তামিলনাড়ু: কথায় বলে ভারতে (India) তেত্রিশ কোটি দেবতার বাস। আর তাই নানা দেবতার পূজা অর্চনা করার জন্য প্রাচীন কাল থেকেই রাজা মহারাজেরা নানান মন্দির স্থাপন করেছেন। শুধু ধর্মীয় গাম্ভীর্য নয়, স্থাপত্য শৈলি এবং দৃষ্টিনান্দনিকতার দিক থেকেও এই মন্দিরগুলি এক একটি দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে। এর মধ্যে এমনই একটি তামিলনাড়ুর (Tamil Nadu) তাঞ্জাভুরের বৃহদেশ্বর মন্দির (Brihadeeswara Temple)। নানা ঘটনার সাক্ষী হাজার বছর এই পুরনো এই নটরাজ মন্দির। অনেকে যাকে রাজরাজেশ্বর বা রাজরাজেশ্বরম মন্দির বলেও ডাকে।
কথিত আছে, একাদশ শতাব্দিতে ১০০৩ থেকে ১০১০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে তামিল রাজা রাজা চোল প্রথম এই মন্দির নির্মাণ করেন। মন্দিরে লিপি খোদাই করা আছে। তা থেকে জানা যায় যে, এই মন্দিরের প্রধান স্থপতি ছিলেন কুঞ্জর মল্লন রাজা রাজা পেরুনথাচান। মন্দিরের মূল ফটকে রয়েছে ১৬ ফুট লম্বা ও ১৩ ফুট চওড়া নন্দী বা ষাঁড়ের মূর্তি। মন্দিরের নীচে রয়েছে অসংখ্য সুড়ঙ্গ। অতীতে নাকি এই সব সুড়ঙ্গ দিয়েই অন্য মন্দিরে যাওয়া যেত। যেতেন রাজা, রানি, সাধু, সন্ত, পুরোহিত ও অন্যান্যরা। যদিও এখন বেশিরভাগ সুড়ঙ্গপথই বন্ধ।
আরও পড়ুন:Save Amazon | অ্যামাজনকে রক্ষা করতে হবে রাজা তৃতীয় চার্লসের রাজ্যাভিষেকে সরব বিশ্ব নেতারা
মন্দিরের নির্মাণশৈলী অপূর্ব। গোটা মন্দিরটি তৈরি হয়েছে ইন্টারলকিং পদ্ধতিতে। ব্যবহার করা হয়নি কোনও প্লাস্টার, আঠা, সিমেন্ট। বিশাল সব গ্রানাইট পাথর কেটে গোটা মন্দির তৈরি করা হয়েছে। এটি বিশ্বের প্রথম মন্দির যেটি সম্পূর্ণভাবে গ্রানাইট পাথরে তৈরি। এই মন্দির নির্মাণে ১,৩,০০০ টন গ্রানাইট ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অনুমান। বৃহদেশ্বর মন্দিরের চূড়ার উচ্চতা ২১৬ ফুট। যার মাথায় রয়েছে প্রায় ৮০ টন ওজনের একটি গম্বুজ। মন্দিরের কারুকাজে ফুটে উঠেছে সে সময়ের সমৃদ্ধি ও জীবনবোধ। ইতোমধ্যেই এটিকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট-এর তকমা দিয়েছে ইউনেসকো। তাদের খাতায় এটি ‘গ্রেট লিভিং চোলা টেম্পলস’ হিসেবে চিহ্নিত।
চেন্নাই থেকে ৩৫০ কিলোমিটার দূরে কাবেরী নদীর দক্ষিণ তীরে অবস্থিত এই মন্দির। যার আয়তন পূর্ব-পশ্চিমে ৭৯০ ফুট। উত্তর-দক্ষিণে ৪০০ ফুট। মন্দিরের মূল বিগ্রহের উচ্চতা ৩.৭ মিটার। এছাড়াও রয়েছে পাঁচ মিটার লম্বা নৃত্যরত শিবের মূর্তি। এই মন্দিরের অন্যতম বিশেষত্ব, দুপুরে যখন সূর্য ঠিক মাথার ওপরে থাকে, তখনও মন্দিরের চূড়া বা গোপুরমের ছায়া জমিতে পড়ে না।