জ্ঞানেশ কুমারকে এখনই সাসপেন্ড নয়, এক সপ্তাহের মধ্যে জবাব চাইল সুপ্রিম কোর্ট

Must Read

ওয়েব ডেস্ক : প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar) আপাতত সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিল না সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। বরং এসআইআর বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন সংক্রান্ত একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার, ও দুই কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশীর কাছেও জবাব তলব করা হয়েছে। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই মামলার শুনানি করে। আদালত জানিয়েছে, জ্ঞানেশ কুমার একতরফাভাবে একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে আগে নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্য জানা প্রয়োজন। এক সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

মামলাটি দায়ের করেন পাটনার বাসিন্দা রাকেশ কুমার সিং। তাঁর অভিযোগ, বহু সদস্যের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) যে যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো রয়েছে, তা অনুসরণ না করেই কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সাসপেন্ড করার আবেদনও জানানো হয়েছিল।

আরও খবর :  ৫২ দেশের পর আরও ২০ দেশে ডিফেন্স উইং, রাষ্ট্রপুঞ্জের স্থায়ী আসনই কি লক্ষ্য ভারতের?

এই মামলার সূত্রপাত ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, SIR সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ নিয়ে গত প্রায় ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, কয়েকটি সিদ্ধান্ত তাঁদের জ্ঞান বা সুপারিশ ছাড়াই জারি করা হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগের ব্যাখ্যা দিয়ে জানিয়েছে, বৈঠক বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন মতামত, প্রশ্ন এবং পরামর্শ দেওয়া স্বাভাবিক বিষয়। কমিশনের দাবি, SIR-এর সময়সূচি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছিল।

শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট করেন, নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) সিদ্ধান্ত আইন অনুযায়ী সর্বসম্মত হওয়া উচিত। সর্বসম্মতি না থাকলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিধান রয়েছে। আদালত আপাতত ধরে নিচ্ছে, কমিশনের সিদ্ধান্ত সেই নিয়ম মেনেই নেওয়া হয়েছে। তবে পরবর্তী পর্যায়ে কমিশনের নথিপত্র খতিয়ে দেখে যদি দেখা যায়, কোনও সিদ্ধান্ত প্রয়োজনীয় ঐকমত্য বা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছাড়াই নেওয়া হয়েছিল, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা বা বাতিল করার পথে আদালত যেতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে বেঞ্চ।

বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীও বলেন, নথিতে যদি কোনও সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত না হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে আদালত সেই সিদ্ধান্তকে আইনবহির্ভূত ঘোষণা করে তার কার্যকারিতা রুখতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য না শুনে সমস্ত সিদ্ধান্তকেই একতরফা বলে ধরে নেওয়া যায় কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

SIR সংক্রান্ত ফর্ম নিয়েও শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি। পরিবর্তিত ফর্ম ৬ সুপ্রিম কোর্ট অনুমোদন করেনি বলে স্পষ্ট করে তিনি জানতে চান, তাহলে ওই ফর্মে পরিবর্তন কে এবং কীভাবে করল। সে বিষয়ে জবাব তলব করা হয়েছে জ্ঞানেশ কুমার ও বাকি ২ দুই নির্বাচন কমিশনারকে।

Latest News

ভোটের ২৪ ঘণ্টা আগে নন্দীগ্রামের আইসি বদল, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে দায়িত্বে দেবাশিস সরকার

ওয়েব ডেস্ক : ভোটের ঠিক এক দিন আগে নন্দীগ্রাম (Nandigram) থানার আইসি বদল করল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। সোমবার...

More Articles Like This