আধুনিক জীবনযাপন ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এখন প্রায় সমার্থক হয়ে উঠেছে। প্রভাব পড়ছে জীবনের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই। সহজ ঘরোয়া পদ্ধতির বদলে বাজার থেকে কেনা সামগ্রীর উপর বাড়ছে নির্ভরতা। ওয়ার্ক ফর্ম হোমে জ্ঞান থাকছে না সময়ের। বারোটা বেজে গেছে বায়োলজিক্যাল ক্লকের। দিনের পর দিন অপর্যাপ্ত ঘুম, ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডে বেশি সময় কাটানো বা কাজের ‘অজুহাতে’ সারা দিন ল্যাপটপ বা মুঠোফোন নিয়ে ব্যাস্ত থাকা। এখন এটাই ট্রেন্ডিং। ভাটা পড়েছে শরীরচর্চা, রূপচর্চাতেও। যদিও করোনা সংক্রমণের ভয়ে সুষম আহার ও শারীরিক কসরত নিয়ে ইদানীং মাথা ঘামাচ্ছেন অনেকেই। কিন্তু খেয়াল থাকছে না ছোটবেলার অত্যন্ত জরুরি অভ্যাস মাথা ঠান্ডা রাখতে, মাথায় তেল লাগানোর কথা।
স্বাভাবিক ভাবেই বাড়ছে চুল ঝরে পড়া, চুলের অকালপক্বতা-সহ মাথার ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা। শরীর সুস্থ রাখতে যেমন প্রয়োজন খাদ্যের। তেমনি চুল ও মাথার ত্বক ভাল রাখতে প্রয়োজনীয় নিয়মিত যত্ন ও জরুরি নিউট্রিশনের বা পুষ্টির। এগুলি তেলের মাধ্যমে মাথার ত্বক ও চুলে পৌঁছয়। একনজরে দেখে নিন মাথায় তেল লাগানোর উপকারিতাগুলি ঠিক কী কী-
মাথার ত্বককে সতেজ রাখে তেল
রোদ, ক্ষতিকারক রসায়ন বা কোনও শারীরিক সমস্যার কারণে অনেক সময় মাথার ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ে। তৈরি হয় চুলের নানান সমস্যা। এ ছাড়াও ভাল থাকার জরুরি উপাদানগুলি না-পেয়ে শুষ্ক হয়ে পড়ে চুল। বৃদ্ধি পায় চুল ঝরে পড়া ও অন্যান্য চুলের সমস্যা। প্রতিকারে, সপ্তাহে অন্তত ২-৩ বার মাথায় ভাল করে তেল মালিশ করুন। এবং পরের দিন মাথা ভাল করে ধুয়ে নিন। এর ফলে মাথার ত্বকে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা বজায় থাকবে। সতেজ থাকবে চুল। চুল ঝরে পড়ার সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে ।
চুলের বৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তেল
চুলের স্বাস্থ্য ও দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি, দুটোরই ক্ষেত্রে সমান উপযোগী তেল। ভাল ফল পেতে মাথায় নিয়মিত তেল মালিশ করুন। মাথার ত্বকে তেল মালিশের ফলে রক্ত সঞ্চালন ভাল হয়। পাশাপাশি ভাল স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় পরিপোষক পদার্থ বা নিউট্রিয়েন্টস পায় চুল।
চুলের গোড়া মজবুত করে
শুধু যে মাথার ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখা বা চুল গজাতে বা চুলের দৈর্ঘ্য বাড়াতে সাহায্যই নয়, চুলের গোড়া শক্ত করতে নিয়মিত তেল মালিশের জবাব নেই। এর ফলে জরুরি পুষ্টি পেয়ে চুলের গোড়া মজবুত হয়। এর ফলে দূষণ ও সূর্যের রশ্মির ক্ষতিকারক প্রভাবের প্রতিরোধ করতে পারে আমাদের চুল।
খুশকি কমাতে তেল
চুল পড়ার থেকে খুশকির সমস্যায় ভোগেন অধিকাংশ মানুষ। এই খুশকির কারণেও চুল পড়া বেড়ে যায়। যত্ন না-নিলে সমস্যা আরও বাড়ে মাথায় চুলকানির মতো সমস্যার সৃষ্টি হয়। আর এই খুশকির সমস্যার সহজেই রেহাই মিলতে পারে মাথায় নিয়মিত তেল মালিশ করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শুষ্ক ত্বকের কারণে মাথায় খুশকি হয়। এর ফলে চুলের ভঙ্গুরতা বেড়ে যায়।
চুলের জৌলুস বাড়াতে নিয়মিত তেল
যতরকমই হেয়ার ট্রেন্ড বা স্টাইল বাজারে আসুক না কেন, ঘন কালো লম্বা চুলের প্রতি টান আছে সবারই। তা চুলের দৈর্ঘ্য যাই হোক না কেন, ত্বকের মতোই চুলের স্বাস্থ্য ভাল হলে তা নিঃসন্দেহে দেখতে ভাল লাগে। চুলের ভাল স্বাস্থ্য বজায় রাখতে প্রয়োজন নিয়মিত তেল মালিশ করা। মাথার ত্বক শুষ্ক হোক বা তৈলাক্ত, তেল মালিশ সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ চুলকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগায় তেল।
অকালপক্বতার থেকে রেহাই পেতে তেল
বিশেষজ্ঞদের মতে অনেক কারণেই স্ক্যাল্প বা মাথার ত্বকে পুষ্টি ও ভিটামিনের অভাবে ঘটে। এর ফলে চুল ঝরে পড়ে বা চুল তাড়াতাড়ি পেকে যায়। কথায় আছে প্রতিকারের থেকে প্রতিরোধ ভাল। তাই এই অকালপক্বতা ঠেকাতে সময় থাকতে চুলে তেল মালিশের অভ্যাস করলে লাভ পাবেন।
চাপমুক্ত রাখবে তেল
দিনের ক্লান্তি, কাজের চাপে, আবহাওয়ার তারতম্যে মন খারাপ বা মাথ্য ব্যথার হাত থেকে রেহাই পেতে তেল মালিশের অভাব নেই। যুগ-যুগান্তর ধরে চলে আসার এই অভ্যাস এখনও সমানভাবে কার্যকরী। কারণ তেল মালিশে মাথার ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। এর ভাল প্রভাব পড়ে বিভিন্ন শারীরিক ক্রিয়ার ওপরও। ক্লান্তি দুর হয়। আরাম মেলে।