কাতার-১ ভারত-০
(আব্দুল আজিজ হাতিম)
সতেরো মিনিটেই লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যেতে হয় রাইট ব্যাক রাহুল বেকেকে। এর পরেও এশিয়া সেরা কাতারের কাছে মাত্র এক গোলে হারল ভারত। তিয়াত্তর মিনিট দশ জনে খেলে কাতারের মতো দলের কাছে হারা মোটেই অগৌরবের নয়। ভারত যে সেটা করতে পারল তার জন্য সব কৃতিত্ব পাবেন ভারতের গোলকিপার গুরপ্রীত সিং সান্ধু। ২০১৯-এর সেপ্টেম্বরে বিশ্ব কাপের কোয়ালিফাইং ম্যাচের প্রথম পর্বে এই কাতারের সঙ্গে গোল শূণ্য ড্র করেছিল ভারত। সে ম্যাচেও ভারতের হয়ে দুর্দান্ত খেলেছিলেন গুরপ্রীত। একটার পর একটা সেভ করেছিলেন। বৃহস্পতিবারও সেই কোয়ালিফাইং ম্যাচের ফিরতি পর্বে গুরপ্রীতের দু্ পা এবং দুই হাতের সামনে বার বার আটকে যেতে হয়েছে কাতারের সব জারিজুরি। শুধু একবার তাঁকে হার মানতে হয়। ২৫ মিনিটে বক্সের মধ্যে জড়ামরি থেকে গোল করে যান আব্দুল আজিজ হাতিম। তবে এর আগে এবং পরে অগুন্তি সেভ করেছেন গুরপ্রীত। না হলে ভারতকে চরম হেনস্থা হতে হত।
২০২২ সালের বিশ্ব কাপের জনয় কোয়ালিফাইং রাউন্ড শুরু হয়েছিল ২০১৯ সালের মাঝামাঝি। কিন্তু কোভিডের জন্য গত দেড় বছর কোনও খেলাই হয়নি। দোহাতে যে ম্যাচটি হল সেটা আসলে ভারতের হোম ম্যাচ। কিন্তু কোভিডের জন্য সেটা বিদেশে গিয়ে খেলতে হল। ভারতের কোচ ইগর স্টিমাক ৪-৪-২ ছকে টিম নামিয়েছিলেন। গুরপ্রীতের সামনে চার ব্যাক ছিলেন রাহুল বেকে, প্রীতম কোটাল, সন্দেশ ঝিঙ্গন এবং শুভাশিস বসু। তাদের সামনে চার মিডফিল্ডার ছিলেন আশিক কুরিয়ান, গ্লেন মার্টিন্স, সুরেশ সিং ও বিপিন সিং। ফরোয়ার্ডে সুনীল ছেত্রীর পাশে মনবীর সিং। শুরুতেই মাঝ মাঠে অবৈধ ট্যাকল করার জন্য হলুদ কার্ড দেখেন রাহুল বেকে। সতেরো মিনিটের মাথায় একটি বল আটকাতে গিয়ে হ্যান্ড বল করে ফেলেন তিনি। চিনের রেফারি সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে লাল কার্ড দেখান। তবে দশ জনে হয়ে গেলেও ভারত কিন্তু ডিফেন্সিভ হয়নি। তারা মাঝে মাঝে চেষ্টা করেছিল আক্রমণে আসার। এ রকমই একটা আক্রমণে বাঁ দিক থেকে থেকে আশিক কুরিয়ানের সেন্টার যদি ধরতে পারতেন মনবীর তা হলে গোলের সুযোগ ছিল। কিন্তু মনবীর বলে পা ছোঁয়াতেই পারেননি।
উল্টো দিকে কাতারের ফুটবল ছিল পাস নির্ভর। নিজেদের মধ্যে পাস খেলতে খেলতে তারা আক্রমণে এসেছে। এবং তার পর দূর থেকে শট নিয়েছে কখনও, কখনও বা পাস খেলতে খেলতেই তারা বক্সে ঢুকে গেছে। এবং সেখান থেকে শট নিয়েছে। খুব কাছ থেকে সে সব শটে গোল হওয়াই উচিত ছিল। কিন্তু গুরপ্রীতের জন্য সেগুলো গোল হয়নি। তাঁর সামনের ডিফেন্ডাররাও চেষ্টা করেছেন ভাল খেলার। বিশেষ করে সন্দেশ ঝিঙ্গন এবং শুভাশিস বসু প্রচুর ট্যাকল করে শেষ মুহূর্তে কাতারিদের আটকেছেন গোল করা থেকে। কিন্তু একবারই যা তাঁরা ব্যর্থ হয়েছেন। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ভারত যেখানে ১০৫, কাতার সেখানে ৫৮। এরকম একটা টিমের বিরুদ্ধে তাদের মাঠে ভারত এক গোলে হারলেও উজ্জ্বল হয়ে উঠলেন গুরপ্রীত এবং স্টিমাকের ছেলেরা।
বিরতির পর ভারতের কোচ স্টিমাক বসিয়ে দেন সুনীল ছেত্রীকে। ভারত অধিনায়ক এদিন গতি মন্থরতায় ভুগছিলেন। তাঁর বদলে নামেন উদান্তা সিং। তবে শক্তপোক্ত কাতার ডিফেন্সের বিরুদ্ধে তিনি বা বাকরাও কিছু করতে পারেননি। বেশির ভাগ সময় বল ঘুরছিল ভারতের পেনাল্টি বক্সের আশেপাশে। কাতার নয় নয় কর আটটি কর্নার পেয়েছে। ভারত একটিও নয়। ভারতের গোলকিপার যেমন অগুন্তি শট বাঁচিয়েছেন, কাতারের গোলকিপারকে সেখানে একটা কঠিন বলও ধরতে হয়নি। এর থেকেই বোঝা যায় কী রকম প্রাধান্য ছিল কাতারের। সেই বিচারে ভারতের এক গোলে হার, তাও ৭৩ মিনিট দশ জনে খেলে, মোটেই অগৌরবের নয়।
এদিন ই গ্রূপের অন্য ম্যাচে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান ১-১ ড্র করেছে। ভারতের পরের ম্যাচ বাংলাদেশের সঙ্গে ৭ জুন।