একদা ‘বঙ্গ রাজনীতির চাণক্য’ আর নেই! কী বলছে শাসক-বিরোধী?

0
22

ওয়েব ডেস্ক : প্রয়াত প্রবীণ রাজনীতিকবিদ মুকুল রায় (Mukul Roy)। রবিবার গভীর রাতে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। প্রবীণ রাজনৈতিক মৃত্যুতে শোক-জ্ঞাপন করলেন শাসক থেকে বিরোধী, সব দলের নেতারা।

মুকুল রায়ের প্রয়াণ নিয়ে তৃণমূল নেতা জয় প্রকাশ মজুমদার (Jay Prakash Majumdar) বলেছেন, “মুকুল রায়ের সঙ্গে কাজ করার আমার অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমি যখন বিজেপিতে ছিলাম, সেই সময় তিনি বিজেপিতে যোগদান করেন। মুরলীধর সেন লেনে বিজেপির অফিসের পিছনের বিল্ডিংয়ে সেখানে একটি রুমে আমাকে ও মুকুলদাকে একসঙ্গে দু’টো টেবিলে পাশাপাশি বসার ব্যবস্থা করে দেন তৎকালীন সভাপতি দিলীপ ঘোষ। আমরা একসঙ্গে অনেক কাজ করেছি। কিছুটা তো শিখেছি বলতেই হবে তাঁর কাছে। সংগঠন কীভাবে করতে হয়, চালাতে হয়, তা শিখেছি। তিনি দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, কুশলী রাজনীতিক ছিলেন। সকলের নাম মনে রাখতে পারতেন, এটাই তাঁর বড় গুণ। তিনি বাংলার সব প্রান্তের লোককে চিনতেন। আজকে চলে গিয়েছেন, অনেক কথা মনে পড়ছে। কিন্তু তিনি সুস্থ ছিলেন না। অনেক কষ্ট পাচ্ছিলেন। আমি তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি। তিনি যেন পরলোকে ভালো থাকেন।”

আরও খবর : প্রয়াত ‘বঙ্গ রাজনীতির চাণক্য’ মুকুল রায়

এ নিয়ে বিজেপি নেতা সজল ঘোষ (Sajal Ghosh) বলেছেন, “মুকুলদার চলে যাওয়া রাজনীতির অপরিসীম ক্ষতি। কিন্তু, মুকুলদা চলে যাওয়া মানে, আসলে মুকুলদা তো আগেই চলে গিয়েছেন। আজ তিনি নশ্বর দেহ ত্যাগ করেছেন। তিনি অনেক কষ্ট পাচ্ছিলেন। ইশ্বর তাঁকে কষ্ট থেকে মুক্তি দিলেন। সিপিএমকে সরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতায় আনার পিছনে মুকুল রায়ের একটি বড় অবদান ছিল। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তাঁর বিরুদ্ধে যা ছিল, তা সত্য বা মিথ্যা হতে পারে। কিন্তু আজ সে বিতর্কে গিয়ে লাভ নেই। কিন্তু, মুকুল রায় না তাকলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে পারতেন কি না সেটা একটি সন্দেহের বিষয়। তবে মুকুল রায় কষ্ট থেকে মুক্তি পলেন। ইশ্বর তাঁর আত্মাকে শন্তি দিক। পরিবারকে সহানুভূতি জানায়। যাতে পরিবার এই যন্ত্রনা কাটিয়ে উঠতে পারে।”

সিপিএম নেতা তথা আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য (Bikash Ranjan Bhattacharya) বলেছেন, “মুকুল রায় মারা গিয়েছেন, এটি ব্যক্তিগতভাবে দুঃখের সংবাদ। ব্যাক্তি মানুষ হিসেবে যোগাযোগ হয়েছে কথা বার্তা হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক মুকুল রায়ের মৃত্যু আগেই হয়ে গিয়েছে। সে জন্য রাজনীতিতে খুব একটা কোনওরকম প্রভাব পড়বে বলে মনে হয় না।” তিনি আরও বলেছেন, মুকুল রায় ভদ্র মানুষ ছিলেন। তিনি বিভিন্ন সময় আইনি পরামর্শ নিতে আমার কাছে এসেছেন। তিনি ব্যক্তি মানুষ হিসেবে ভালো বন্ধু হতে পারতেন। কিন্তু রাজনৈতিক মতাদর্শ দিক থেকে তিনি যে পথে গিয়েছে সেটা তাঁর পছন্দ। কিন্তু, বহুদিন ধরে তিনি রাজনীতির জগত থেকে তিনি বিচ্ছিন্ন ছিলেন। তাঁকে আমি শ্রদ্ধা জানাই।

এ নিয়ে দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) বলেছেন, “পশ্চিমবঙ্গে রাজনীতিতে মুকুল রায়ের অবদান রয়েছে। তৃণমূলকে দাঁড় করানোর জন্য তাঁর বিরাট বড় যোগদান আছে। বিজেপিতেও কাজ করেছেন তিনি। বড় রাজনীতিবিদ চলে গেলেন। তিনি অনেকদিন ধরে কষ্ট পেয়েছেন। তিনি অনেকদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি”

দেখুন অন্য খবর :

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here