রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেই ভোটের দিন ঘোষণা, জানালেন জ্ঞানেশ কুমার

0
36

ওয়েব ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের ভোটের (West Bengal Election 2026) প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে কলকাতায় এসেছিল নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) ফুল বেঞ্চ। ছিলেন জাতীয় নির্বাচন কমিশন জ্ঞানেশ কুমার (Chief ElectionCommissioner Gyanesh Kumar)। নির্বাচন কমিশনের SIR প্রক্রিয়ার জটিলতার প্রতিবাদে ধর্নায় বসেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক করছে কমিশনের পূর্ণাঙ্গ (ফুল) বেঞ্চ। উপস্থিত রয়েছেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার, অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার বিবেক জোশী এবং সুখবীর সিংহ সান্ধু। রয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল। পশ্চিমবঙ্গে অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ ভোট হবে বলে জানালেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। আগামী ভোটে একজনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাবে না বলে আশ্বাস দেন তিনি। বাংলায় কবে নির্বাচন তা নিয়ে আগ্রহ সব মহলের।

কমিশনের মতে, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলনামূলক সন্তোষজনক। এই পরিস্থিতিতে জ্ঞানেশের বার্তা, “পশ্চিমবঙ্গে অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ ভোট হবে। কোনও উসকানি বরদাস্ত নয়।” এদিন সাংবাদিক বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গে কত দফায় ভোট হবে, তা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভ্যানিশ কুমার মন্তব্যের প্রেক্ষিতে জ্ঞানেশ কুমার বললেন, কিছু রাজনৈতিক নেতা নানা রকম মন্তব্য করছেন।

কমিশনের তরফে জানানো হল, রাজ্যের প্রতিটি বুথে থাকবে ভোটার সহায়তা কেন্দ্র। জ্ঞানেশ জানালেন, পশ্চিমবঙ্গে ৮০ হাজারেরও বেশি বুথ থাকবে।কোনও বুথে ১২০০-র উপর ভোটার থাকবে না বলে জানালেন জ্ঞানেশ কুমার।বুথ বা ভোটকেন্দ্রের বাইরে নির্দিষ্ট জায়গায় মোবাইল রেখে ভিতরে ঢুকতে পারবেন ভোটাররা। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সব ভোটকেন্দ্রে ওয়েব কাস্টিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে বলে জানালেন জ্ঞানেশ কুমার। কোনও প্রার্থী চাইলে নির্বাচনের পর সাত দিনের মধ্যে ইভিএম পরীক্ষা করানো যাবে বলে জানালেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। ভোটদানে যুব সম্প্রদায়কে উৎসাহিত করতে কলেজে কলেজে প্রচার করবে কমিশন। এদিন জ্ঞানেশ কুমার বলেন, পশ্চিমবঙ্গে ভোট দেওয়ার শতাংশ অনেক বেশি। ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া ও উরুগুয়ের মতো পরিধি পশ্চিমবঙ্গের।

আরও পড়ুন:‘নির্বাচন পর্ব, পশ্চিমবঙ্গের গর্ব’: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার

তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ ভোটের ব্যাপারে সচেতন। আমাদের জাতীয় সঙ্গীত, জনগণমন পশ্চিমবঙ্গেই লিখেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। আমাদের জাতীয় স্তস্ত্র এই মাটিতেই লিখেছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা, সংস্কৃতি শুধু ভারতেই নয়, গোটা বিশ্বে সমাদৃত। আমি পশ্চিমবঙ্গের সব ভোটারদের কাছে আহ্বান করছি, আগামী নির্বাচন হিংসামুক্ত ও চাপমুক্ত পরিবেশে হবে। এই গণতন্ত্রের উত্‍সব বাংলার সব মানুষ সামিল হবেন। নির্বাচন পর্ব, পশ্চিমবঙ্গের গর্ব। ‘হিংসা বরদাস্ত নয়’, ফের কড়া বার্তা দিয়ে জ্ঞানেশ কুমার বলেন, শান্তিপূর্ণ, অবাধ ভোট করাই লক্ষ্য কমিশনের।১০ হাজারের বেশি মহিলা পরিচালিত ভোটকেন্দ্র হবে।ভোট দিতে যাওয়ার সময় আপনি অনায়াসে বাইরে মোবাইল ফোন জমা দিয়ে যেতে পারবেন। সমস্যায় পড়তে হবে না। এছাড়া ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটার ইনফরমেশন স্লিপ দেওয়া হবে। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন নিয়ে বিশেষ স্লোগান নির্বাচন কমিশনের। সাংবাদিক বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমার বললেন, ‘নির্বাচন পর্ব, পশ্চিমবঙ্গের গর্ব’।

জ্ঞানেশ কুমার বললেন, বিহার সহ একাধিক রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া প্রায় শেষ হয়েছে। এসআইআরের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল, বৈধ ভোটাররা যাতে কেউ বাদ না যান। কোনও অবৈধ ভোটার যাতে ভোটার তালিকায় না আসে। সব পোলিং স্টেশনে ১০০ শতাংশ ওয়েবকাস্টিং হবে। মহিলা পরিচালিত ১০ হাজারে বেশি পোলিং স্টেশন হবে। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার সহ ৩ লাখ ৭৮ হাজারের বেশি ৮০ বছরের ঊর্ধ্বে ভোটার রয়েছেন। SIR র একমাত্র উদ্দেশ্য স্বচ্ছ ভোটার তালিকা। কোনও বৈধ ভোটার যাতে ভোটার তালিকা থেকে বাদ না যায়। কোনও অবৈধ ভোটার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হয়।লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি এবং আনম্যাপড ভোটারদের জন্যই মাইক্রোঅবজার্ভার। রাজ্য সরকারের শীর্ষ আধিকারিক এবং রাজনৈতিক দলগুলি কমিশনকে আশ্বস্ত করেছে হিংসামুক্ত নির্বাচন হবে, বাধা মুক্ত নির্বাচন হবে। বিচারাধীন ভোটারদের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগ হয়েছে। তারা বৈধতা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here