ইঙ্গিত ছিল আগেই। অবশেষে সেটাই সত্যি হল। রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ হল সের্জিও র্যামসের। সেই ২০০৫ সালে এসেছিলেন রিয়ালে। তার পর টানা ষোল মরসুম বিশ্বের এক নম্বর ক্লাবে খেলার পর আগামী মরসুম থেকে তিনি আর ক্লাবের নন। তাঁর সঙ্গে চুক্তি নবীকরণ করল না রিয়াল। গত মরসুমের কোচ জিনেদিন জিদান আগেই নিজের থেকে ক্লাব ছেড়ে চলে গেছেন। তাঁর জায়গায় রিয়ালের কোচ হয়েছেন কার্লোস আনসোলত্তি। এ বার চলে গেলেন গত সাত বছরের অধিনায়ক সের্জিও র্যামস। রিয়াল ডিফেন্সের স্তম্ভ ছিলেন র্যামস। সামনে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো এবং পিছনে সের্জিও র্যামসকে নিয়েই রিয়ালের প্রচুর ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়া। রোনাল্ডো আগেই চলে গেছেন ক্লাব ছেড়ে। এ বার ক্লাবই রাখল না র্যামসকে।
ষোল বছরের রিয়াল জীবনে র্যামস চার বার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি সহ মোট বাইশটি ট্রফি পেয়েছেন। ২০০২ সালে রিয়াল নবম বার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছিল। তার পর বারো বছর পর আবার তারা র্যামসের নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন হয়। সেটা ছিল ২০১৪ সাল। তার পর ২০১৬ থেকে ২০১৮–টানা তিন বার চ্যাম্পিয়ন হয় তারা। এরই মধ্যে স্পেনের হয়ে ২০১০-এর বিশ্বকাপ এবং ২০১২ সালের ইউরো কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন র্যামস। সত্যি কথা বলতে কী, ফুটবল থেকে সব কিছুই পেয়ে গেছেন তিনি। চোটের জন্য শেষ দিকে বেশ কয়েকটি ম্যাচ খেলতে পারেননি তিনি। এ বছর লা লিগায় খেলেছেন মোটে ১৪টি ম্যাচ। চলতি ইউরো কাপেও স্পেন টিমে তাঁকে রাখেননি কোচ লুই এনরিকে। এ বার রিয়ালও তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করল।
বৃহস্পতিবার রিয়াল মাদ্রিদের কার্যালয়ে তাঁকে বিদায় জানিয়ে রিয়াল প্রেসিডেন্ট ফিয়েরিন্তিনো পেরেজ কৃতজ্ঞচিত্তে রিয়ালের প্রতি র্যামসের অবদানের কথা স্মরণ করেছেন। অশ্রূসজল নয়নে র্যামস সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, ” আবার হয়তো কোনও এক দিন ফিরে আসব। এটাই তো আমার ঘর।” পেরেজ জানিয়েছেন, ২০২১-২২ মরসুমে রিয়ালকে নেতৃত্ব দেবেন মার্সেলো এবং করিম বেঞ্জামা।