করোনা এসে লন্ডভন্ড করে দিয়েছে অনেক কিছুই। এই দু’বছরে বারবার ঘুরেফিরে এসেছে লকডাউন আর সংক্রমণ। ঘনিয়ে এসেছে আতঙ্ক ও উৎণ্ঠার কালো মেঘ। প্রত্যেকবারই তাল কেটেছে জীবনের চেনা ছন্দের, তবে পরাজয় স্বীকার করেননি অনেকেই। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেও নেমে পড়েছেন জীবনযুদ্ধে। তবে সব কিছুকেই ছাপিয়ে গেছে প্রিয়জনকে হারানোর দু:খ। অনেকে আবার সংক্রমণের ভয়াবহতা ও প্রিয়জনের মৃত্যুর আকস্মিকতায় জীবনের খেই হারিয়েছেন।কিন্তু জীবনযুদ্ধে যে থামলে চলবে না। এগিয়ে যেতেই হবে। প্রিয় মানুষের স্মৃতিকে পথ চলার পাথেয় করুন, তবে বোঝা হতে দেবেন না। কাছের মানুষের মৃত্যু আমাদের মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত করে দেয়। এই গভীর শোক থেকে নিজেকে বার করে আনাও সহজ নয়। প্রতিনিয়ত ভিড় করে আসে প্রিয় মানুষের সঙ্গে কাটানো সুন্দর মুহূর্তগুলি। কষ্ট আরও বাড়ে। এই পরিস্থিতি থেকে নিজের চেষ্টাতেই একটু –একটু করে বেরিয়ে আসতে হবে আপনাকে। পথ মসৃণ করতে মাথায় রাখুন এই ৬টি বিষয়।
সত্যিটা মেনে নিন
এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতি থেকে আপনি নিজেকে তখনই বার করতে পারবেন, যখন আপনি সত্যিটাকে মেনে নেবেন। যিনি গেছেন তিনি আর ফিরে আসবেন না, এই ধ্রুব সত্যটা নিজেকে বোঝান। কাছের মানুষকে হারানোর সত্যিটা স্বাভাবিক জীবনে ফেরার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
আবেগ প্রকাশ করুন
মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়লে খুব স্বাভাবিক ভাবেই আলগা হয়ে যায় আবেগ। নিজের এই পরিস্থিতি মেনে নিন। জোর করে আবেগ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করবেন না। মনের উপর অযথা চাপ বাড়বে। হতেই পারে প্রিয়জনের মৃত্যুতে আপনার কাঁধে অনেক দায়িত্ব এসে পড়েছে। সেই দায়িত্ব পালন করবেন ঠিকই, কিন্তু অযথা মনের কষ্ট চেপে রেখে আত্মীয়স্বজনের সামনে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করবেন না। রাগ, ক্ষোভ বা কষ্ট যাই হোক না কেন, আবেগগুলির বহিঃপ্রকাশেই নিজেকে স্বাভাবিক করে তুলুন।
কষ্ট কমাতে কথা বলুন
বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়স্বজনের সংস্পর্শে থাকুন। পূর্বের মনোমালিন্য থাকলে, সব ভুলে কাছে ডেকে নিন সবাইকে। আপনার কষ্টের কথা তাঁদের সঙ্গে ভাগ করে নিন। দেখবেন অনেকেই এগিয়ে আসতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পারেননি। অজান্তেই এক অদৃশ্য গণ্ডির মধ্যে নিজেকে আটকে রেখেছিলেন আপনি। প্রয়োজনে মনোবিদের পরামর্শ নিন। এই বিষয়ে কথা বলতে পারলে দেখবেন আপনার মন অনেকটা হালকা হবে ।
পূর্বের দৈনন্দিন জীবনের ফিরে যান
প্রিয় মানুষকে হারানোর আগে আপনার দৈনন্দিন জীবন যেমন ছিল, সেই পুরোনো রুটিনে ফিরে যান। পাশাপাশি মন ভাল করতে পছন্দের কোনও কাজে মনোনিবেশ করুন। ছবি আঁকা হোক, গান করা, নাচ শেখা বা এমন যে কোনও বিষয় আপনার আগ্রহ রয়েছে তা শিখে নিন ।
বাড়ির বাইরে বেরোন
সারাক্ষণ বাড়িতে না-থেকে বাড়ির বাইরেও খোলা আকাশের নীচে, কোনও পার্ক বা মাঠে সময় কাটান। প্রাণভরে খোলা হাওয়ায় নিশ্বাস নিন। দেখবেন একটা ফিল গুড ফ্যাক্টর কাজ করবে। পারলে অল্প কসরত করুন, ঘাম ঝরান। এর ফলে শরীরে এনডরফিন্স ও হ্যাপি হরমোন রিলিজ হয়। শরীরে ফুর্তির সঞ্চার হয়। মন ভাল হয়।
নিজেকে খুশি রাখুন
নিজেকে সবসময় খুশি রাখার চেষ্টা করুন। নেতিবাচক বিষয় বা ব্যক্তিকে এড়িয়ে চলুন। যারা আপনার প্রকৃত বন্ধু তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন। যেটা করলে আপনার মন ভাল হয় সেটাই করুন। যদি ঘুরলে, বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করলে আপনার মন ভাল হয় তাই করুন। নতুন বন্ধু বানান। নিজের যত্ন নিন। শপিংয়ে যান। আপনার চিন্তাভাবনাকে ইতিবাচক করে তুলুন।
দেখবেন আপনার অজান্তেই চেনা ছন্দে ফিরেছে আপনার জীবন ।