হয়েছে। আপাতত নেড প্রাইস আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র, স্পোকস পারসন। আর এটাও মাথায় রাখবেন, দেশটা আমেরিকা, ওদেশের মুখপাত্র এ দেশের সম্বিত পাত্র নয়, কর্তার ইচ্ছেয় কর্ম করাটা ওদেশে অনেকেরই ধাতে নেই, নেড প্রাইস তো এরই মধ্যে সে বিষয়ে নাম কিনেছেন। সেদেশের মিডিয়া, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে, মিঃ প্রেসিডেন্ট বলে মিনিট কুড়ি বেজায় তর্ক করার অধিকার রাখেন, করেনও। ট্রাম্প জমানায় অমন ছবি আমরা বহুবার দেখেছি, এবং সেদেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে হামেশাই মিডিয়ার সামনে দাঁড়াতে হয়, সাধারণ অবস্থায় স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র, মিডিয়ার সব প্রশ্নের জবাব দিয়ে থাকেন।

সেই মুখপাত্র, নেড প্রাইস গত সোমবার ১৩/০৭/২০২১, সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন, স্বভাবতই কিউবা নিয়ে প্রশ্নের ঝড় বয়ে যায়, না আজ আমরা কিউবা নিয়ে কথা বলতে আসিনি, সেসব প্রশ্নোত্তর চুকে গেলে, ভ্যাক্সিন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এবার সেই প্রশ্নোত্তরের বাংলা অনুবাদটা শোনাই, সাংবাদিক প্রশ্ন করছেন, “টেড, আমাকে জানাতে পারেন ভারতকে কত ভ্যাক্সিন দেওয়া হয়েছে? ভারত কি ভ্যাক্সিন পেয়েছে?”

টেড প্রাইস জবাব দিচ্ছেন, as you know, the United States will share 80 million doses from our domestic stockpile with countries around the world. Before we can ship those doses, however, each country must complete its own domestic set of operational, of regulatory, and legal processes that are specific to each country. Now, India has determined that it needs further time to review legal provisions related to accepting vaccine donations. Once India works through its legal processes, our donations of vaccines to India will proceed expeditiously. We would need to refer you to the Government of India on the status of its discussions with COVAX, which, in this case, is helping to facilitate that delivery.

