সেই ১৯৫৭ সালে কলকাতায় এসেছিলেন তিনি। তখন তাঁর বয়স ছিল একুশ বছর। এই শহরেই ৬৪টি শীত বসন্ত কাটিয়ে ভারতীয় হকির কিংবদন্তী গুরবক্স সিং কলকাতার পাট চুকিয়ে গুরগাঁওয়ে চলে গেলেন। জন্ম ১৯৩৬ সালের ১১ ফেব্রূ্যারি। সেই বিচারে তাঁর বয়স এখন পঁচাশি। এই বয়সে স্ত্রীকে নিয়েই পার্ক সার্কাসের ফ্ল্যাটে থাকতেন গুরবক্স। কিন্তু তাঁর ছেলে কিছুতেই বাবা-মাকে কলকাতায় রাখতে চাইছিলেন না। একে তো বয়স হয়েছে। তার পর দুজনেই কমবেশি অসুস্থ। বিশেষ করে গুরবক্সের স্ত্রী, যাঁর নামও গুরবক্স, একটু বেশিই অসুস্থ। তাই পুত্রের ডাকে সাড়া দিয়ে সস্ত্রীক গুরবক্স চলে গেলেন গুরগাঁওয়ে। তবে কখনও যদি কলকাতায় আসার দরকার হয়, তাই ফ্ল্যাটটি রেখে দিলেন তালা দিয়ে।
গুরবক্স সিংয়ের সঙ্গে এ শহরের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। এখান থেকেই তিনি তিনটি আলিম্পিক খেলেছেন। ফুল ব্যাক ছিলেন গুরবক্স। সেই ষাটের দশকে ভারতীয় দলের হয়ে তিনটি অলিম্পিক খেলা কম কথা নয়। ১৯৬০-এ ভারত রানার্স হয়। ১৯৬৪ সালে হয় অলিম্পিক হকিতে সোনাজয়ী। পরের ১৯৬৮ অলিম্পকে গুরবক্স ছিলেন ভারতের যুগ্ম অধিনায়ক। সেবার ভারত হয়েছিল ব্রোঞ্জ পদকজয়ী। এরই মধ্যে ১৯৬৬ সালে ব্যাঙ্কক এশিয়ান গেমসে পেয়েছেন সোনার পদক। অর্জুন পুরস্কারজয়ী গুরবক্সকে ভারত সরকার আর তেমন কোনও সম্মান না দিলেও কলকাতা তাঁকে উজার করে দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে ২০১৩ সালে দিয়েছে বঙ্গবিভূষণ সম্মান। মোহনবাগান ক্লাব দিয়েছে মোহনবাগানরত্ন। ইস্ট বেঙ্গল ক্লাব দিয়েছে ভারতগৌরব সম্মান। দীর্ঘ দিন তিনি রাজ্য হকি সংস্থার সচিব ছিলেন। সব মিলিয়ে গুরবক্স ছিলেন কলকাতার একজন সম্মানিত নাগরিক। বয়সের কারণে সেই নাগরিক কলকাতা ছেড়ে চলে গেলেন গুরগাঁও। পড়ে রইল গুরবক্সকে নিয়ে শহরের অজস্র স্মৃতি।