10.6 C
New York

Aajke | বিজেপি বুঝে গিয়েছে বাংলা হাত থেকে গিয়েছে, তাই কেরল, কেরলম, পশ্চিমবঙ্গ বাংলা হবে না

Must Read

আমাদের প্রধানমন্ত্রী যদি উত্তর দিকে মুখ করে হাঁচেন, তাহলেও জানবেন তার পিছনে একটা নির্বাচনী পাটিগণিতের অংক আছে। বিজেপি দল নির্বাচন ছাড়া আর কোনও বিষয় বোঝে না, যেন তেন প্রকারেন ওনাদের নির্বাচনে জিততে হবে, আর তাই যা করার করতে হবে। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধাতে হলে তাই সই, দাড়ি রেখে রবি ঠাকুরের লুক আনতে হবে, তাই সই, রথযাত্রায় হিন্দু আবেগকে খানিক চলকে দেওয়া যায়, তাহলে রথযাত্রাই হোক। মিজোরামে বিজেপি নেতা ‘বিফ ফেস্টিভ্যাল’ করে, সেটাও ভোটের জন্য। উত্তরপ্রদেশে বিফ রাখা আছে ফ্রিজে, তাই একজনকে জ্যান্ত পিটিয়ে পুড়িয়ে মারা হল, সেটাও ওই নির্বাচনের জন্য। নির্বাচনের জন্যই ১৫ লক্ষ টাকা ব্যাঙ্কে ঢুকে যাবে এমন প্রতিশ্রুতি তেনারাই দিতে পারেন। তিন মিনিট ৩০ সেকেন্ডের এক সংস্কৃত বাংলাতে লেখা গানকে দেশ শুদ্ধু মানুষকে গাইতে বলার ফতোয়া জারি করতে পারে এই সরকার, মাথায় রাখুন সেটাও ওই নির্বাচনের জন্য। হ্যাঁ, থ্রিসিক্সটি ফাইভ ইনটু টোয়েন্টি ফোর তাঁদের এক ভোট মেশিনারি কাজ করে, কাজেই বিজেপি দল, নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ বা বিজেপির অন্য নেতারা ওই নির্বাচন বাদ দিয়ে কিচ্ছু ভাবেন না। আমাদের অনেকেই ভাবেন যে, বিজেপি এক অসম্ভব গোঁড়া হিন্দুত্ববাদী দল, তারা ভুল ভাবেন, হিন্দুত্ববাদ তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা, ভোটে জেতার হাতিয়ার, তারা হিন্দুত্বে বিশ্বাসই করেন না, আর তাই হিন্দু ধর্মের আধুনিক সময়ে সর্বোচ্চ নেতা স্বামী বিবেকানন্দের সঙ্গে তাদের একটা কথাও মেলে না, তারা গোহত্যার বিরোধিতা করেন আর গোমাংস রফতানিকারী কোম্পানির কাছ থেকে অনায়াসে ডোনেশন নিয়ে নেন। সেই বিজেপি ২৬-এর নির্বাচনের আগেই কেরলের নাম ‘কেরলম’ করে দিল, রাজ্য সরকারের আবেদন মেনে। সেটাই বিষয় আজকে, বিজেপি বুঝে গেছে বাংলা হাত থেকে গেছে, তাই কেরল, কেরলম, পশ্চিমবঙ্গ বাংলা হবে না।

নির্বাচনের ঠিক আগে বিজেপি সরকার কেরলের বাম সরকারের আবেদন মেনে নিয়ে রাজ্যের নাম কেরল থেকে কেরলম করে দিলেন। কবে এই আবেদন তাঁরা করেছিলেন? ২০২৩-এ এই আবেদন প্রথমবার অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়, টেকনিক্যাল কিছু সমস্যা ছিল, তা কিছুদিন পরে আবার পাঠানো হয়, সেই আবেদনও পড়েছিল, গতকাল তা অনুমোদন করেছে মোদি সরকার। এতে কী হবে? কেরলের বাম সরকার বলতে পারবে কেরল অস্মিতার কথা, আমাদের জন্যই কেরল তার প্রাচীন নাম ফিরে পেল, ইত্যাদি ইত্যাদি। ওদিকে বিজেপি রাজ্যে প্রচার করবে, আমরাই তো অনুমোদন দিলাম, আজ পর্যন্ত দক্ষিণের ভূমিপূত্রের কোনও মূর্তি দিল্লিতে ছিল না, আমরা ওই সাহেব ল্যুটেনের মূর্তি সরিয়ে রাজগোপালাচারির মূর্তি বসিয়েছি, আমরা মালয়ালম, তেলেগু, কন্নড়, তামিল ভাষাকে ক্লাসিক্যাল, ধ্রুপদি ভাষা হিসেবে ঘোষণা করেছি। মানে খুব পরিস্কার, এই ঘোষণা থেকে কেরলে সিপিএম আর বিজেপি মাইলেজ পাবে, কংগ্রেস পাবে না। বিজেপি কি কেরলে আসবে ক্ষমতায়? না তা আসবে না, কিন্তু তারা প্রাণপণ চেষ্টা করছে যাতে কংগ্রেসের হাতে আরেকটা রাজ্য না চলে যায়। তাই ঠিক নির্বাচন ঘোষণার আগে কেরল হল কেরলম।