তিনি বললেন, আপনারা জানেন, আমেরিকা ৮০ কোটি ভ্যাক্সিন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশকে দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু আমরা সেগুলো পাঠানোর আগে সেই দেশগুলোকে তাদের দেশের নিয়ম কানুন, পদ্ধতি সম্পূর্ণ করতে হবে, বিভিন্ন দেশে এই নিয়ম বিভিন্ন রকম। এখন ভারত তাদের আইনি পদ্ধতি শেষ করার জন্য আরও কিছু সময় চেয়েছে, তাদের সেই সব রীতি পদ্ধতি, ফর্মালিটি শেষ হবার পরেই, আমরা তাদের ভ্যাক্সিন পাঠিয়ে দেবো। আপনি যদি এই আলোচনা ভারতের সরকারের কানে তুলে দেন, তাহলে সম্ভবত এই কাজ আরও তাড়াতাড়ি করা যাবে।
এই আলোচনার মধ্যেই নেড প্রাইস জানাচ্ছেন যে, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, নেপালকে এই ভ্যাক্সিন পাঠানো হয়ে গেছে, তারা পেয়েও গেছে।
তার মানে বিষয়টা এমন যে আমাদের আমেরিকা ভ্যাক্সিন দিতে রাজী, কিন্তু আমাদের আমলাতান্ত্রিক গড়িমসির ফলে সে ভ্যাক্সিন এখনও দেশে এল না।
এটা হল এক দিকের ছবি, অন্য দিকের ছবিটা দেখা যাক। আমাদের প্রধান সেবক সবকিছুকেই একটা ইভেন্ট তৈরি করতে চান, করোনা এসেছে, থালা বাজাও, দেশ শুদ্ধু লোক থালা বাজালো, করোনা বাড়ছে, দিয়া জ্বালাও। দিয়া জ্বালানো হল। প্লেনে করে ফুল ছেটাও। নানা রকমের ইভেন্ট না হলে ওনার মন ভরে না, নিত্য নতুন চমক, নিত্য নতুন জামা কাপড় পরে উনি ছবি তোলাবেন। প্রথম ঢেউ গেলো, সব্বাই জানে দ্বিতীয় ঢেউ আসছে, উনি বসে রইলেন, লাশ ভাসলো নদীতে, নদীর চরে লাশ ফেলে এল মানুষজন। এরপর ভ্যাক্সিন। ১৪ জুন থেকে ২০ জুন পর্যন্ত ৩৩ লক্ষ ৯৭ হাজার টিকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মোদিজির রেকর্ড চাই, বিশ্ব রেকর্ড। ২১ জুন এক ধাক্কায় ৮৮ লক্ষ ভ্যাক্সিন দেওয়া হল, বাজনদাররা নেমে পড়ল মাঠে, দেখেছো, দেখেছো, মহান রাজার রাজত্বে নতুন রেকর্ড, ভ্যাক্সিন দিয়ে আমরা বিশ্ব রেকর্ড করেছি, প্রতিটা ন্যাশনাল চ্যানেলে সেই ভেঁপু বাজতে থাকলো, কেউ বললো না ক’দিন আগে ১৭ দিন ধরে ১ কোটির বেশি ভ্যাক্সিন দিয়েছে চীন, নেচার পত্রিকায় তা ছাপাও হয়েছে। তবুও আমরা ভাবলাম, বেশ তো আমাদের দেশে এক কোটি নাই বা হল, অন্তত ৮৮ লক্ষ তো হয়েছে, তাই বা কম কী? তারপর দেখা গেলো সেখানেও জোচ্চুরি, তার আগের বেশ ক’টা দিন ধরে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে ভ্যাক্সিন দেওয়া বন্ধ বা প্রায় বন্ধ রাখা হয়েছিল, যারাই এসেছেন তাঁদের বলা হয়েছে ২১ জুন আসুন। তাঁরা এসেছেন, ২১ জুন রেকর্ড, ৮৮ লক্ষ। হাততালি, কাঁসর ঘন্টা সব বাজার পরে ২২ জুন থেকে টিকা দেবার সংখ্যা আবার নীচের দিকে, সরকারি তথ্য বলছে, ২১ এর পর থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত আমাদের দেশে গড়ে ৬১ লক্ষ ১৪ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে, ৫ জুলাই থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত আরও কমেছে, ৩৪ লক্ষ ৩২ হাজার। দু’দিন আগের খবর রাজ্য, কেন্দ্র শাসিত সংস্থার কাছে ১ কোটি ৫৪ লক্ষ ভ্যাক্সিন আছে। মানে ৭৭ লক্ষ মানুষকে দুটো ডোজ দেওয়া যাবে। এদিকে মোদিজির প্রতিশ্রুতি তো ছোট হয় না, ওনার বক্তব্য ২০২১ ডিসেম্বরের মধ্যে ১৮ বছরের ওপরে প্রত্যেককে ভ্যাক্সিন দেওয়া হবে। ওনার ৫ ট্রিলিয়ন ইকোনমির মত আরেকটা মিথ্যে প্রতিশ্রুতি, কালো টাকা ফিরিয়ে এনে দেবার মিথ্যে প্রতিশ্রুতি, পেট্রোল ডিজেলের দাম কমানোর মিথ্যে প্রতিশ্রুতির মত আবার একটা বড় মিথ্যে। আসুন একটু অঙ্ক করা যাক, সুপ্রিম কোর্টে এই বিষয়ে তথ্য দিয়েছে খোদ মোদি সরকার, তাতে বলা হয়েছে ১৮ র ওপর মানে হল কমবেশি ৯০ কোটি মানুষ। মানে এই জুলাই থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে মোদিজি ৯০ কোটি মানুষকে ভ্যাক্সিন দেবেন, যাদের এখনও একটা ডোজও দেওয়া হয়নি। ৯০ কোটি মানুষকে দুটো ডোজ দিতে হলে লাগবে ১৮০ কোটি ভ্যাক্সিন। আমাদের কাছে সময় কত আছে? ১৭০ দিনের মত সময় আছে। তার মানে আমাদের দেশে প্রতিদিন ১ কোটিরও বেশি মানুষকে ভ্যাক্সিন দিতে হবে, একমাত্র তাহলেই মোদিজির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ হবে। এদিকে প্রচুর জোচ্চুরি করেও দিনে ৮৮ লক্ষের বেশি ভ্যাক্সিন দেওয়া যায়নি, গড়ে ৪৬/৪৮ লক্ষ মানুষকে ভ্যাক্সিন দেওয়া গেছে। তার মানে ভ্যাক্সিন থাকলে, এরমধ্যে কোভিডের তৃতীয় ঢেউ এসে সবকিছু আবার এলোমেলো না করে দিলে ২০২২ এর মে, জুন নাগাদ এই ৯০ কোটি মানুষকে ভ্যাক্সিন দেওয়া যাবে। কিন্তু আরও একটা বড় সমস্যা আছে, ভ্যাক্সিনটা কোথায়? আসবে কোথা থেকে, যে সময়ে বিশ্বে সব দেশ ভ্যাক্সিনের স্টক বাড়াচ্ছিল, তখন মোদিজি বাংলাতে সভা করছিলেন, চোলায় চোলায় বাঝভে জোয়ের ভেড়ি, মনে আছে? আমাদের কাছে অত ভ্যাক্সিন নেই। তাহলে? তাহলে যোগাড় করতে হবে, এখন এটা তো পরিস্কার যে ১০০% ভ্যাক্সিনেশন ছাড়া অর্থনীতির চাকা ঘোরানো যাবে না, যত তাড়াতাড়ি হোক আমাদের ভ্যাক্সিন চাই, ভ্যাক্সিন জোগাড় করাটা এখন প্রথম প্রায়োরিটি, পয়লা কাজ। কিন্তু আসলে কী ঘটছে? গতকাল আমারিকার স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র নেড প্রাইস সাফ জানালেন, আমরা তো ভ্যাক্সিন দিতে চাই, কিন্তু ভারত এখনও তাদের নিজেদের রীতি পদ্ধতি ঠিক করতে পারেনি, এবং সেই জন্য ভ্যাক্সিন নিতে পারেনি।
এর আগেও মোদি সরকারের এই অপদার্থ চেহারা আমরা দেখেছি, বিভিন্ন দেশ থেকে ভেন্টিলেটর, একমো ইত্যাদি যন্ত্রপাতি এসে বন্দরে পড়ে রয়েছে, সরকার কি পদ্ধতিতে সেগুলো নেবে সেটা ঠিক হয়নি বলে সেগুলো পড়ে আছে, হাসপাতালে পৌঁছয়নি।
আসলে আমরা এক অপদার্থ সরকারের হাতে পড়েছি, সরকার চালানোর ন্যূনতম যোগ্যতা যাদের নেই, যাদের একের পর এক ভুল সিদ্ধান্তের ফলে দেশের অর্থনীতি সমাজনীতি ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে, দেশের মানুষের ভ্যাক্সিন নেই, ভ্যাক্সিন আনার ব্যবস্থা নেই, মোদি শাহের এই রাজত্বের অবসানই একমাত্র পথ যা এই দুর্দশা থেকে আমাদের মুক্তি দিতে পারে।

