কত দফায় ভোট চায় বিরোধীরা? জ্ঞানেশ কুমারকে কী কী জানাল বিজেপি-সিপিএম

0
37

কলকাতা: কত দফায় ভোট (West Bengal Assembly Election 2026) চায় বিরোধীরা ? কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকে জরুরি আলোচনা সারল সিপিএম-বিজেপি। ১ দফায় ভোট চাইছে BJP। সর্বোচ্চ ২ দফায় ভোট হলে আপত্তি নেই বামেদের। সোমবার নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং তাঁর টিমের সঙ্গে বৈঠক করে বেরিয়ে এমনটাই জানিয়েছে দুই দলের প্রতিনিধিরা। BJP-র প্রতিনিধি দলে ছিলেন তাপস রায়, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় এবং শিশির বাজোরিয়া। CPIM-এর তরফে দেখা করলেন, মহম্মদ সেলিম ও শমীক লাহিড়ি।কমিশনের বৈঠকে সাতটি দল যোগ দিয়েছিল। তৃণমূল, বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস ছাড়াও ছিল ফরোয়ার্ড ব্লক, আম আদমি পার্টি, ন্যাশনাল পিপল্‌স পার্টি। প্রত্যেক দল শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের নিশ্চয়তা দিয়েছে। বৈঠক শেষে কমিশন জানায়, অনেক দল এসআইআর প্রক্রিয়ার প্রশংসা করেছে এবং কমিশনের প্রতি ভরসা রেখেছে।

SIR সংঘাতের আবহেই রাজ্যে কমিশনের ফুল বেঞ্চ। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে কমিশনের ফুল বেঞ্চ। নিউটাউনের হোটেলে কমিশনের সঙ্গে বৈঠক রাজনৈতিক দলগুলির। তৃণমূল-বিজেপি-কংগ্রেস-সিপিএম সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক। ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে চেয়ে বিজেপি নির্বাচন কমিশনের কাছে ৭-৮ দফায় ভোট করানোর দাবি জানিয়েছিল। তাদের দাবি ছিল, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সুষ্ঠুভাবে ব্যবহার করে স্বচ্ছ এবং শান্তিপূর্ণ ভোট করা৷ কিন্তু, একুশের সেই দাবি থেকে ছাব্বিশে একেবারে ঘুরে গেল বিজেপি৷

বিজেপির প্রতিনিধি দল জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) ফুল বেঞ্চের কাছে তারা বলেছেন ৭-৮ দফায় নয়, রাজ্যে এবারে এক দু’দফায় ভোট করাতে চায়৷ সোমবার কমিশনের ফুল বেঞ্চের সামনে ১৬ দফা দাবি জানিয়ে এল বিজেপির প্রতিনিধি দল৷ তবে সেনসিনিটিভ বুথ চিহ্নিত করা প্রয়োজন৷ এছাড়া, রাজ্য পুলিশ যেভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করছে, তা নিয়েও কমিশনের কাছে অসন্তোষ প্রকাশ করে রাজ্য বিজেপির প্রতিনিধি দল৷ এদিন বৈঠক শেষে বেরিয়ে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে কমিশনের সামনে বিস্তারিত ভাবে কী কী পদক্ষেপ আমরা প্রত্যাশা করছি, তা আমরা বলেছি। ২০২৬-এর নির্বাচন হিংসা মুক্ত, ভয় মুক্ত করার জন্য ১৬ দফা দাবি দিয়েছি৷’’ সুপ্রিম কোর্টে এ বিষয়ে মামলা আছে। আদালত যা সিদ্ধান্ত নেবে, আমরা মানতে বাধ্য। আজ বৈঠকে শুধু ভোট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমাদের অসন্তোষের কথা জানিয়েছি।’

আরও পড়ুন: ধরনামঞ্চের কাছে লিফলেট বিলি করছে বিজেপি! বিস্ফোরক অভিযোগ মমতার

তাপস রায় বলেন, ‘ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোট হয়নি। কমিশনের দায়িত্ব এই রাজ্যে গণতন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করা। মমতা এবং তাঁর দলবল এখনও ভয় দেখাচ্ছে।’ জ্ঞানেশ কুমারের আঙুল কেটে নেওয়ার কথা বলেছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্য়ায়। আমরা হিংসামুক্ত, ভয়মুক্ত, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই।’ পাশাপাশি শিশির বাজোরিয়া বলেন, ‘রাজ্য পুলিশের ভূমিকায় আমরা অসন্তুষ্ট। তা কমিশনকে জানিয়েছি। আমরা চাই, প্রতি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর তৎপরতায় ভোট হোক। ওয়েব ক্যামেরা থাকুক। কোথাও ক্যামেরা খারাপ হয়ে গেলে ভোট বন্ধ রাখতে হবে অথবা পুনর্নির্বাচন করাতে হবে।

BJP-র পাশাপাশি অন্য রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গেও বৈঠক করছেন CEC জ্ঞানেশ কুমার। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বৈঠক করেছেন, প্রদীপ ভট্টাচার্য, আশুতোষ মুখোপাধ্যায়। তাঁরাও ভয় মুক্ত পরিবেশে ভোট করানোর কথা বলেন। বামেদের পক্ষ থেকে উপস্থিত হন মহম্মদ সেলিম এবং শমীক লাহিড়ি। SIR নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তাঁরা। মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘আমরা জানতে চেয়েছি কমিশন একটা ভোটার তালিকা তৈরি করতে গিয়ে মানুষকে শত্রু বানাল কেন? মানুষের বিরুদ্ধে কেন যুদ্ধ ঘোষণা করল? কেন নির্বাচন কমিশন হয়ে গেল নির্যাতন কমিশন? ভোটের আগে তো তাদের নিজেদের সম্মান বজায় রাখতে হবে।’৬০ লক্ষ ভোটারকে বাদ দিয়ে বাংলায় ভোটার লিস্ট হতে পারে না, কমিশনের কাছে এই দাবি জানিয়েছেন বামেরা। অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশেই এই চক্রান্ত হয়েছেন।

তৃণমূলের প্রতিনিধি দলে রয়েছেন, রাজীব কুমার, ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক সেরে বেরোল তৃণমূলের প্রতিনিধিদল। কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তাঁকে চিৎকার করতে নিষেধ করেছেন। তাঁর ব্যবহারে চন্দ্রিমা অসন্তুষ্ট হয়েছেন বলে দাবি। চন্দ্রিমা বলেন, ‘‘আমি মহিলা আমাকে বলছেন ডোন্ট শাউট!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here