ত্বকের রোমকূপের অতিরিক্ত তেল বা ময়লা জমে এর মুখ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর এই জমা জায়গায় ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণের কারণে ব্রণ বা অ্যাকনের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়াও অনেক সময় পেটের সমস্যা এমনকী শরীরে বড় কোনও সমস্যার লক্ষণ হতে পারে ব্রণ। ব্রণ হওয়ার যেমন নানান কারণ আছে, তেমনি কখনও ব্ল্যাকহেডস এবং হোয়াইটহেডস ফুসকুড়ির বিভিন্ন রূপে ব্রণ আসে। সামান্য যত্নেই অনেকটাই সেরে উঠে এগুলি। তবে যখন ব্রণ গুরুতর হয়ে ফোড়া বা ত্বকের গভীরে বাড়তে থাকে তখন সমস্য বেড়ে যায় কয়েকগুণ। এটি ফুলে গিয়ে ত্বকের অংশটা লাল হয়ে যায়। সঙ্গে ব্যথাও বাড়ে।
বাড়িতে এই ধরনের ব্রণ বা পিম্পলের ব্যথা উপশম করতে এবং এর আকার, ফোলাভাব ও লালভাব কমাতে এই পদ্ধতিগুলি যথেষ্ট কার্যকর।
১. ঘাম হলে দিনে অন্তত দু’বার মুখ ধুয়ে নিন। ঘামের ফলে রোমকূপে অতিরিক্ত তেল জমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
২. আঙুলের ডগায় ক্লেনজার নিয়ে আলতো করে মুখে লাগিয়ে নিন। মুখে কাপড় বা স্পঞ্জ দিয়ে ডললে ত্বকের সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
৩. ত্বকে ব্রণর জায়গায় যত্ন নিন। অ্যালোকোহল-যুক্ত প্রসাধনী সামগ্রী ব্যবহার করবেন না। ত্বকের জ্বালা বাড়তে পারে এমন অ্যস্ট্রিনজেন্ট, টোনার ও এক্সফোলিয়েন্ট ব্যবহার করবেন না। এতে ত্বক শুষ্ক ও লাল হয়ে গেলে ব্রণর সমস্যা আরও বেড়ে যায়।
৪. এই সময় স্ক্রাবিং একদমই করবেন না।
৫. পারলে মুখ ঈষদুষ্ণ জল দিয়ে ধুয়ে নিন।
৬. আপনার মাথার ত্বক ও চুল যদি তৈলাক্ত হয় তা হলে প্রতিদিন শ্যাম্পু করুন।
৭. ত্বকের যে অংশে ব্রণর সমস্যা রয়েছে সেখানে বেশি হাত দেবেন না। ব্রণ খুঁটলে বা পুঁজ জমলে টিপে বার করতে যাবেন না । এতে ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়বে। ত্বকের সেরে উঠার প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘায়িত হবে। পাশাপাশি মুখে দাগ পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
৮. ত্বকে ব্রণ হলে যত সম্ভব মুখ থেকে হাত সরিয়ে রাখুন। বার-বার মুখে হাত দিলে জ্বালা যন্ত্রণা আরও বাড়বে।
৯. ব্রণ থাকলে যতটা পারবেন রোদের থেকে দূরে থাকুন। না হলে ত্বকের আরও ক্ষতি হবে। ব্রণ কমানোর জন্যে বিশেষ কোনও ওযুধ বা মলম ব্যবহার করলে ত্বকের সূর্য রশ্মির প্রতিরোধ ক্ষমতা এমনিতেই অনেকটা কমে যায়
১০. তবে এত কিছু মেনেও যদি প্রতিকার না-মেলে তা হলে অবশ্যই চর্ম বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।