আর্কাইভ

এই মুহূর্তে

গড়িয়াহাট থানার কাছে জুতোর গোডাউনে আগুন
বুধবার, ২৮ জুলাই, ২০২১
জন্মদিন পালনে মহিলার দুল ছিন্তায় ইঞ্জিনিয়ারের
বুধবার, ২৮ জুলাই, ২০২১
ঝাড়খন্ডে সরকার ফেলতে কোটি টাকার টোপ, তদন্তে দিল্লি যাবে পুলিশ
বুধবার, ২৮ জুলাই, ২০২১
লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে টাকা পেতে প্রয়োজনীয় নথি
বুধবার, ২৮ জুলাই, ২০২১
অক্সিজেনের অভাবে শত শত মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, দাবি বিজেপি বিধায়কের
বুধবার, ২৮ জুলাই, ২০২১
মোদি-মমতার এডিট ছবি নিয়ে তোলপাড় নেটপাড়া
বুধবার, ২৮ জুলাই, ২০২১
এএফসি কাপের প্রস্তুতি শুরু এটিকে-মোহনবাগানের
বুধবার, ২৮ জুলাই, ২০২১
জাতীয় রাজনীতির রোডম্যাপ ঠিক করতে মমতা-সোনিয়া হাইভোল্টেজ বৈঠক
মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই, ২০২১
চতুর্থ স্তম্ভ: রাষ্ট্রপতি ভবনে কে?
মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই, ২০২১
কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেবেন ইয়েদুরাপ্পার আস্থাভাজন বোম্মাই
মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই, ২০২১
রিপোর্টে কেন ‘কুখ্যাত দুষ্কৃতী’ হিসেবে উল্লেখ? হাইকোর্টে মামলা জ্যোতিপ্রিয় পার্থর    
মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই, ২০২১
BREAKING দিল্লির নতুন পুলিশ কমিশনার রাকেশ আস্থানা
মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই, ২০২১
বাবার মৃত্যু যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে আত্মঘাতী ছেলে
মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই, ২০২১
ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির এজলাসে অংশগ্রহণ নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত আইনজীবীরা
মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই, ২০২১
বাংলার টিকা নিয়ে তৃণমূল-বিজেপি ‘তু তু ম্যায় ম্যায়’
মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই, ২০২১
© R.P. Techvision India Pvt Ltd, All rights reserved.
Developed By KolkataTV Team