বাঁকুড়া: দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে শিকল বাঁধা জীবন কাটছে প্রশান্ত মান্ডির। জঙ্গলমহলের সিমলাপালের শালবনী গ্রামের বাসিন্দা সে। চাকরি না পেয়ে মেধাবী স্নাতক ছাত্রের জীবন এখন শিকলবন্দি। বছর পাঁচেক ধরে স্বাভাবিক জীবন হারিয়ে ফেলে সে। মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে বাড়িতে শিকল বাঁধা জীবন কাটছে তাঁর।
আরও পড়ুন: কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির পোস্টার
প্রশান্ত মাণ্ডি এলাকায় মেধাবী ছাত্র হিসেবেই পরিচিত। পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্ম্মু মহাবিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাশ করেন তিনি। এরপর আর ৫ জনের মতোই চাকরির চেষ্টা শুরু করে সে। সব কিছু ঠিকই ছিল। বেশ কয়েকবার বিফল মনোরথ হয়েও হাল ছাড়েননি প্রশান্ত। ২০১৬ সালে একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে পার্শ্ব শিক্ষকের ইন্টারভিউ দিয়ে বাড়ি ফেরার পর সম্পূর্ণ অন্য এক প্রশান্তকে দেখেন বাড়ির লোক। এত দিনের কষ্টার্জিত সমস্ত শংসাপত্র পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করে সে। তারপর থেকেই মানসিক অবসাদে গৃহবন্দি সে। চাকরি না পেয়ে একটু একটু করে নিজের স্বাভাবিক জীবন হারিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে সে।
আরও পড়ুন: টার্গেট ২০২৪, যোগীরাজ্যে একাধিক পার্টি অফিস খুলল তৃণমূল
দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে পায়ে শিকল বাঁধা হয়ে বাড়ির মধ্যে জীবন কাটছে প্রশান্তর। একাধিক বার বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করে সে। ছেলেকে সুস্থ করতে নিজেদের সামান্য জমি বন্ধক দিয়ে টাকা পয়সা জোগাড় করে চিকিৎসা করান পরিবারের লোকজন। কিন্তু তাতে তেমন ফল মেলেনি। টাকা শেষ হয়ে যাওয়ায় একসময় চিকিৎসাতেও ইতি টানতে বাধ্য হয় পরিবার। এরপর থেকেই মানসিক ভারসাম্যহীন প্রশান্ত মাঝে মাঝেই ছুটে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা শুরু করে। নিরুপায় হয়ে তাঁকে বেঁধে রাখত বাড়ির লোক।
আরও পড়ুন: শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রী সাধন পাণ্ডে
বাড়ির ছোটো ছেলের এমন অবস্থা দেখতে দেখতে দুশ্চিন্তায় বছর কয়েক আগে মারা যান প্রশান্তর বাবা। ওই যুবকের দাদা কাজের খোঁজে চলে যায় দূরে। প্রশান্তকে আটকে রাখা একা মা এর পক্ষে সম্ভব নয়। অগত্যা পায়ে শিকল বেঁধে রাখার ব্যবস্থা করেন মা। পেটের দায়ে মাকে অন্যের জমিতে এখন জন মজুরির কাজ করতে হয়। মা কাজে চলে গেলে ত্রিপল দেওয়া একচিলতে কুঁড়ে ঘরে বন্দীদশায় দিন কাটে উচ্চশিক্ষিত প্রশান্তর জীবন।