কলকাতা: সিঙ্গুরে বিনিয়োগ (Singur Industry) ইঙ্গিত দিয়ে বাংলায় টাটাকে (Tata Industry) ফিরিয়ে আনার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, “সিঙ্গুরে যেখানে টাটা কারখানা করতে চেয়েছিল সেখানকার মাটির প্রকৃতির পরিবর্তন হয়েছে। মিশে রয়েছে রড, সিমেন্ট।আমার কাছে বহু প্রকল্প এসেছে। আমি প্রস্তাবগুলো খতিয়ে দেখার জন্য শিল্পসচিবের নেতৃত্বে টিম বানিয়ে দিয়েছি।”
রাজ্যে শিল্প আনা প্রসঙ্গে বাংলার বাম সরকারকে খোঁচা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।তিনি বলেন, ‘আগামিদিনে শিল্প গড়তে রাজ্যে জমি বাধা হবে না। বহু শিল্প প্রকল্পের কথা ইতিমধ্যেই হয়ে আছে। এ বার আত্মনির্ভর হবে পশ্চিমবঙ্গে।টাটাকে রাজ্যে ফিরিয়ে আনব। সিঙ্গুরের জমি নষ্ট হয়েছে আগের সরকারের আমলে। বিগত সরকার শুধু জমি অধিগ্রহণ করেছে কোনও কাজ হয়নি। নন্দীগ্রামের মতো গুলি না চালিয়েও শিল্প আনা যায়। এ বার সে ভাবে শিল্প আসবে বাংলায়। রাজ্যে কেউ জমি নিয়ে রেখে দিয়েছেন কি না তা দেখা হবে।’রাজ্যে শিল্প ও কর্মসংস্থান নিয়ে নতুন সরকারের রূপরেখা স্পষ্ট করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ এবার কর্মসংস্থানমুখী ও শিল্পবান্ধব হবে। ১৯৮৪ সালের জমি অধিগ্রহণ আইন মেনেই সরকার জমি কিনছে।পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বেকারত্ব থেকে মুক্তি চান। নন্দীগ্রামের মতো গুলি না চালিয়েও যে শিল্প আনা যায়, নতুন সরকার সেটাই প্রমাণ করে দেখাবে।”
আরও পড়ুন:‘দল থেকে বহিষ্কৃত ব্যক্তি কীভাবে বিরোধী দলনেতা?’ হাইকোর্টে সওয়াল কল্যাণের
তিনি বলেন, “এবার পাঁচবারের অভিজ্ঞ বিধায়ক তাপস রায় শিল্পমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন। আগের সরকারের মতো আমরা কোনো মিথ্যাচার বা ‘ফটো সেশন’ করতে চাই না। ইতিমধ্যেই বহু বড় শিল্প প্রস্তাব আমাদের কাছে এসেছে। সেগুলি খতিয়ে দেখার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের টিম গঠন করা হয়েছে, যারা প্রাথমিক ঝাড়াই-বাছাইয়ের কাজ করছে। বড়, মাঝারি ও ছোট, এই তিন স্তরের শিল্পের মেলবন্ধন ঘটানো হবে পশ্চিমবঙ্গে।”তিনি জানান, কাঁচরাপাড়া ও খড়্গপুরে রেলের একাধিক ওয়ার্কশপ রয়েছে। সেখানে নতুন কারখানা বা কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার জন্য তিনি রেলমন্ত্রীর কাছে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আগামী ২২ তারিখ বিধানসভায় রাজ্য বাজেট পেশ হতে চলেছে। সেই বাজেটে আপনারা স্পষ্ট বুঝতে পারবেন, এই নতুন সরকার কীভাবে সমস্ত অর্থনৈতিক দিক অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে সামলে পশ্চিমবঙ্গকে এক নতুন উন্নতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।”
