কলকাতা: সর্বসম্মত ভাবে তৃণমূলের সভানেত্রী নির্বাচিত হয়ে ফের একবার চড়া সুরে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়কে (Jagdeep Dhankhar) নিশানা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ‘ঘোড়ার পাল’-এর তুলনা টেনে কটাক্ষ করলেও একটি বারের জন্যও ‘রাজ্যপাল’ বা জগদীপ ধনখড়ের নামোল্লেখ করেননি তৃণমূল সুপ্রিমো (Mamta Vs Dhankhar)।
মমতার খোঁচা, এ রাজ্যে এখানে একটা ঘোড়ার পাল পাঠিয়েছে। ২৬ জানুয়ারি কলকাতা মাউন্টেড পুলিসের একটা ঘোড়াকে দেখলাম। সে-ও ওই ‘ঘোড়ার পাল’কে সহ্য করতে পারছে না! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘ঘোড়ার পাল’ খোঁচা যে রাজ্যপালের উদ্দেশে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সাধারণতন্ত্র দিবসে রেড রোডে মাউন্টেড পুলিসের কুচকাওয়াজের সময় হাঠাত্ই একটি ঘোড়াকে দেখা যায়, রাজ্যপালের সামনে পিছন ঘুরে দাঁড়াতে। নেহাতই কাকতলীয় ঘটনা। কিন্তু, সেই ভিডিয়ো সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল হতে সময় লাগেনি। তৃণমূল ‘সুপ্রিমো’র তির্যক মন্তব্য ওই ঘটনাকে মনে রেখেই।
রাজ্যপালের উদ্দেশে মমতার তোপ, ‘উনি সবজান্তা। খুন, হিংসা, নারী নির্যাতন ছাড়া বাংলায় আর কিছু ওনার চোখে পড়ে না। দূরবিন দিয়ে এগুলোই শুধু দেখতে পান। কথায় কথায় ‘১১৯’ দেখান। উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি, গুজরাতে কী চলছে, উনি দেখতে পান না।’
রাজ্যপাল উঠতে-বসতে দিনেরাতে সরকারের পদস্থ আধিকারিকদের ডেকে পাঠানোয় তিনি যে ক্ষুব্ধ, তা-ও আবার বুঝিয়ে দেন। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘উনি যখন-তখন মুখ্যসচিব থেকে শুরু করে সরকারি আধিকারিকদের ডেকে পাঠাচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রীর অনুমতি না নিয়েই আধিকারিকদের ডেকে পাঠানো হচ্ছে। সরকারি কাজে হস্তক্ষেপ করছেন।’
রাজ্যপাল যে রাজভবনে বসে রাজনৈতিক দলের মুখপাত্রের মতো আচরণ করেন, সেই অভিযোগ তৃণমূলের তরফে বারবার করা হয়েছে। এ দিন রাজ্যপালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে খোঁচা দেন মুখ্যমন্ত্রী। ‘উনি তো কোনও দিন কাউন্সিলর ভোটে পর্যন্ত জেতেননি। ১০বার দলবদল করেছেন।’
আরও পড়ুন: Jagdeep Dhankhar And Mounted Horse: রাজ্যপালকে ‘পশ্চাৎদেশ’ মাউন্টেড ঘোড়ার, এ লগনেও ‘অপমানিত’ ধনখড়
দু-দিন আগেই রাজ্যপালকে টুইটারে ব্লক করেন মুখ্যমন্ত্রী। এ সিদ্ধান্তের জন্য সাংবাদিক বৈঠকে দুঃখপ্রকাশও করেন। এদিনও ক্ষুব্ধ ভাবে বলেন, ‘আরে আমাকে দিনরাত গালি দিচ্ছেন। আবার আমাকেই ট্যাগ করছেন। আর কোনও কাজ নেই।’ মা ক্যান্টিনে ৫ টাকায় ডিম-ভাত খাওয়ানোর হিসেব তিনি কেন রাজ্যপালকে দিতে যাবেন, তা-ও বলেন। এ দিন মমতার বক্তব্যে রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাতে নতুন কোনও মাত্রা যোগ হয়নি ঠিকই। কিন্তু রাজ্যপালের ভূমিকায় তিনি কতটা বিরক্ত, তা আবারও বুঝিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।