আরও পড়ুন: Aajke | কাঁথির মেজোখোকা মাইনকা চিপায় পড়িছে

কিন্তু অন্যদিকে, ২০১৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকার রাজ্যের নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলা’ করার প্রস্তাব দিলেও তা এখনও মোদি সরকারের কাছে পড়েই আছে, না মোদি সরকার তা খারিজও করেনি, অনুমোদনও করেনি। নির্বাচনের আগে করবে? অসম্ভব, এখানে তো বিজেপি ক্ষমতা দখলের লড়াই লড়ছে, কাজেই এখানে বাংলা নামের অনুমোদন দিলে রাজ্য জুড়ে তৃণমূল তাদের জয়ের খবর ছড়িয়ে দেবে। তারচেয়ে কেরলের দাবি মানা ভালো, সিপিএম যদি কোনওভাবে টিকে যায়, অন্তত কংগ্রেসের হাতে তো আরেকটা রাজ্য গেল না। হ্যাঁ, এটাই বিজেপির হিসেব। মজার কথা হল মন্ত্রী মশাই, অশ্বিনী বৈষ্ণব সাংবাদিকদের সামনে এই ঘোষণা করার সময়েই একজন বাংলার প্রসঙ্গও তোলেন, অশ্বিনী বাবু হালকা করে পাশ কাটিয়ে চলে গিয়েছেন। কিন্তু এই বাংলার বাঙালিরা কী করবে? কেন আমাদের নামের আগে পশ্চিম লেগে থাকবে, দেশের পূবে এক রাজ্যের নাম কেন পশ্চিম দিয়ে শুরু হবে? হ্যাঁ, সেই প্রশ্ন এবারের নির্বাচনে তোলা উচিত। আমরা আমাদের দর্শকদের জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, ২০২৩ সালে কেরল সরকারের আবেদনে সাড়া দিয়ে মোদি সরকার কেরলের নাম কেরলম করে দিল, কিন্তু তার পাঁচ বছর আগে ২০১৮-তে করা এই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আবেদনে আমাদের রাজ্যের নাম বাংলা হোক, সেই প্রস্তাবে আজও অনুমোদন দেয়নি। এটা কি বিজেপি–সিপিএম সেটিং? শুনুন মানুষজন কী বলেছেন।

মোদি সরকার আসা ইস্তক বিভিন্ন জায়গার নাম বদলেছেন। এলাহাবাদ হয়ে গিয়েছে প্রয়াগরাজ, ফৈজাবাদ হয়েছে অযোধ্যা, মুঘলসরাই স্টেশনের নাম এখন দীনদয়াল উপাধ্যায় নগর, হোসঙ্গাবাদ হয়েছে নর্মদাপুরম, ঔরঙ্গজেব রোড হয়েছে এপিজে আব্দুল কালাম রোড, রাজপথ হয়েছে কর্তব্য পথ, গুরগাঁও হয়েছে গুরুগ্রাম। বলেছেন আর হয়ে গিয়েছে, কারণ সরকার তাঁদের হাতে। কিন্তু আজ নয় সেই কবে থেকেই বাংলার সরকারের দাবি, আমাদের রাজ্য থেকে অনাবশ্যক ওই ‘পশ্চিম’-টা সরান, না কান দিতে রাজি নন বিজেপির নেতারা।

দেখুন আরও খবর:

Latest News

নির্বাচন পর্যন্ত জুডিশিয়াল অফিসারদের নিরাপত্তা বহাল, হাইকোর্টে সাফ বার্তা প্রধান বিচারপতির

কলকাতা: নির্বাচন (West Bengal Assembly Election 2026) আবহে রাজ্যে বিচারব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High...

More Articles Like This