‘মাছি মারতে হাতুড়ি নয়’, দিল্লিতে পরিবহণে লাগাম টানা নিয়ে প্রশাসনকে ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের

Must Read

ওয়েব ডেস্ক : প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে নিরাপত্তার কড়াকড়ি, আর তার জেরে বিপাকে সাধারণ মানুষ। দিল্লিতে (Delhi) ককরোচ জনতা পার্টির কর্মসূচির আগে মেট্রো স্টেশন বন্ধ, ট্রেন চলাচলে বিধিনিষেধ এবং একাধিক রাস্তায় ব্যারিকেড বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে এবার প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা থাকলেই শহরের স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যবস্থা পুরোপুরি স্তব্ধ করে দেওয়া যায় না। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে সাধারণ নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা যাতে বিপর্যস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে প্রশাসনকে।

প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লির (Delhi) ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন রেল স্টেশনে ট্রেন চলাচলেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। যন্তর মন্তর এলাকায় জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে দিল্লি পুলিশ। এই পদক্ষেপের ফলে কর্মস্থলে যাওয়া, জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়তে পারেন বলে আদালতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। পরিবহণ ব্যবস্থায় এমন কড়াকড়ির বিরোধিতা করে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি। বিরোধী সাংসদ কপিল সিবলও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে গণপরিবহণ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

আরও খবর : নাম বদল জেওয়ার বিমানবন্দরের! নতুন নাম ‘নরেন্দ্র মোদি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’, ঘোষণা যোগী আদিত্যনাথের

শুনানিতে প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, সরকার চাইলে প্রতিবাদ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে। নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু এলাকায় নিয়ন্ত্রণও জারি করা যেতে পারে। কিন্তু তার জন্য সমস্ত পরিবহণ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া যুক্তিযুক্ত নয়। আদালতের বক্তব্য, দিল্লির বহু বাসিন্দার নিজস্ব গাড়ি নেই। মেট্রো ও রেলের উপর নির্ভর করেই তাঁদের প্রতিদিন কর্মস্থলে পৌঁছতে হয়। তাই নিরাপত্তার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের যাতায়াতের বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। রাস্তা বন্ধ করা হলে বিকল্প পথের ব্যবস্থা রাখতে হবে বলেও প্রশাসনকে বার্তা দেয় বেঞ্চ। প্রধান বিচারপতির কথায়, “একটা মাছি মারতে হাতুড়ি ব্যবহার করা যায় না।”

কেন্দ্রের হয়ে আদালতে উপস্থিত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, মেট্রো ও রেল পরিষেবা চালুর বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন তিনি। তবে শনিবার পরিস্থিতি কী রূপ নেবে, তা আগাম বলা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি। এর পর আদালত স্পষ্ট করে দেয়, সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা এবং নিয়ন্ত্রিতভাবে পরিষেবা চালু রাখার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। নিরাপত্তার প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হলেও সাধারণ মানুষের অসুবিধা কমানোর চেষ্টা করতে হবে। সংবেদনশীল এলাকায় কোথায় যান চলাচলে বাধা তৈরি হতে পারে, তা জানিয়ে দিল্লি পুলিশকে আগাম ট্র্যাফিক পরামর্শিকা প্রকাশ করার কথাও বলা হয়েছে।

Latest News

আগামী বছরই কি ছাত্রভোট? কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচন নিয়ে বড় ইঙ্গিত শুভেন্দুর

ওয়েব ডেস্ক : রাজ্যের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছাত্র সংসদ নির্বাচন। এবার সেই ভোট ফেরানোর বিষয়ে বড়...

More Articles Like This