কেঁদে ককিয়ে শুনানি শেষ করে নির্বাচনটা মা-মা করে শেষ করতে পারলে জ্ঞানেষ কুমার শুনলাম গঙ্গা স্নান করে কালীঘাট পর্যন্ত দন্ডি কেটে দিল্লিতে ফিরবেন আর তার পরে তেনার নাকি আর এই পদে থাকার তেমন ইচ্ছেও নেই। কে বলল? ওই যে কমলাকান্তের সেই বেড়াল, যে খানিক অহিফেন মানে আফিম খেয়ে তূরিয় অবস্থায় বসে রয়েছে। জোক্স অ্যাপার্ট, নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছে যে, ২৮ তারিখে ফাইনাল ইলেক্টোরাল রোল, মানে ভোটার লিস্ট বেরোবে। ধরেই নেওয়া যায় যে, সেরকম হলে ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ এবারে নির্বাচনের দিন ঘোষণা হয়ে যাবে, আর মার্চে দোল আছে, ঈদ আছে, রাম নবমীও আছে, ছুটি থাকবে, আইন শৃঙ্খলার ব্যাপার আছে, কাজেই এপ্রিলে নির্বাচন দু থেকে তিন দফার বেশি দফায় ভোট করানো সম্ভব হবে না। এমনিতে নির্বাচনের দিন ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দেবে আর সেক্ষেত্রে সুবিধে হল তৃণমূল বা বিজেপির। কারণ তাঁদের খুব বেশি ভাবতে হবে না, শরিক দল নেই, যদি কংগ্রেসের সঙ্গে ওই মামু অঞ্চলে একটা অলিখিত জোট হয়ও তাহলেও তা ঠিক করতে খুব বেশি সময় লাগার কথা নয়, কিন্তু বামেদের প্রচুর সময় লাগতেই পারে। কারণ আইএসএফ চাইছে ৫০টা আসন, ৫০টা দিলে ফব বা আরএসপি কি মেনে নেবে? না নিলে তাদের সঙ্গে বসতে হবে, না মেনে নিলে আইএসএফ বেরিয়ে যেতে পারে, লিবারেশনের নির্দিষ্ট কিছু আসনের দাবী আছে, কিন্তু সিপিএম-এর মধ্যে লিবারেশনকে নিয়ে নতুন করে কিছু ঘোঁট পাকিয়েছে, সেখানেও সমস্যা আছে। হ্যাঁ, যে দল বা জোট কোনওভাবেই তিন কি চারটের বেশি আসনে লড়াই দিতেই পারবে না, সেই জোটের নাম ঘোষণা নিয়ে দেরি হবে বৈকি, অভাবের সংসারেই হিসেব বেশি হয়। আবার কংগ্রেসের সমস্যা বলে তো ফেলেছেন ২৯৪টাতেই লড়ব, কিন্তু ২৯৪ জন ক্যান্ডিডেট পাওয়া কি মুখের কথা, সেও আবার এই বাজারে। পেলে ভালো, না পেলেও ভালো, কারণ লড়াই তো সেই মামু অঞ্চলেই। আজ সেটাই বিষয়, ভোটের বাদ্যি বেজেই গেল, না খুব বেশি হলে দুই কি তিন দফাতেই ভোট নেওয়া হবে।
বঙ্গ বিজেপি আসলে ঠিক কী করলে নবান্ন দখলে আসবে তার ফরমুলাটা খুঁজে মরছে, পাচ্ছে না। ২০২১-এর আগে আট দফায় নির্বাচনের ঘোষণার পরে সে কী উল্লাস দেখেছিলাম বিজেপি কর্মকর্তাদের মুখে, যেন ২৩০টা আসন তো এসেই গিয়েছে বাকিগুলোর মধ্যে ক’টা আসবে তা নিয়েই লড়াই হবে। কেন? কারণ কেন্দ্রীয় রিজার্ভ ফোর্স নাকি এক্কেবারে ম্যান মার্কিং করে খেলবে। তো কী হল? ৭৭-এ ব্রেক কষেছিল গাড়ি। তাই এবারের টিপস, হ্যাঁ, জ্ঞানেন্দ্রবাবু তো এখান থেকেই টিপস পান, তাঁকে টিপস দেওয়া হয়েছে দুই কি তিন দফায় করুন, তৃণমূল বাহিনী নাকি তাঁদের ফোর্স একদিক থেকে অন্যদিকে নামিয়ে আনে, তাই কম দফায় ভোট চাই। সেটা শুনেছেন, অবশ্য এবারে খুব বেশি অপশনও নেই। আর নির্দেশ ইজ নির্দেশ।
আরও পড়ুন: Aajke | এসআইআর-এর বিরুদ্ধে প্রথম লড়াইয়ে জয় মমতার
কিন্তু কিছু কথা তো থেকেই যাচ্ছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি তালিকা বেরোল, যদি দেখা যায় এক বিরাট সংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়েছে, তাহলে তাঁরা কীভাবে, কবে আপিল করবেন? সেই আপিলের শুনানি কতদিনে হবে? নাকি এক বড় সংখ্যক ভোটারদের বাদ রেখেই নির্বাচন হবে? সেটা কোন ধরণের গণতন্ত্র হবে? যদি দেখা যায়, সেই ভোটারদের এক বড় অংশ এর আগে চার, পাঁচ কি ছ’সাতটা নির্বাচনে ভোট দিয়েছে, তাহলে তাহলে সেই মানুষটার ভোটাধিকার কি কেড়ে নেওয়া হবে? ওদিকে সুপ্রিম কোর্টের অবজার্ভেশন হল, সামান্য বানান ভুল, নাম ভুলের জন্য কারও ভোটাধিকার কাড়া যায় না। সব মিলিয়ে ওই ফাইনাল ভোটার তালিকাতে যদি খুব বড় ফারাক থাকে, তাহলে রাজ্য এক অভূতপূর্ব সাংবিধানিক সংকটের দিকেই এগোবে। আমরা আমাদের দর্শকদের জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ফাইনাল ভোটার তালিকা বেরোবে, আবার এটাও খুব স্পষ্ট যে, সাংবিধানিক সংকট এড়াতে হলে মে ৮-এর মধ্যেই নতুন সরকার গঠন করতে হবে। তাহলে এই তালিকা প্রকাশের পরে যদি দেখা যায় এক বিরাট সংখ্যক মানুষের ভোটের অধিকার চলে গিয়েছে তা কি আমরা মেনে নেব? শুনুন মানুষজন কী বলেছেন।
আশা করা যায় নির্বাচন কমিশন আগের সব বারের মতোই নির্বাচক তালিকা ঘোষণার পরে মাস খানেক ধরে আপিল আর শুনানির কাজ চালিয়ে যাবেন, আর বাদ পড়া মানুষেরা বা বৈধ ভোটারেরা তাঁদের অধিকার ফিরে পাবেন। সমস্যা হল, এসব কথা তো সেই প্রতিষ্ঠানকে নিয়েই বলা যায়, যাঁরা যথেষ্ট সংবেদনশীল, কিন্তু সার চলাকালীন নির্বাচন কমিশন বুঝিয়ে দিয়েছে, তাঁদের কাজের পদ্ধতির মধ্যে আর যা খুশি আপনি আশা করতেই পারেন, মানবিকতা আশা করবেন না। হ্যাঁ, সেটাই এক বড় প্রশ্ন হয়ে থেকে গেল। যদিও জানি যে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, একজন বৈধ ভোটারকেও বাদ দেওয়া যাবে না, আপাতত তাঁর ওপরেই ভরসা থাকুক।
দেখুন আরও খবর:
